শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৯:৪০ অপরাহ্ন

ফেনীতে ২ হাজার ১০৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ

ফেনী প্রতিনিধি :
ফেনীতে গতবারের তুলনায় এবার প্রায় ৭০০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ বেড়েছে। জেলায় চলতি মৌসুমেই শুধু ২ হাজার ১০৫ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। এতে প্রায় ২ হাজার ৭৩৭ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

যেখানে গত বছর জেলায় সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৪৫০ হেক্টর।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলমান অর্থবছরে জেলার সদর উপজেলায় সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ৯০০ হেক্টর ছাড়িয়ে এই উপজেলার ১ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। যেখানে গত বছর ৮৯০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছিল।

একইভাবে ছাগলনাইয়া উপজেলায় এ বছর সরিষার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১০ হেক্টর জমিতে। আর আবাদ হয়েছে প্রায় ১৩০ হেক্টর জমিতে। যার মধ্যে গত বছর মাত্র ৯০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছিল।

অপরদিকে ফুলগাজী উপজেলায় এবার সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২০ হেক্টর। তবে এই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে জেলার এই উপজেলায় প্রায় ১৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। যেখানে গত বছর সরিষা আবাদ হয়েছিল মাত্র ৬২ হেক্টর জমিতে।

এ দিকে, চলমান অর্থবছরে পরশুরাম উপজেলায় সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২০ হেক্টর জমিতে। যেখানে এই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে সরিষার আবাদ হয়েছে প্রায় ১৭৫ হেক্টর জমিতে। আর এই উপজেলায় গত বছর সরিষার আবাদ হয়েছিল মাত্র ৭৫ হেক্টর জমিতে।

পাশাপাশি দাগনভূঁইয়া উপজেলায় এবার সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৫ হেক্টর। তবে এই উপজেলায় চলমান অর্থবছরে সরিষার আবাদ হয়েছে প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে। আর গত বছর প্রায় ২০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছিল।

এছাড়া সোনাগাজী উপজেলায় এবার সরিষার লক্ষ্যমাত্রা ৩৫৫ হেক্টর নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ৩৫০ হেক্টর জমিতে। যেখানে গত বছর প্রায় ২৮০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছিল।

ইতোমধ্যে জেলার মোট ১৮০টি জমিতে প্রণোদনার জন্য প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৬ উপজেলায় ১ হাজার ৬৮০ জন কৃষককে ইউরিয়া সার ও বীজ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।

পাঁচগাছিয়া ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রণব চন্দ্র মজুমদার জানান, সদর উপজেলার মধ্যে পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের তিনটি মৌবক্স স্থাপন করা হয়েছে। এতে কৃষকরা সরিষা চাষে আরও উৎসাহিত হবেন। একই সঙ্গে তারা আর্থিকভাবেও লাভবান হবেন।

অপরদিকে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আমানুল ইসলাম বলেন, ‘পতিত জমিগুলোতে সরিষা চাষ করে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসেন খান বলেন, ‘আমন ও বোরো ধানের মাঝামাঝি সময়ের দুই মাস কৃষকরা সরিষা চাষ করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে। এতে ভোজ্য তেলের চাহিদাও পূরণ হবে। সরিষা চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে সরকার ইতোমধ্যে বিনামূল্যে সার ও বীজ সরবরাহ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: