শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৮:৩৩ অপরাহ্ন

কটিয়াদীতে ৪’শ বছরের ঐতিহ্যবাহী কুড়িখাই মেলা শুরু

কটিয়াদি প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে শুরু হয়েছে চারশ বছরের ঐতিহ্যবাহী কুড়িখাই মেলা। এরই মধ্যে এলাকায় চলছে ঈদের আমেজ। শাহ শামসুদ্দিন বুখারির (রহঃ) মাজারের ওরসকে ঘিরে করা হয় এ আয়োজন। ধর্মীয় উৎসব হলেও এতে অংশ নেয় সর্বস্তরের মানুষ। মেলার অন্যতম আকর্ষণ হলো মাছের হাট। মাছ ছাড়াও সাতদিন জুড়ে বেচাকেনা হয় কাঠের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী। সবমিলিয়ে কয়েক কোটি টাকার বাণিজ্য হয় এ মেলায়। তবে মেলার বিশেষ আকর্ষণ হচ্ছে, শেষ দুদিনের বউ মেলা। ওই দু’দিন এলাকার নারীরা মেলায় গিয়ে কেনাকাটা ও আমোদপ্রমোদ করে। সবকিছুতে থাকবে নারীদের প্রাধান্য। মেলাকে ঘিরে প্রতিটি বাড়ি বাড়ি শুরু হয়েছে পিঠা উৎসব। গ্রামের জামাইদের দেয়া হচ্ছে দাওয়াত। করা হচ্ছে আদর-আপ্যায়ন। সেই সঙ্গে নাইওর আসছে গ্রামের মেয়েরাও। সোমবার থেকে শুরু হয়েছে এ মেলা। সাত দিনের মেলার প্রথমদিন থেকেই নেমেছে মানুষের ঢল।
জানা গেছে, কটিয়াদী নয় জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসছে মেলায়। মেলা ও ওরস ঘিরে এমন বিচিত্র মেলা ও উৎসব সাধারণত দেখা যায়না। তবে মেলার মাছের হাটে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বড় বড় মাছ উঠে। এসব মাছ চড়া দামে বিক্রিও হচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, মেলার বোয়াল মাছ খেলে এ বছরের জন্য বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। তাই বোয়াল মাছের দিকে সাধারণ মানুষের চোখ থাকে বেশি। তবে শুধু বোয়াল নয়, সব ধরনের বড় মাছই মেলাতে পাওয়া যায়। মূলত দাওয়াতি জামাইরাই এসব মাছের মূলক্রেতা। তারা শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে খুশি করতে বড়মাছ কিনেন। কুড়িখাই গ্রামের এক থেকে দেড় কিলোমিটার এলাকায় মেলা উপলক্ষে বিভিন্ন দোকানপাট বসেছে। বিশেষ করে কাঠের আসবাবপত্র, শিশুদের খেলনা, দৈনন্দিন পণ্যসামগ্রী, মেয়েদের সাজগোছের জিনিস থেকে শুরু করে মুড়ি, মিষ্টি, খৈসহ এমন কিছু নেই যা মেলায় উঠেনি। এসবই দরদাম করে কিনে নিয়ে যাচ্ছে ক্রেতারা। মেলাতে শিশুদের জন্যও রাখা হয়েছে পুতুলনাচ, সার্কাস, মোটরসাইকেল রেস নাগরদোলাসহ আরো বেশকিছু আয়োজন। এসব দেখে শিশুদের পাশাপাশি বড়রাও আনন্দ পাচ্ছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এ মেলা।

কথিত রয়েছে, শাহ শামসুদ্দিন বুখারি (রহঃ) তিনজন সঙ্গী নিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উজেলার মুমুরদিয়া ইউনিয়নের কুড়িখাই এলাকায় ইসলামধর্ম প্রচার শুরু করেন। তিনিই এ অঞ্চলে ইসলাম ধর্মের প্রথম প্রচারক। তার মৃত্যুর পর ভক্তরা মাজারকে ঘিরেই কুড়িখাই মেলার প্রবর্তন করেন।
মেলা কমিটির সদস্য শাহ তরিকুল ইসলাম তপু জানান, মাজার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান। মেলার দোকান বরাদ্দ থেকে যে আয় হয় তা ব্যয় করা হয়ে থাকে মাজার ও স্থানীয় মসজিদের উন্নয়ন কাজে।
কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম. এ জলিল জানান, মেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
কুড়িখাই মেলা কমিটির সভাপতি উপজেলা নিবার্হী অফিসার মোছা. আকতারুন নেছা জানান, প্রায় চারশ বছর ধরে কুড়িখাই মেলাটি হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ মেলা এখন সর্বজনীন উৎসব ও ঐতিহ্যে রূপ নিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: