বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন

ভেজাল কীটনাশকে কৃষকের সর্বনাশ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় আমন ক্ষেতে রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহারে এক বর্গাচাষির প্রায় সাড়ে ৭ বিঘা আমন ধান পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কসবা ইউনিয়নের মধ্য কালইর গ্রামে। এ বিষয়ে বর্গাচাষি ও কীটনাশক ডিলার পরস্পরকে দোষারোপ করছে। ঘটনাটি সমাধানে স্থানীয়ভাবে সালিশ হলেও অবশেষে থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়িয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কসবা ইউনিয়নের কালইর মৌজার সাড়ে ৭ বিঘা ধানের জমির মূল মালিক চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাঠানপাড়ার মৃত সেতাব উদ্দিনের ছেলে সিরাজউদ্দিন। ওই জমির বর্গাচাষি হলেন মধ্য-কালইর গ্রামের মৃত আবতাব উদ্দিনের ছেলে আলাউদ্দিন। প্রায় ২৫ দিন আগে আলাউদ্দীন একই গ্রামের মেসার্স আবু বাক্কারের কীটনাশকের দোকান থেকে জেনারেল এগ্রো কেমিকেল কোম্পানির জাইকা-৯৫ এসপি, জেনিজল-৩২৫ এসপি, এবার্টন-১.৮ ইসি ও জিওবান-৫০৫ ইসি কীটনাশক এনে তার জমিতে স্প্রে করেন।

স্প্রে করার ২-৩ দিন পর জমির ধান পুড়ে খড় হতে থাকে। বিষয়টি মাঠের অন্যান্য কৃষককে অবহিত করেন আলাউদ্দিন। পরে কীটনাশক ডিলারকে জানানো হলে তিনিও ক্ষেতের ধান পরিদর্শন করেন।

এ দিকে বর্গচাষি আলাউদ্দিন বরাবরই ডিলারকে দোষারোপ করছে, যে ভেজাল কীটনাশক প্রয়োগের কারণে তার ক্ষেত পুড়ে গেছে।

অন্যদিকে কীটনাশক বিক্রেতা আবু বাক্কার দাবি করে বলেন, অতিমাত্রায় বা ঘাসমারা কীটনাশক ব্যবহারের ফলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।

বিষয়টি উপজেলা কৃষি অফিস পর্যন্ত গড়ালে নাচাল উপজেলা কৃষি অফিসার বুলবুল আহাম্মেদ, উপসহকারী কর্মকর্তা রাকিব আলীসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত ধানক্ষেত পরিদর্শন করেন।

এ ব্যাপারে নাচোল উপজেলা কৃষি কর্মকতা বুলবুল আহম্মেদ জানান, ঘটনা শুনে ওই এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত ধান পরিদর্শনে পাঠিয়েছিলাম। তিনি তদন্ত করেছেন, তদন্ত শেষে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেলিম রেজা জানান, ধান ক্ষেতে কীটনাশক বা ঘাস মারা বিষ প্রয়োগে ক্ষেতের ধান নষ্ট হয়েছে এটি কৃষি বিভাগ দেখার কথা। তবে তারা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিলে ভালো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: