বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন

সেই স্কুলছাত্রী ‘পুত্র সন্তানের’ মা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় ধর্ষণে শিকার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী পুত্র সন্তানের মা হয়েছে! সুষ্ঠু বিচারের আশায় এবং সন্তানের পিতৃপরিচয়ের দাবিতে সমাজের বিভিন্ন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও লাভ হয়নি কিশোরী। একপর্যায়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন ধর্ষিতার বাবা হাদিউল ইসলাম।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষক ও তার বাবা-মাসহ ৩ জনকে আসামি আদালতে মামলা দায়ের করেন তিনি। এরপর আদালত তদন্ত শেষে বিষয়টি আমলে নিয়ে আসামিদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন থানা পুলিশকে।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) এই আদেশ দেন কিশোরগঞ্জ নারী ও শিশু নিযার্তন দমন আদালতের বিচারক।

মামলার অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩০ নভেম্বর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় স্কুলছাত্রী শিলাকে (ছদ্মনাম) একা পেয়ে ধারাল অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে প্রতিবেশী আরিফ মিয়ার ছেলে সাগর মিয়া (২০)। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেয় ধর্ষক। এরপর ঘটনাটি কাউকে জানায়নি ওই কিশোরী। একপর্যায়ে ঘটনার ৪ মাস পর শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে ওই কিশোরী প্রথমে তার মাকে ঘটনাটি জানায়। পরে ধর্ষক সাগরের বাবা-মায়ের কাছে অভিযোগ করলে তারা সমাধানের আশ্বাস দেয়।

এ দিকে গেল বছরের ৩১ আগস্ট সকালে কিশোরী একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেয়। কিন্তু সাগরের পরিবার বিষয়টি নিয়ে টালবাহানা করলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হয়। এতেও সমাধান হয়নি। পরে কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে গেল বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জ নারী ও শিশু নিয়ার্তন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন।

সাড়ে ৪ মাস বয়সী শিশু সন্তান কোলে নিয়ে কিশোরীর দাবি, সাগর আমার মুখে চেপে ধরে ধর্ষণ করেছে। ফলে আমার পুত্র সন্তান জন্ম নিয়েছে। এই সন্তানের বাবা সাগর। কিন্তু আমি ও আমার পরিবারের লোকজন সমাজে নিরিহ। তাই আমি সুবিচার থেকে বঞ্চিত। আমার সন্তানের পিতৃপরিচয় ও স্ত্রী হিসেবে সাগরের কাছ থেকে স্বামীর স্বীকৃতি চাই।

ধর্ষিতা কিশোরী আরও জানায়, সাগরের পরিবারের লোকজনের প্রভাবশালীদের সঙ্গে সখ্যতা রয়েছে। ফলে প্রভাবশালীদের কারণে থানায় মামলা নেয়নি পুলিশ। এছাড়াও সাগরকে বাচাঁতে তাকে বিদেশ পাঠিয়ে দিয়েছে তার পরিবার।

অন্যদিকে সাগরের মা সামসুন্নাহার বলেন, মেয়েটির অন্যত্র বিয়ে হয়েছিল। তারা সাগরকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে এবং মামলা দিয়ে হয়রানির চেষ্টা করছে।

এ ব্যাপারে আচমিতা ইউপি চেয়ারম্যান মাহাবুবুর রহমান বাচ্চু জানান, মেয়েটি বিয়ে দেওয়ার ৩ মাস পর একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেয়। ফলে বিষয়টিকে মেনে নেয়নি তার স্বামীর পরিবারের লোকজন। তাই মেয়েটিকে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে ধর্ষিতা মেয়েটি তার সন্তানের বাবা সাগর বলে জানায়। এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা বিচার প্রার্থী হলে আমরা উভয়পক্ষকে নিয়ে বসি। এ সময় ধর্ষিতার সন্তান সাগরের বলে জানালেও সাগর অস্বীকার করে। পরে আমরা সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা বলে সন্তানের ডিএনএ টেস্ট করার সিদ্ধান্তের কথায় জানাই। কিন্তু পরে আমাদের সঙ্গে আর কেউ যোগাযোগ করেনি। পরে শুনেছি মেয়েটির বাবা আদালতে মামলা করেছে।

এ বিষয়ে কটিয়াদী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শিকদার মুঠোফোনে জানান, বিষয়টি নিয়ে আচমিতা ইউনিয়ন পরিষদের শালিসে বসলে একপর্যায়ে ধর্ষিতা মেয়েটিকে সাগর ধর্ষণ করেছে বলে জানায়। কিন্তু সাগর প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে সে চুপসে যায়।

কটিয়াদী থানার ওসি এমএ জলিল বলেন, আমি এখানে মাত্র ৩ মাস আগে যোগদান করেছি। তাই ঘটনাটি আমার জানা নেই। তবে, আসামিদের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফাতারি পরোয়ানা জারি করলে তাদের গ্রেফতার করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: