রবিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২০, ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন

আজ ঐতিহাসিক ১০ জানুয়ারি

তোলপাড় ডেস্ক :
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন আজ ১০ জানুয়ারি। দিনটিকে মুজিব শতবার্ষিকীর ক্ষণগণনার দিন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। ২৯০ দিন পাকিস্তানে কারাজীবন শেষ করে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি মুক্তি পান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেখান থেকে তিনি লন্ডনে যান।
এরপর ১০ জানুয়ারি ব্রিটিশ রাজকীয় কমেট বিমানে দিল্লি হয়ে দুপুর দেড়টার পর তিনি রাজধানীর তেজগাঁওয়ের পুরনো বিমানবন্দরে নামেন।

ওই স্থানেই ক্ষণগণনার অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এটি ১৭ মার্চ ‘জিরো আওয়ারে’ গিয়ে শেষ হবে।

তবে আজ শুক্রবার এবং বিশ্ব ইজতেমার প্রথম দিন হওয়ায় ক্ষণগণনার অনুষ্ঠান শুরু হবে বেলা ৩টার পর। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মুজিববর্ষের লোগো উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বক্তব্য শেষে বিকেল ৫টা নাগাদ ক্ষণগণনার ডিজিটাল ঘড়ির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন তিনি।

একই সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাতীয় সংসদের সামনে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত ক্ষণগণনার ডিজিটাল ঘড়ি চালু হয়ে যাবে। সারা দেশের ২৮টি বড় শহর, ৫৩টি জেলা, টুঙ্গিপাড়া ও মুজিবনগরে স্থাপিত ডিজিটাল ঘড়িও চালু হবে একই সঙ্গে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে (২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে) বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়।

১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তান কারগার থেকে মুক্তি পান তিনি। ১০ জানুয়ারি ফিরে আসেন স্বাধীন বাংলাদেশে। সেদিন পুরনো বিমানবন্দর ছিল লোকে লোকারণ্য। বঙ্গবন্ধুকে দেখতে লাখ লাখ মানুষ হাজির হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দর থেকে নেমে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসভায় যোগ দিয়েছিলেন।
জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনকে স্মরণীয় করতে পুরনো বিমানবন্দরে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন থাকবে।

জানা গেছে, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু পুরনো বিমানবন্দরের যে জায়গায় নেমেছিলেন সেখানে প্রতীকী আবহ তৈরির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ আয়োজন বাস্তবায়নে জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি ও সশস্ত্র বাহিনী নিয়োজিত রয়েছে। আজকে সেখানে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে পারে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রতীকী উপস্থাপনা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারির মতোই একটি এয়ারক্রাফট থেকে নেমে আসবেন বঙ্গবন্ধু। এ সময় তোপধ্বনি করা হবে। সেই সঙ্গে প্রতীকী অভ্যর্থনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে। লেজার লাইটিংয়ের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর ছবিকে জীবন্ত করে তোলার সব চেষ্টা থাকবে। একই সময় ডিজিটাল ঘড়ি ও এলইডি স্ক্রিনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর জীবন-সংগ্রাম তুলে ধরা হবে। থাকবে বিভিন্ন অডিও ভিজ্যুয়াল পরিবেশনা।

১৯৭২ সালের সেদিন বঙ্গবন্ধুকে বরণ করার জন্য তেজগাঁও পুরনো বিমানবন্দর ছিল লোকারণ্য। বর্তমান বাস্তবতায় তত লোককে স্থান দেওয়া সম্ভব হবে না। তাই পুরনো বিমানবন্দরে আজকের অনুষ্ঠানে ২ হাজার আমন্ত্রিত অতিথি ও ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ডিজিটাল স্ক্রিনের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করার কথা রয়েছে ক্ষণগণনা শুরুর এ অনুষ্ঠান।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে ফেরা ছিল ঐতিহাসিক দিন। সেই ঐতিহাসিক দিনকে মুজিববর্ষের ক্ষণগণনার দিন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ফিরে আসার পরিবেশটা আমরা পরিপূর্ণভাবে তুলে ধরতে পারব না। কিন্তু একটা প্রতীকী অনুষ্ঠান করার চেষ্টা করছি।

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে আওয়ামী লীগ। দলটির দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ সকাল সাড়ে ৬টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারা দেশের সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হবে।

এরপর বেলা ৩টায় রয়েছে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন ক্ষণগণনা কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: