মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ০৭:১১ পূর্বাহ্ন

কিশোরগঞ্জে আদালত কক্ষে আইনজীবীকে হাতকড়া, বিচারক অবরুদ্ধ

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
আইনজীবি মামলার নথি দেখাকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জে আদালত কক্ষে এক সিনিয়র আইনজীবীকে হাতকড়া পরানো নিয়ে জজ ও আইনজীবীদের মধ্যে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। এ ঘটনার জেরে এজলাসে বিক্ষোভব্ধ আইনজীবীরা বিচারককে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটেছে। অন্যায়ভাবে একজন সিনিয়র আইনজীবিকে আটক করে এমন ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে শত শত আইনজীবি।

বুধবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে কিশোরগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার জেরে বিচারককে আধাঘণ্টা তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে আইনজীবীরা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এজলাস কক্ষে এসে অবরুদ্ধ ওই বিচারককে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়।
এদিকে আইনজীদের শান্ত করতে পুলিশ অনুরোধ জানান ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আদালতজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আদালত ও একাধিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার কিশোরগঞ্জ জেলা ও দায়েরা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ বিচারকার্য চলছিল। এ সময় কিশোরগঞ্জ বারের সিনিয়র আইনজীবী মো. ইকবাল হোসেন বিপ্লব একটি মামলার নথি দেখতে চাইলে দায়িত্বরত বেঞ্চের সহকারী আনোয়ার কামাল মামলার নথি অ্যাডভোকেটের হাতে তুলে দেন। পরে মামলার ডাক আসলে আইনজীবী ওই মামলার নথি আবার বেঞ্চ সহকারীকে দেওয়ার সময় আদালতের বিচারক মো. সুলেয়মান তা নিয়ে আইনজীবীর সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে যান। এক পর্যায়ে বিচারক আইনজীবিকে চোর আখ্যায়িত করে কাঠগড়ায় আটকে পুলিশকে নির্দেশ দেয় হাতকড়া পড়ানোর জন্য। পরে পুলিশ ওই আইনজীবির হাতে হাতকড়া পড়িয়ে দেয়।
খবরটি উকিল বারের সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ ফেরদৌস ও সাধারণ সম্পাদক শহীদ আলম সহিদের কাছে পৌঁছলে তাদের নেতৃত্বে আইনজীবীরা ওই এজলাসে এসে হাতকড়া ছাড়াতে বিচারকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বিক্ষুব্ধ আইনজীবীদের চাপের মুখে পুলিশ হাতকড়া খুলে দেয়। এ খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে শত শত আইনজীবীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এজলাসের সামনে তার জোড়ালো প্রতিবাদ জানায়। এরপর থেকে আদালতের কার্যক্রম স্থবির হয়ে যায়।
কিশোরগঞ্জ বারের সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ ফেরদৌস বলেন, এজলাসের বেঞ্চ সহকারীর অনুমতিক্রমে একজন আইনজীবী যে কোনো মামলার নথি দেখতেই পারে। আর আমাদের আইনজীবী তাই করেছেন। কিন্তু বিচারক মো. সোলেয়মান কোন আইনে একজন সিনিয়র আইনজীবীর হাতে এজলাসের ভেতরে অবৈধভাবে হাতকড়া পড়াল বুঝতে পারলাম না। আমরা বিচারকের বিরুদ্ধে ৫শ ধারা মামলা দায়েরসহ ওই এজলাসের সকল কার্যক্রম বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) থেকে বর্জন রাখবো। এ সময় বিচারককে চাকরিচ্যুতের মাধ্যমে আদালত থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

পরে বিচারকের প্রত্যাহারের দাবিতে শতাধিক আইনজীবীরা আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

এ ব্যাপারে একাধিকবার চেষ্টা করেও বিচারকের কোনো মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ দিকে, খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বিচারক মো. সুলেয়মানকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আইনজীবিদের শান্ত হতে অনুরোধ জানাই। আদালতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। তবে, এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: