মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ০৭:১২ পূর্বাহ্ন

কসমেটিক্স ব্যবসার আড়ালে নারীর দেহ-ব্যবসায়ী মিজানকে গ্রামবাসির গণধোলাই

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি.
কসমেটিক্স ও মোবাইল ব্যবসার আড়ালে নারীর দেহ-ব্যবসায়ী মিজানকে শিকল দিয়ে বেঁধে গণধোলাই দিয়ে পরিবারে কাছে তুলে দেয় গ্রামবাসী। ঘটনাটি সোমবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ উত্তর মোল্লাপাড়া গ্রামে ঘটেছে।
বিক্ষোব্ধ গ্রামবাসি জানায়, কিশোরগঞ্জ শহরতলী মোল্লাপাড়া গ্রামের মো. আব্দুল কাদিরের বড় ছেলে মো. মিজানুর রহমান মিজান স্থানীয় বাজারে রাস্তার পাশে একটি কসমেটিক্স ও মোবাইল ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকা থেকে নারীদেরকে এনে দেহ-ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। পুলিশ, র‌্যাব ও ডিবির সোর্স হিসেবে এলাকায় পরিচিত বলে এতোদিন তার ভয়ে এ বিষয়ে কেউ মুখ খোলতে সাহস পায়নি। পুলিশ, র‌্যাব ও ডিবির লোকজনও তার দোকানে নিয়মিত আসা যাওয়া করতে দেখে এলাকার সাধারণ মানুষও তার প্রতিবাদ করতে ভয় পেতো। এ নিয়ে এলাকাবাসির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছিল। পরে মিজান বেপরোয়াভাবে তার নারীর-দেহ ব্যবসা চালাতে থাকলে এলাকাবাসি অতিষ্ট হয়ে অবশেষে সাবেক ইউপি সদস্য মো. নূরুল ইসলাম নূরুর নেতৃত্বে শতাধিক গ্রামবাসি সোমবার দুপুরে তার দোকান ঘেরাও দেয়। পরে দোকানের পিছনে রুম থেকে ছয় নারীসহ মিজানকে বেঁধে ফেলে। এ সময় নারীদেরকে গণধোলাই দিয়ে এলকাবাসি গ্রাম ছাড়া করে এবং মিজানকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে গ্রামবাসি। পরে অসামাজিক ব্যবসা ছেড়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার অবিভাবক আব্দুল কাদির ও বোন জামাই মো. মোজাম্মেল হক আঙ্গুরসহ তাকে গ্রামবাসির কাছ থেকে উদ্ধার করে নেয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য (সাবেক) মো. নুরুল ইসলাম নূরু বলেন, মিজান তিন কন্যা সন্তানের জনক মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান হোসেনপুর-কিশোরগঞ্জ রোটে মনুপিয়নের মসজিদের পশ্চিম পাশে একটি দোকান ঘর ভাড়া নেয়। দোকানের সামনে ”মায়ের দোয়া মোবাইল সার্ভিসিং ও কসমেটিক্স সামগ্রী” নাম দিয়ে সাইনবোর্ড টানিয়ে নামে মাত্র কিছু কসমেটিক্স দোকানে সাজিয়ে বসে দোকানের সামনের দিকে লোহার নেট দিয়ে সুরক্ষিত করে ভিতরে অন্য একটি রোমে একাধিক বিছানা পেতে নারীদেরকে নিয়ে অসামাজিক কাজ চালিয়ে আসছিল। আর এলাকাবাসিদের প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে অত্যাচার করে আসছিল। এতো দিন এমন অত্যাচার ও অসামাজিক কাজ এলকাবাসি নিরবে মেনে নিয়েছে। মুখ খুলতেও কেই সাহস পাইতো না। পরে আমরা গ্রামবাসি মিলে তার অত্যাচার ও অসমাজিক কাজ বন্ধের এমন উদ্যোগ নিয়েছি।
মারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মুজিবুর রহমান হলুদ বলেন, মিজান নারী দিয়ে অসামাজিক কাজ চালিয়ে আসছিল। আমার মনে হয় এলাকাবাসি মিজানকে গণধোলাই দিয়ে সমাজকে কলংক মুক্ত করেছে। মিজান যেন পূনরায় এ অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়ে আবার এলাকার যুব সমাজকে নষ্ট করতে না পারে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: