বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ০১:৪১ পূর্বাহ্ন

কিশোরগঞ্জে দুর্গা মুর্তি তৈরীর কারিগরদের ফুসরৎ নেই

রাজিবুল হক সিদ্দিকী, কিশোরগঞ্জ:

আর মাত্র ১৫ দিন পরই শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসব। মন্ডপে মন্ডপে উঠবে দেবী দুর্গার প্রতিমা। তাই এখন প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কিশোরগঞ্জে প্রতিমা তৈরির কারিগররা। সময় মতো প্রতিমা সরবরাহ করতে দিনরাত এক করে কাজ করে চলেছেন তারা।
কিশোরগঞ্জে এ বছর মোট ৪০১টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। জেলার ১৩টি উপজেলায় ১৮টি ব্যক্তিগতসহ ৩৮৩টি পূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। একেকজন কারিগরকে তিন থেকে পাঁচটি প্রতিমা তৈরির কাজ করতে হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জের কালীবাড়ীতে প্রতিমা তৈরির কাজ করতে দেখা গেছে, দিলীপ পাল ও তার সহকারী শিল্পীরা প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। সবাই ব্যস্ত প্রতিমার গায়ে কাদা মাটির প্রলেপ লাগাতে। আর কদিন পর এসব প্রতিমার গায়ে রঙ-তুলির আঁচড় পড়বে বলে জানান শিল্পীরা।
বাবুল আচার্য্য জানান ছোটবেলা থেকেই এ পেশায় সম্পৃক্ত। পঞ্চমীর রাতের আগেই তাদের প্রতিমার সব কাজ শেষ করতে হবে। তাই বাংলা আষাঢ় মাসের ১৫ তারিখ থেকেই তারা প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেছেন। সময় মতো প্রতিমা সরবরাহ করতে দিনরাত এক করে তারা কাজ করছেন।

প্রতিমা শিল্পীরা জানিয়েছেন, একটি প্রতিমা তৈরিতে শিল্পীদের ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতিমা তৈরির জন্য লাগে মাটি, খড়, কাঠ, বাঁশ, দড়ি, পেরেক, সুতা, ধানের তুষ ও কয়েক ধরণের রঙ কিনতে তাদের এই টাকা খরচ হয়। একেকটি প্রতিমা ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।

শিল্পীরা জানান, একটি প্রতিমা তৈরি করতে সময় লাগে ১০ থেকে ১৫ দিন। প্রতিমা তৈরিতে কয়েকজন শিল্পী একসঙ্গে কাজ করেন। একেকজন শিল্পী প্রতিমার এক এক কাজে হাত দেন। সবার সম্মিলিত কাজে পূর্ণতা পায় একেকটি প্রতিমা। প্রতিমা বিক্রির পর যে টাকা লাভ হয়, তা তারা সবাই মিলেই ভাগ করে নেন।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি এ্যাড. ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলান জানান, হিন্দু সম্প্রদায়ের সব থেকে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোঃ সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে সব পূজা মন্ডপে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। মন্ডপগুলোতে আনসার, ভিডিপি, পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি সাদা পোশাকে থাকবেন গোয়েন্দারা। মন্ডপ এলাকায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। কেউ যেন কোনো প্রকার সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারে সে জন্য সর্বদা তৎপর থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশ সুপার মোঃ মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার) জানান, শান্তিপূর্নভাবে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে প্রত্যেকটি মন্ডপ এলাকায় নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হবে। আয়োজকদের পাশাপাশি পুলিশের বাড়তি নজরদারী থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: