মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ০৭:১২ পূর্বাহ্ন

পদায়নের অপেক্ষায় সহস্রাধিক সাবেক ছাত্রনেতা

রাজনীতি ডেস্ক :
আসছে নভেম্বর-ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ, দুই মহানগর ও চার সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্র এবং মহানগর শাখার সম্মেলন। এই সম্মেলনের সঙ্গে সঙ্গে অন্তত ১১৪ জনের পদায়ন হবে। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তো সহস্রাধিক পদ থাকছেই। এ নিয়ে ঈদের খুশি ক্ষমতাসীন শিবিরে। পার্টি অফিসসহ দ্বারে দ্বারে হাজিরা দেয়ার প্রতিযোগিতা চলছে। এই হাজিরায় সাবেক ছাত্রনেতারা আছেন এগিয়ে।

জানা গেছে, ছাত্রলীগের গত ৭/৮ কমিটির কেন্দ্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার অন্তত সহস্রাধিক নেতা কোথাও পদ পাননি। ছাত্রলীগ থেকে বিদায় নেয়ার পর থেকে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তাদের সহযোদ্ধাদের অনেকে হতাশ হয়ে হাল ছেড়েছেন। কিন্তু তারা এখনও নেত্রীর দিকে তাকিয়ে আছেন।

এ ছাত্রনেতারাই একসময়ে ক্যাম্পাস ও রাজপথ কাঁপিয়েছেন। জয় বাংলার স্লোগানে বিরোধীদের ভীতে কম্পন সৃষ্টি করেছেন। পদ-পদবী আর রাজনীতি করার সেরকম সুযোগ না পাওয়ায় হয়তো চুপসে আছেন। কিন্তু আদর্শ থেকে এতটুকু টলেননি।

আওয়ামী লীগ নেতারাও বলছেন, ‘‘এবার বঙ্গবন্ধুর আদর্শের এ নেতাদের পদায়নের বিশাল সুযোগ। এতে অনেকে জায়গা পাবেন।’

গত কয়েকদিন আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির কার্যালয় ও দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ ঘুরে দেখা গেছে, সাবেক ছাত্রনেতাদের মিছিল যেন সেখানে। প্রতিদিন বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত পার্টি অফিসের ভেতর ও বাহির, অলিগলি এমনকি আশপাশের চায়ের দোকানও এখন সাবেক ছাত্রনেতাদের দখলে। নানা খোশগল্প আর নিজেদের অতীত স্মৃতিচারণ করছেন।

প্রকাশ্যে জানতে চাইলে বলেন, ‘‘আদর্শের টানে আসি, পদ-পদবী বড় ব্যাপার নয়। নেত্রী আমাদের চেনেন, জানেন। তিনি যখন যেখানে প্রয়োজনবোধ করবেন, কাজে লাগাবেন।’

ছাত্ররাজনীতিতে এই পদে ছিলাম, দলের জন্য এই করেছি, সেই করেছি, এসব কথার ভেতর দিয়ে ইশারা ইঙ্গিতে বুঝাতে চান, পদ পেলে আবারও সব উজাড় করে দেবেন এই দলের জন্য।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সত্যিকার অর্থেই এসব ছাত্রনেতারা দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আবারও আওয়ামী লীগ বা সহযোগী সংগঠনে সুযোগ পেলে নিজের সাংগঠনিক যোগ্যতার প্রমাণ দেবেন। তুলে ধরবেন নিজেকে।

এ তালিকায় ছাত্রলীগের সাবেক-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকই আছেন ডজনখানেক। তবে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি-সম্পাদকদের বাইরেও আছেন সহস্রাধিক ছাত্রনেতা। যারা নানা সময়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণে দুর্দাণ্ড প্রতাপের সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এরাই এখন দ্বারে দ্বারে পদ-পরিচয়ের জন্য ঘুরছেন। এছাড়াও বেশকিছু প্রবীণ নেতা আছেন। তারা প্রকাশ্যে হাজিরা দেন না। পদ-পদবী না থাকায় ওভাবে সামনে আসেন না। নিজের অধীনস্থ কর্মীরা নেতা, এমপি-মন্ত্রী, অথচ তাদের পরিচয় নেই। এ কারণে সামনে না আসলেও অনেকে ভেতরে ভেতরে নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলেছেন।

এই আদর্শের পতাকা হাতে রাজপথে সক্রিয় কিন্তু পদ-পদবী না পাওয়া এসব সাবেক ছাত্রলীগ নেতার নাম পরিবর্তন ডটকমের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে-

সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে বাহালুল মজনুন চুন্নু, মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরী, ইসহাক আলী খান পান্না, বাহাদুর বেপারী, অজয় কর খোকন, লিয়াকত শিকদার, মাহমুদ হাসান রিপন, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ, সিদ্দিকী নাজমুল আলম, সাইফুর রহমান সোহাগ ও এসএম জাকির হোসাইন। তারা এখনো দলে পদ পাননি। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই এখনো সক্রিয়। পার্টি অফিসসহ নানা জায়গায় নিয়মিত যাতায়াত করেন। তবে সিনিয়র দু-একজন সেরকমভাবে পার্টি অফিসে না আসলেও পদ পেলে ঠিকই সক্রিয় হবেন।

এর বাইরেও ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র ডাকসাইটে নেতা মোশারফ হোসেন রাজা, শাহাবুদ্দিন ফরাজি, আবদুল মতিন, কামরুল হাসান বারী, প্রকৌশলী আকতারুল আলম, সুবক্তা কাজী তারেক কায়কোবাদদের এখানো দলে পদায়ন হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: