মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন

কিশোরগঞ্জে ৪২ হাজার ৮৯০ মামলার বিচারক একজন

শহীদুল ইসলাম পলাশ, প্রকাশক ও সম্পাদক,দৈনিক তোলপাড় :
কিশোরগঞ্জ ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলার জট পাহাড়সমান উঁচু হয়েছে। বিচারক ও লোকবলের অভাবে বর্তমানে জেলার ১৩টি উপজেলার সাধারণ মানুষের ভূমি নিয়ে বিভিন্ন সমস্যায় ৪২ হাজার ৮৯০টি মামলা ঝুলে আছে। এগুলোর শুনানি ও রায়ের দিন-তারিখ নিয়ে অন্ধকারে ঘুরছেন বিচারপ্রার্থীরা। এসব মামলা পরিচালনার জন্য এ ট্রাইব্যুনালে বিচারক মাত্র একজন।

কিশোরগঞ্জ ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা যায়, ৪২ হাজার ৮৯০টি মামলা নিয়ে একজনমাত্র বিচারক হিমশিম খাচ্ছেন। আর বিচারপ্রার্থীরা এক-একটি মামলার শুনানির জন্য তারিখ পাচ্ছেন দুই থেকে তিন বছর পরপর। যার ফলে মামলা নিষ্পত্তি তো দূরের কথা, শুনানি নিয়েই তারিখের কোনো কূল-কিনারা পাওয়া যাচ্ছে না। বছরে দুয়েকটি মামলার রায় হলেও এখানে আপিল বিভাগ না থাকায় আপিলেরও কোনো সুযোগ পাচ্ছে না সাধারণ লোকজন। মামলার রায় হলেও আপিলের জন্য ঢাকার হাইকোর্টে দৌড়াতে হচ্ছে আপিলকারীদের। যার ফলে এখানকার বিচারপ্রার্থী জনগণের দুর্ভোগের শেষ নেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিচারপ্রার্থীরা হাতে ব্যাগভর্তি দলিলপত্র নিয়ে ছুটছেন আদালতের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে। এছাড়াও ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের লোকবল বলতে গেলে নেই-ই। একজন পিয়ন ও দুই-তিনজন কর্মচারী দিয়েই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে এ আদালতের বিচারকাজ।
ফলে বর্তমানে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন এখানকার বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা।
বিশেষ করে বিচারপ্রার্থীরা সারা দিন না খেয়ে বসে থাকছেন আদালতের বারান্দার মেঝেতে। জিজ্ঞাসা করলে তারা বলেন, কখন আদালত বসে যায়, কখন আমার মামলার ডাক পড়ে, সেদিকে সবসময় খেয়াল রাখতে হয়। তাই কোর্টের বারান্দায় বসে থাকি সারা দিন।

পাকুন্দিয়া উপজেলার সনমানীয়া গ্রামের আবদুল কুদ্দুসের ছেলে মাসুদ মিয়া মামলার তারিখ জানতে এসে কান্নার সুরে বুকচাপা কষ্ট আর ক্ষোভে বলেন, কবে আসবে মামলার আরেক তারিখ? কবে হবে শুনানি? আর কত বছর পরে হবে মামলার রায়? ছয় বছর আগে বাবার করা মামলা রায় বেঁচে থাকতে দেখে যেতে পারব কি? একই পরিণতি জেলার বাজিতপুরের মতুরাপুর গ্রামের গোপীনাথ সাহাসহ জেলার ৪২ হাজার ৮৯০টি মামলার বিচারপ্রার্থীদের।

মামলা সম্পর্কে জানতে আদালতে এসে করিমগঞ্জ উপজেলার পানাহার গ্রামের সাজু মিয়া বলেন, ‘আমার মামলার নম্বর ও তারিখ হারিয়ে ফেলেছি। সাত দিন ধরে আদালতে ঘুরছি মামলার নম্বর ও তারিখ জানতে। কিন্তু হাজার হাজার মামলার মধ্যে আমার মামলার নথি এখনো খুঁজে পাচ্ছে না।

কিশোরগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ ফেরদৌস বলেন, ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মানুষের হয়রানি চরম আকার ধারণ করেছে। গ্রামের মানুষের হয়রানির কথা শুনে আমরা বিব্রত হই। এর সমাধান হওয়া উচিত।

জেলার সিনিয়র আইনজীবী (সিভিল) এ্যাডভোকেট দোলন ভৌমিক বলেন, একজন বিচারক দিয়ে এতগুলো মামলা পরিচালনা সম্ভব নয়।

কিশোরগঞ্জ ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল আদালতের বেঞ্চ সহকারী বিল্লাল হোসেন বলেন, দুর্ভোগের কথা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: