বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন

শেখ হাসিনার জন্মদিনে সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা রাষ্ট্রপতির

তোলপাড় ডেস্ক :
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ৭২তম জন্মবার্ষিকী আজ শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর)। এ উপলক্ষে তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক বার্তায় রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

শেখ হাসিনা ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণকারী শেখ হাসিনা শৈশব থেকেই রাজনৈতিকভাবে সচেতন ব্যক্তি হিসেবে বেড়ে উঠেন।

আবদুল হামিদ বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের মাধ্যমে রাজনীতিতে জড়িত হন। তিনি পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

জাতির পিতার কন্যা হওয়া সত্ত্বেও তার জীবন কখনো মসৃণ ছিল না উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের বিয়োগান্তক রাতে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির হাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য শাহাদাত বরণ করেন। সে সময় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় এ বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড থেকে বেঁচে যান।

শেখ হাসিনার দুঃখ-দুর্দশার তুলে ধরে আবদুল হামিদ বলেন, বাবা, মা, ভাই ও অন্যান্যদের হারিয়ে তারা দিল্লি ও লন্ডনে ৬ বছর খুবই দুঃখ-দুর্দশার মধ্যে প্রবাস জীবনযাপন করেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালের ১৪ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় কাউন্সিলে সর্বসম্মতভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। বহু বাধা-বিঘ্ন অতিক্রম করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দীর্ঘ প্রবাস জীবন থেকে তিনি দেশে ফিরে আসেন।

মাতৃভূমিতে ফিরে এসে শেখ হাসিনা দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন শুরু করেন বলেন রাষ্ট্রপতি। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারের পতন ঘটে এবং গণতন্ত্রের বিজয় সূচিত হয়।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠনের প্রসঙ্গ তুলে আবদুল হামিদ বলেন, ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিজয় লাভ করে এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। সরকার গঠনের পর প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি এবং গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০০৮ সালে ২৯ ডিসেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে ১৪ দল ক্ষমতায় আসে এবং জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে। এই মেয়াদে বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আবার ক্ষমতায় আসে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই মেয়াদে যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় এবং ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের স্থল সীমান্ত সমস্যার সমাধান করা হয়। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বাধীন জোট বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আবার ক্ষমতায় আসে এবং ইতিহাস সৃষ্টি করে। এ নিয়ে শেখ হাসিনা পর পর তিনবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়ন ও অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: