সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০২:১৯ পূর্বাহ্ন

৭দিনের সফরে কিশোরগঞ্জে আসচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

বিশেষ প্রতিনিধি :
৭দিনের সরকারি সফরে নিজ জন্মভুমি কিশোরগঞ্জে আসচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তিনি আগামী ৯ অক্টোবর (বুধবার) এসে প্রথমে জেলা কিশোরগঞ্জের ভাটির কন্যা তাড়াইলে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি স্বাধীনতা ‘৭১ ভাস্কর্য উদ্বোধন করবেন এবং রাষ্ট্রপতিকে দেয়া নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দিবেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এর রাজনৈতিক জীবনের ১৯৭০ সালের প্রথম নির্বাচনী এলাকা (তাড়াইল-ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম-নিকলী) এর তাড়াইল উপজেলায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে এটিই তাঁর প্রথম সফর।

রাষ্ট্রপতির এই সফরকে ঘিরে তাড়াইল উপজেলাসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। তাঁর আগমন উপলক্ষে তাড়াইলে ইতোমধ্যে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠান সফল করতে নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী ৯ থেকে ১৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল, সদর, মিঠামইন, ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলা সফর করবেন। সফরের প্রথম দিন আগামী ৯ অক্টোবর (বুধবার) তাড়াইল উপজেলায় সফরের মধ্য দিয়ে সাত দিনব্যাপী এই সফর শুরু হবে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ঢাকা থেকে দুপুরে তাড়াইল উপজেলার উদ্দেশ্যে হেলিকপ্টার যোগে রওনা দিবেন।
তিনি তাড়াইল উপজেলার শিমুলহাটি হেলিপ্যাডে অবতরণ করবেন। হেলিপ্যাড থেকে তিনি উপজেলা সদরে যাবেন। স্বাধীনতা ‘৭১ ভাস্কর্য এর উদ্বোধন স্থলের পার্শ্ববর্তী বালুর মাঠে মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার দেয়া হবে। পরে তিনি চিরচেনা হিজল-তমাল ছায়া আর হাওর নদী বেষ্টিত তাড়াইল উপজেলা পরিষদ চত্বরে স্বাধীনতা ‘৭১ ভাস্কর্য এর উদ্বোধন করেন।
সফর কর্মসূচি ও স্থানীয় প্রশাসনের সূত্র মতে, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত তাড়াইল মুক্তিযোদ্ধা সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেবেন। কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. মুজিবুল হক চুন্নু ওই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন। অনুষ্ঠান শেষে বিকালে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ কিশোরগঞ্জের উদ্দেশ্যে তাড়াইল ত্যাগ করবেন।

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা মিঠামইন সদরের কামালপুর গ্রামে ১৯৪৪ সালের ১ জানুয়ারি পিতা মরহুম হাজী মো. তায়েব উদ্দিন এবং মরহুমা তমিজা খাতুন দম্পতির ঘর আলো করে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের জন্ম হয়। তিনি কিশোরগঞ্জ সরকারি গুরুদয়াল কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। ১৯৬৬-৬৭ সালে তিনি ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি নির্বাচিত হন।

ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদানের কারণে ১৯৬৮ সালে তিনি কারাবরণ করেন। ১৯৬৯ সালে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। সত্তরের নির্বাচনে তিনি সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী হিসাবে (তাড়াইল-ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম-নিকলী) এমএনএ নির্বাচিত হন। তিনি তখন ২৫ বছরের উদীয়মান তেজস্বী যুবক। সে সময়ে মো. আবদুল হামিদ এঁর পক্ষে তাড়াইলের মানুষ মুখে চোঙ্গা নিয়ে শ্লোগান দিয়েছিল, ‘গাছের আগায় পক্ষী, হামিদ ভাই লক্ষ্মী’।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে গৌরবোজ্জ্বল অবদান রাখেন। ৭১-এর মার্চের উত্তাল দিনগুলোতে তিনি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে কিশোরগঞ্জে স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গঠনের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম শুরু করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৭ মার্চ কিশোরগঞ্জ শহরের রথখলা ময়দানে ছাত্র জনসভায় হাজার হাজার জনতার উপস্থিতিতে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করেন তিনি। এ কারণে-ই তখন তাঁকে ‘ভাটির শার্দুল’ উপাধিতে ভূষিত করেন এলাকাবাসী। তিনি দুঃসময় ও ক্রান্তিকালে কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কাণ্ডারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে দীর্ঘ ৩৭ বছর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তাঁর নিজ নির্বাচনী এলাকা থেকে সাত বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আর এই আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গা থেকে তাঁর উপর অর্পিত হয় বিরোধী দলীয় উপনেতা, ডেপুটি স্পিকার, স্পিকার এবং পরপর দুবার রাষ্ট্রপতির মতো পদের গুরু দায়িত্ব। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য সর্বশেষ তাঁর সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হয়েছে স্বাধীনতা পদকের হিরণ্ময় পালক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: