বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন

শিকলবন্দি রতনকে মুক্ত করলেন ইউএনও

পাকূন্দিয়া প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ২৫ বছর ধরে শিকলবন্দি সেই রতন মিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ হাসান পাকুন্দিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ওই রতনের বাড়িতে গিয়ে অন্ধকার কক্ষ থেকে শেকল কেটে তাকে উদ্ধার করেন।

এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জমির মো. হাসিবুস সাত্তার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রুহুল আমিন ও পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাহাব উদ্দিন ইউএনও’র সাথে ছিলেন।

পরে পাকুন্দিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাকে ভর্তি করানো হয়। রতন মিয়া বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুই নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন।

২৫ বছর আগে মাথায় প্রতিবেশীর লাঠির আঘাতে আহত হওয়ার পর কিছুটা মানসিক ভারসাম্য হারান কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ সাটিয়াদী গ্রামের মৃত আবদুল মোমেনের ছেলে রতন মিয়া। কিন্তু স্বজনরা তাকে চিকিৎসা না করিয়ে শিকলবন্দি করে রাখেন। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে শিকলবন্দি রতন দুর্বিষহ জীবন পাড় করছিলেন। রতনের জীবনের অর্ধেক সময় কেটে গেছে অন্ধকার কক্ষে শিকলবন্দি হয়ে। একটি ছোট্ট অন্ধকার ঘরের মেঝেতে লোহার শিকলে বাধা অবস্থায় চলছিল তার খাওয়া, ঘুম, পেশাব-পায়খানা সবই।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ হাসান বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে রতন মিয়ার বিষয়টি প্রকাশিত হলে জেলা প্রশাসকের নজরে আসে। তার নির্দেশে আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে রতন মিয়ার বাড়িতে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাকে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে সাতদিন পর্যবেক্ষণ করা হবে। এরপর তার শারীরিক অবস্থা বুঝে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জমির মো. হাসিবুস সাত্তার বলেন, সমাজসেবা অধিদফতরের সহযোগিতায় রতনের চিকিৎসায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তার শরীরে রক্তশূন্যতা আছে। তিনি অপুষ্টিতে ভুগছেন। শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে সুস্থ করে তোলা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: