সোমবার, ২০ জানুয়ারী ২০২০, ০৭:৩৬ অপরাহ্ন

বাংলায়ও রায় লিখুন, বিচারকদের প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক :
মেধা-মনন প্রয়োগ করে দেশ, জনগণ ও সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে বিচারকদের আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় বিচার বিভাগীয় সম্মেলন-২০১৯ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উচ্চ ও নিম্ন আদালতের বিচারকদের

উদ্দেশে এ আহ্বান জানান তিনি। সুপ্রিম কোর্ট আয়োজিত ‘শান্তি ও উন্নয়নের জন্য ন্যায়বিচার’ শীর্ষক দিনব্যাপী এ সম্মেলন গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা এবং সারা দেশের নিম্ন আদালতের বিচারকরা সম্মেলনে যোগ দেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করে বিচারকদের উদ্দেশে বলেন, ‘জনগণ এবং সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে আপনারা আপনাদের মেধা-মনন প্রয়োগের মাধ্যমে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন। আমি চাই না আমার মতো স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে বছরের পর বছর কেউ অপেক্ষা করুক।

বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচারের রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বাধা ছিল। সেই বাধা অতিক্রম করে এই রায় দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হয়েছে। সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদ, নুসরাত হত্যা মামলাÑ এ রকম অনেক রায় খুব দ্রুত দেওয়ার ফলে বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা বিশ্বাস অনেক অনেক বেড়ে গেছে।

রাষ্ট্র পরিচালনায় আইন, বিচার ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ চলবে তাদের নিজস্ব আইন ও নীতি দ্বারাÑ এটা ঠিক, আবার এই তিনটি অঙ্গের মধ্যে একটি সমন্বয় থাকতে হবে যা দেশকে শান্তি ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। যেটি একান্তভাবে মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়া এবং উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য বলে আমি বিশ্বাস করি।

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর সংবিধান লঙ্ঘন করে মার্শাল ল জারি করে যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা নিয়েছিল, তাদের সেই ক্ষমতা গ্রহণকে অবৈধ ঘোষণা করায় উচ্চ আদালত তথা বিচার বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিচার বিভাগের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মহাকাশ জয় করেছি। আমাদের বিচার বিভাগীয় ই-জুডিশিয়ারি কার্যক্রম যাতে চালু হয় সেই পদক্ষেপ আমরা ইতিমধ্যে নিয়েছি। সেটা হলে মামলার জট আরও কমতে সুবিধা হবে।

বিচারকদের ইংরেজির পাশাপাশি বাংলায় রায় লেখার অনুরোধ জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘অনেক সময় আমাদের সাধারণ মানুষ হয়ত ইংরেজি ভালো বোঝেও না, তারা কিন্তু ধোঁকায় পড়ে যায়। রায় ইংরেজিতে লেখা হোক কিন্তু সঙ্গে বাংলায়ও রায় থাকা উচিত।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধানের ৫১ (১) এবং ৫৫ (৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম নিয়ে আদালতে কোনো প্রশ্ন উঠতে পারবে না। তবে কখনো কখনো রাষ্ট্রপতির জুরিসডিকশনের অধীন ইস্যুতে অর্ডার দিতে দেখছি। ’ “মহামান্য রাষ্ট্রপতি ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ তৈরি করেছেন, তিনি (রাষ্ট্রপতি) ‘রুলস অব বিজনেস’ও তৈরি করেছেন। এবং এটি পরিবর্তনের কর্র্তৃত্ব কেবল তারই। ”

সম্মেলনে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বাংলাদেশে একটি আইন বিশ^বিদ্যালয় করার প্রস্তাব করেন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রস্তাবটি খুবই ভালো। এটি একটি নতুন প্রস্তাব। আইনমন্ত্রী প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করে একটা প্রস্তাব নিয়ে এলে আমরা এটি খুব দ্রুত যাতে হয় সে ব্যবস্থা করে দেব।

দেশে আইন-শৃঙ্খলা এবং সুবিচার নিশ্চিতে বিচার বিভাগের উন্নয়নে তার সরকারের নেওয়া গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের বিবরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার পর্যাপ্ত সংখ্যক বিচারক নিয়োগ দিয়েছে এবং দেশব্যাপী আদালত ভবনের সংকট নিরসন এবং বিচারকদের আবাসন নিশ্চিতে পর্যাপ্ত অবকাঠামো স্থাপন করেছে। ’ কুখ্যাত অপরাধীদের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিচারকদের যথাযথ নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারোয়ার, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার মো. আলী আকবর প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: