শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২০, ০৯:৩১ পূর্বাহ্ন

পাকুন্দিয়ায় চাষ হচ্ছে সুস্বাদু কাশ্মিরি কুল

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) :
হালকা গোলাপি। সবুজ ও হালকা হলুদের মাঝের অংশজুড়ে লালচে বর্ণ। দেখতে অনেকটা মাঝারি আকৃতির আপেলের মতো। খেতে সুস্বাদু। নাম কাশ্মীরি কুল। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় প্রথমবারের মতো চাষ হয়েছে এ জাতের কুল। উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের খামা গ্রামের আনোয়ারুল ইসলাম রুবেল নামের এক পুলিশ সদস্য শখ করে এ কুলের চাষ করেছেন। কিন্তু শখের এ কাশ্মীরি কুল চাষে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

এ কুলের রং যে কাউকে আকৃষ্ট করবে। প্রতিদিন আশপাশসহ অন্যান্য এলাকার উৎসুক জনতা কাশ্মীরি কুল দেখতে ওই বাগানে ভিড় করছেন। আবার অনেকে পরামর্শ নিয়ে চাষও শুরু করছেন।
জানা যায়, এ জাতের কুল কাশ্মীরে চাষাবাদ হয়ে থাকে। বছরখানেক আগে বাংলাদেশের কয়েকটি এলাকায়ও চাষ শুরু হয় কাশ্মীরি জাতের কুল। আকর্ষণীয় বর্ণের, খেতে সুস্বাদু ও আকারে বড় হওয়ায় এর কদর অনেক বেশি। এ জাতের কুল চাষ করে অল্প খরচে অধিক লাভবান হওয়া যায়। তাই অনেক সৌখিন চাষিই বাণিজ্যিকভাবে কাশ্মীরি জাতের কুল চাষে ঝুঁকছেন।
সরজমিন উপজেলার খামা গ্রামের ওই কুল বাগানে গিয়ে দেখা যায়, বাগানের চারপাশসহ উপরের অংশেও মশারি আকৃতির জালে আবৃত করে রাখা হয়েছে। পাখি, ইঁদুর ও গরু-ছাগলের হাত থেকে রক্ষা পেতেই এমন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এজন্য কুল নষ্টের পরিমাণ কমে গেছে। বাগানের কাছে গেলেই চোখে পড়ে লালচে বর্ণের কাশ্মীরি কুলের। ৫ থেকে ৭ ফুট উচ্চতার গাছগুলোর অংশ জুড়েই থোকায় থোকায় কুল আর কুল। প্রতিটি গাছে ব্যাপক পরিমাণে কুল ধরেছে। কুলের আকৃতিও বেশ বড়। এসব কুলের ভারে গাছের ডালগুলো নুয়ে পড়ছে। কুলগুলো পরিপূর্ণ হতে আরো সপ্তাহ তিনেক লাগবে। ২০ শতক জমির বাগানে ১৬০টি গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ কেজি করে কুল পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাজার দরও বেশ ভালো। প্রতি কেজি কাশ্মীরি কুল ১০০ থেকে ১২০ টাকা পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে। ওই বাগানের মালিক আনোয়ারুল ইসলাম রুবেল জানান, তিনি পুলিশে চাকরি করেন। বর্তমানে ঢাকা স্পেশাল ব্র্যাঞ্চে কর্মরত। শখের বশে তার বন্ধু একই এলাকার আংগিয়াদি ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হামিমুল হক সোহাগের পরামর্শে ২০ শতক জমিতে কাশ্মীরি কুলের বাগান করেছেন। পাবনা এলাকা থেকে তিনি ১৬০টি গাছের চারা এনে রোপণ করেছিলেন। প্রথম বছরেই গাছে কুল ধরেছে। এতে সব মিলিয়ে তার খরচ হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। ইতিমধ্যে অনেক পাইকার আগাম কিনে নিতে যোগাযোগ করছেন। তাছাড়া প্রতিদিন উৎসুক লোকজন বাগান দেখতে আসছেন। অনেকে আবার পরামর্শ ও চাষাবাদ পদ্ধতি জেনে নিয়ে চাষও শুরু করেছেন।
শখ থেকে বাগান করলেও এখন তা বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে। এতে তিনি বেশ লাভবান হবেন বলে জানান। আংগিয়াদী ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ হামিমুল হক সোহাগ জানান, সব সময় কৃষকদের কাছে নতুন কিছু বা উচ্চমূল্যের ফসল পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা থাকে। যার মাধ্যমে কৃষক লাভবান হতে পারেন। এরই ধারাবাহিকতায় উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে কাশ্মীর কুলের চাষ এই খামা গ্রামে শুরু করা হয়। যা খুব দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। লাগানোর প্রথম বছরেই ফল পাওয়া যায়। যার কারণে কৃষকেরা কুল চাষে আরো বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছেন। আগামীতে এ এলাকায় ব্যাপক পরিসরে কাশ্মীরি কুল চাষ হবে বলেও তিনি জানান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল হাসান আলামিন বলেন, কাশ্মীরি কুল দেখতে সুন্দর। যে কেউ এ জাতের কুলের রং দেখে আকৃষ্ট হবে। খেতেও সুস্বাদু। অন্য জাতের কুলের চেয়ে এ জাতের কুলে লাভ বেশি। প্রথমবারের মতো এ উপজেলায় এ জাতের কুলের বাগান হয়েছে। যা অন্য কৃষকদের আকৃষ্ট করছে। এ জাতের কুল চাষ করে অল্প খরচে কৃষক অধিক লাভবান হবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: