শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২০, ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন

কিশোরগঞ্জে সড়ক নির্মাণে অনিয়মে স্থানীয়দের ক্ষোভ

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার দানাপাটুলি ইউনিয়নের অবহেলিত হাজিরপুর এলাকার সড়ক নির্মাণ চলছে অত্যন্ত ধীরগতিতে। এলজিইডি তত্ত্বাবধায়নে প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের আরসিসি ও কার্পেটিংয়ের কাজের ধীরগতি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এছাড়া নদীর পাড়ঘেঁষা এই সড়কের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।

উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জেলার সদর উপজেলার দানাপাটুলী ইউনিয়নের হাজীরপুর থেকে ১১শ মিটার আরসিসি ও ৮শ মিটার কার্পেটিংসহ রাস্তার কাজ পায় মম কন্সট্রাকশন নামে এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০১৯ সালের জুন মাসের প্রথম দিক থেকে কাজ শুরু হয়। কিছুদিন কাজ চলার পর বৃষ্টির অজুহাত দেখিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হঠাৎ করেই কাজ বন্ধ করে দেয়। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে আসে সীমাহীন দুর্ভোগ। রাস্তায় ফেলা মাটি বৃষ্টিতে আস্ত আস্তে ভেঙে গিয়ে নদীতে পড়তে থাকে।

এ দিকে, প্রকল্পের মেয়াদ চলে যায় ২০১৯ সালের বছরের নভেম্বর মাস পর্যন্ত। কিন্তু তখন কাজের ১০ ভাগও শেষ হয়নি। পরে চলতি ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২০ এপ্রিল পর্যন্ত করে আবারও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাস্তার কাজ শুরু করে। তবে কাজের এই ধীরগতি দেখে এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাওরের বোরো জমি থেকে অনুপযোগী মাটি এনে শুধু রাস্তার পাশের নদীর পাড়ই ভরাট করা হচ্ছে। মাটি না বসিয়েই কার্পেটিংয়ের কাজের প্রস্তুতি নিচ্ছে ঠিকাদারের লোকজন। যা কিছু দিন গেলেই এসব মাটি ধসে নদীতে চলে যাবে। তাতে সরকারের দুই কোটি টাকা পানিতে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। এছাড়াও আরসিসি কাজেও ব্যাপক অনিয়ম দেখা গেছে। যেভাবে হওয়ার কথা তা সেভাবে করা হয়নি।

ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে এলাকাবাসী জানান, সড়কে যে গতিতে কাজ চলছে, তা মনে হয় আগামী বর্ষাকালেও সে হবে না। আবার দুর্ভোগে পড়বে এলাকাবাসী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, অবহেলিত এলাকায় এ রাস্তাটির জন্য এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট ভোগ করে আসছে। রাস্তাটিতে বিশেষ করে বর্ষাকালে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। এ রাস্তাটি সহজেই তাড়াতাড়ি হওয়ার জন্য আমরা মসজিদসহ আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙে দিয়েছি। রাস্তার কাজে বিভিন্ন অনিয়ম হলেও রাস্তাটি তড়িৎগতিতে হওয়ার স্বার্থে এলাকাবাসী কেউ কোনো অনিয়মের প্রতিবাদ করছেন না। তার পরেও কাজের কোনো গতি নেই। এভাবে থেমে থেমে কাজ করতে থাকলে আগামী বর্ষায়ও এ কাজ শেষ হবে না ক্ষোভে তারা এসব কথা বলেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, এ রাস্তাটি আগে বেশ কয়েক বার বাজেট হলেও তা কেটে অন্য দিকে কাজ করেছেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এবার কাজ শুরু হলেও কাজের কোনো গতিই দেখছি না। আমাদের দাবি এ রাস্তার তৈরিতে বার বার মেয়াদ না বাড়িয়ে এ বছরই যেন মানুষ নতুন রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারে।

অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে মম কন্সট্রাকশনে সত্ত্বাধিকারী আসাদুজ্জামান জীবন বলেন, মাটি ভরাটের কাজ পুরোদমে চলছে। কিছু দিনের মধ্যে রাস্তায় বালু ও বেড়িবাঁধে কাজ শুরু করব। আশা করছি আগামী বছরের এপ্রিলের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারব।

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. জুনায়েদ আরম জানান, আমি রাস্তাটির কাজ কয়েক দিন আগেও পরিদর্শন করে এসেছি। চেষ্টা করছি আগামী বছরের এপ্রিলের মধ্যে কাজ শেষ করার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: