বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন

৪৫ বছরে ৬০ বিয়ে!

জামালপুর প্রতিনিধি:
বিয়ে করাই যেন তার পেশা। যদিও মূল উদ্দেশ্য ভিন্ন। তাই তো মাত্র ৪৫ বছর বয়সে তিনি বিয়ে করেছেন ৬০টি। দেশের বিভিন্ন জেলায় কখনো ধর্মের সম্পর্কে আত্মীয়তা, কখনো বা ব্যবসা, আবার কোথাও রিপ্রেজেন্টেটিভের চাকরি কিংবা অবিবাহিত বা স্ত্রী মারা গেছে, এমন সব কথা বলে নানা ভুয়া ঠিকানা ব্যবহারের মাধ্যমে এই প্রতারক অসহায় মেয়েদের বিয়ে করে হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অঙ্কের টাকা। অবশেষে নেত্রকোণার পূর্বধলা গ্রামের ৬০তম স্ত্রী মাস্টার্সে অধ্যয়নরত রোজী খানমের মামলার জালে ধরা পড়ল বিয়ের অজুহাতে টাকা হাতানো এই প্রতারক।

শনিবার (৩ নভেম্বর) রাতে নিজ বাড়ি জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গোয়ালের চর ইউনিয়নের সভারচর গ্রাম থেকে তাকে আটক করে ইসলামপুর থানা পুলিশ। আর আটকের পরই বেড়িয়ে আসে আবু বক্কর নামে এই প্রতারকের আসল রূপ।

আটককৃত আবু বক্কর ইসলামপুর উপজেলার সভারচর গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে।

পূর্বধলা থানায় দায়ের করা সর্বশেষ স্ত্রী রোজী বেগমের মামলার সূত্রে জানা গেছে, প্রতারক আবু বক্কর ওরফে বক্কর রোজী বেগমের এক আত্মীয়ের সঙ্গে পূর্ব পরিচিত হওয়ায় ওই এলাকায় প্রায়ই যাতায়াত করত। সেখানে নিজেকে সে ‘ইনসেপ্টা ফার্মাসিস্ট’-এর জেলা এরিয়া ম্যানেজার হিসেবে পরিচয় দিত। এরই ধারাবাহিকতায় অবিবাহিত দাবি করে গত আগস্ট মাসে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নের কুতুবের চর গ্রামের আক্রামের ছেলে শাহিন আলম নামে পরিচয় দিয়ে ভুয়া ঠিকানায় ব্যবহারের মাধ্যমে রোজীকে বিয়ে করে।

সেই থেকে রোজীর বাড়িতেই বসবাস করত প্রতারক বক্কর। এক পর্যায়ে সে রোজীর পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। এতে রোজীর পরিবার অপারগতা প্রকাশ করে। এরপর প্রতারক বক্কর অতি কৌশলে শ্যালককে ওষুধ কোম্পানির চাকরি দেওয়ার কথা বলে শ্বশুরের কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা নিয়ে সটকে পড়ে। এর কয়েকদিন পর থেকেই তাদের সঙ্গে সকল যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় বক্কর।

পরবর্তীকালে স্ত্রী রোজীর পরিবার খোঁজ-খবর নিয়ে জানতে পারে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে বিয়ের নামে রোজীর সঙ্গে প্রতারণা করেছে বক্কর। এরপরই তারা প্রতারক বক্করের নামে পূর্বধলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এ দিকে, প্রতারক আবু বক্কর জানায়, সে ৬০টি বিয়ে করলেও সাত সন্তানের জনক। একমাত্র টাকার লোভেই সে এসব বিয়ে করেছে। টাকা পেলেই ফেলে এসেছে বিবাহিত সকল স্ত্রীদের। পেশায় কখনো ব্যবসা, কোথাও রিপ্রেজেন্টেটিভের চাকরি, কোথাও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আবার কোথাও স্ত্রী মারা গেছে এসব ভুয়া তথ্য দিলেও নিজ উপজেলা ইসলামপুরের ঠিকানা বক্কর কখনোই ব্যবহার করত না। এছাড়া বর্তমানে নিজ বাড়িতে তার প্রথম স্ত্রী সাজেদা বেগমসহ অপর দুই স্ত্রী ও সাত সন্তান রয়েছে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ইসলামপুর থানার ওসি (তদন্ত) আনছার আলী জানান, প্রতারণা করে বক্কর প্রায় ৬০টি বিয়ে করেছে বলে নিজেই স্বীকার করেছে। এলাকায় তাকে ‘চিটার বক্কর’ বলেই সবাই চেনে। তিনি বলেন, পূর্বধলা থানায় সর্বশেষ স্ত্রী রোজী খানমের মামলায় ইসলামপুর থানা পুলিশের সহায়তায় তাকে আটক করে ওই থানায় প্রেরণ করা হয়েছে।

এ দিকে, ইসলামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সুমন মিয়া জানান, ওই প্রতারককে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি এ ধরনের প্রতারকদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: