বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২০, ০৯:৫৯ অপরাহ্ন

১৬ ডিসেম্বর ঘিরে কিশোরগঞ্জে পতাকা বিক্রির ধুম

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা আর স্বার্বভৌমত্বের প্রতিক জাতীয় পতাকা সব সময় সকল মানুষের কদর না থাকলেও মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পতাকার ব্যবহার বেড়ে যায় কয়েক গুণ। তাই বিজয়ের মাসের শুরু থেকেই কিশোরগঞ্জে জেলাজুড়ে চলছে পতাকা উৎসব। বিশেষ করে কিশোরগঞ্জের জেলা শহরে ১৬ ডিসেম্বরের আগেই মটরবাইক, গণপরিবহণ, ব্যক্তিগত গাড়ি, রিকশাসহ বাসাবাড়ির ছাদ ও দোকান থেকে শুরু করে অফিসের ডেস্কে শোভা পায় স্বাধীনতার এ প্রতীক। এমনকি এসময় শিশুরাও কপালে, হাতে, গালে পতাকা লাগানোর জন্য কিনতে দেখা যায়।
ডিসেম্বর মাসের শুরুতেই সড়কের মোড়ে মোড়ে, পাড়া-মহল্লায় জমজমাট হয়ে উঠে বিজয় ব্যান্ড, রিবন, স্টিকার, মাথায় বাঁধার বেল্ট, লোগো সম্বলিত ব্রেসলেট, ব্যাচসহ জাতীয় পতাকার বেচাকেনা। বিক্রি হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধকালীন লাল সবুজের মাঝে হলুদ মানচিত্র আঁকা পতাকা এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি সম্বলিত স্টিকার ও ছবি। এসব বিক্রেতারা সারাবছর অন্য পেশায় থাকলেও সিজনাল ব্যবসা হিসেবে মূলত ডিসেম্বর মাসেই পতাকা বিক্রি করে থাকেন। অল্প সময়ে কিছুটা বাড়তি আয়ের সুযোগও নেন অনেকে। কেউ কেউ সিজনাল পেশাদার হিসেবে পতাকা তৈরি ও পাইকারি বিক্রির ব্যবসাও করেন। আবার বিভিন্ন জেলার ফেরীওয়ালারা পতাকা নিয়ে লাঠির মাথায় করে শহরের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত ঘুরে ঘুরে বিক্রি করে।

পতাকার ফেরিওয়ালা জসিম মিয়া আজ রোববার সকালে শহরের গৌরাঙ্গবাজার মোড়ে পতাকা বিক্রয়ের সময় জানান, কিশোরগঞ্জ এলাকায় ফলের ব্যবসা করলেও ডিসেম্বর মাসে বাড়তি আয়ের জন্য পতাকা বিক্রি করে থাকেন। প্রায় চার বছর ধরে পতাকা ফেরি করে বিক্রি করছেন। মার্চ মাসেও পতাকা হাতে নামেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন উৎসবে পতাকা ও অনুসংঙ্গ জিনিস বিক্রি করাটা এখন অনেকটা নেশার মতো হয়ে গেছে। প্রতিদিন গড়ে ১০০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকার মতো লাভ হয়। বেচাকেনা ভালো হলে অর্ধেকের বেশিও লাভ হয়। কোন পতাকার মাপ কত এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা এগুলা বানাই না, তাই মাপটা আমাদের জানা নেই। আমরা ঢাকা চকবাজার থেকে পাইকারি দামে কিন্না আনি আর বেচি। যারা কিনে তারা বুঝেসুজেই কিনে। আমাদের এসব জানারও দরকার হয় না। মাপ দিয়ে কি করবেন? সাইজ দেইক্কা বোজেন না। কোনটা লাগবে।

শহরের কালীবাড়ি মোড়ে যশোর হতে আসা আক্কাস আলী নামে এক ফেরীওয়ালা জানান, প্রতি বছর আমি ঢাকা থেকে বেশী করে বিভিন্ন ধরনের জাতীয় পতাকা, স্টীকার নিয়ে কিশোরগঞ্জে শহরে ডিসেম্বর মাসের শুরুতেই চলে আসি এবং ১৬ ডিসেম্বর পযর্ন্ত থেকে তা বিক্রি করি। ১৫ দিনে এসব বিক্রি করে আমি ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় করে চলে যাই।

ঠিক তেমনি দেখা যায় জেলার ১৩টি উপজেলায় এসময় পতাকা বেচা-কেনার ধুম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: