বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৩:৩৪ অপরাহ্ন

পাকুন্দিয়ায় স্কুল ছাত্রী ধর্ষণ-হত্যার প্রধান আসামি জাহিদ ৫দিনের রিমান্ডে

বিশেষ প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় নানার বাড়িতে নবম শ্রেণির ছাত্রী স্মৃতি আক্তার রিমা (১৪) গণধর্ষণ-হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মুরাদুজ্জামান জাহিদ (২২) কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জের আমলগ্রহণকারী আদালত নং-৩ এর বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এ, এস, এম আনিসুল ইসলাম শুনানী শেষে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মুরাদুজ্জামান জাহিদকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পাকুন্দিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এসএম শফিকুল ইসলাম জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সাত দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করেছিলেন।

আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার পর তাকে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। স্কুল ছাত্রী রিমাকে অপহরণের পর গণধর্ষণ করে হত্যা মামলার ১নং আসামি মুরাদুজ্জামান জাহিদ পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী গ্রামের খুরশিদ মিয়ার ছেলে। এর আগে রোববার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার) এর নির্দেশনায় কিশোরগঞ্জ শহরের বত্রিশ এলাকার জেলা স্মরণী মোড় থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

নিহত স্মৃতি আক্তার রিমা পাশর্^বর্তী হোসেনপুর উপজেলার জামাইল গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের কন্যা ও হোসেনপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী। গত ১৭ই জুলাই রাতে পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের গাংধোয়ারচর গ্রামের নানার বাড়ি থেকে কথিত প্রেমিকের ডাকে বাইরে বেরিয়ে আর ফিরে আসেনি। পরদিন ১৮ই জুলাই সকাল ১১টার দিকে নানার বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ের একটি বরই গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় স্কুল ছাত্রী রিমার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় ১৯শে জুলাই রাতে নিহত স্কুল ছাত্রীর মা আঙ্গুরা খাতুন বাদী হয়ে পাকুন্দিয়া থানায় রিমাকে অপহরণের পর গণধর্ষণ করে হত্যার অভিযোগ এনে মামলা (নং-৮) দায়ের করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩)/৭ ধারায় দায়ের করা মামলায় জাহিদ, পিয়াস মিয়া (১৮), রুমান মিয়া (১৮) ও রাজু মিয়া (১৮) এই চার জনের নামোল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার চার আসামির মধ্যে ২নং আসামি পিয়াস মিয়া গত ২০শে জুলাই গ্রেপ্তার হয়। সে পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী গ্রামের সৌদি প্রবাসী রুবেল মিয়ার ছেলে। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, বিয়েতে ব্যর্থ হয়ে রিমাকে অপহরণের পর জোরপূর্বক গণধর্ষণ করে হত্যা করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পাকুন্দিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এসএম শফিকুল ইসলাম দৈনিক তোলপাড়কে জানান, এই মামলার দুই নং আসামি পিয়াস মিয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মামলার প্রধান আসামি মুরাদুজ্জামান জাহিদকে গ্রেপ্তারের পর সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) আদালত তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। সোমবারই (২ সেপ্টেম্বর তাকে রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে চাঞ্চল্যকর এই মামলার জট খুলবে বলেও মনে করছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: