বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৩:৪৭ অপরাহ্ন

ভারত পরমাণু যুদ্ধ বাধালে পাকিস্তানও প্রস্তুত : ইমরান খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাশ্মীর ইস্যু তোলার পর এবার ভারতের বিরুদ্ধে পরমাণু যুদ্ধ বাধানোর চেষ্টার অভিযোগ আনেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। শনিবারই (১৭ আগস্ট) ভারতের পরমাণু হামলা মোকাবিলায় পুরোদস্তুর প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছিল ইসলামাবাদ। এবার ইমরানের টুইটে ভারতের সম্ভাব্য পরমাণু যুদ্ধ নিয়ে বিশ্বকে সতর্ক হতে বললেন ইমরান। তিনি বলেন, কাশ্মীর থেকে গোটা বিশ্বের নজর ঘোরাতেই ভারত ওই পরমাণু যুদ্ধ বাধিয়ে দিতে পারে।

একের পর এক টুইটে ইমরান লিখেছেন, ‘ভারতের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার থেকে অন্য দেশগুলো কতটা নিরাপদ, এবার গুরুত্ব দিয়ে তা ভাবা উচিত গোটা বিশ্বের। কারণ, এটা এমন একটা বিষয়, যার প্রভাব শুধু এই অঞ্চলেই নয়, পড়বে গোটা বিশ্বে’। শনিবারই ইসলামাবাদের তরফে জানানো হয়, ভারতের দিক থেকে যে কোনো পরমাণু হামলার জন্য ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’ রয়েছে পাকিস্তান।

বিশেষ অধিকার প্রদানকারী ৩৭০ ধারা রদের পর কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে পাক-ভারত উত্তেজনা তীব্রতা পায়। গতকাল ইমরান সরকারের শীর্ষ স্তরের মন্ত্রী, কর্মকর্তা ও উচ্চপদস্থ সেনাকর্তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। তারপরেই যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি ও সেনবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর।

মেজর জেনারেল আসিফ গফুর বলেন, ‘এই ব্যাপারে আমাদের সন্দেহটা খুবই জোরালো হয়েছে যে, কাশ্মীর থেকে গোটা বিশ্বের নজর ঘোরাতে বড়সড় পরমাণু পদক্ষেপ চালাতে পারে ভারত। তবে, তার জন্য আমরা পুরোদস্তুর তৈরি রয়েছি। ভারত জোর করেই যুদ্ধ বাধিয়ে দিতে পারে। সেই আশঙ্কার কথা মাথায় রেখেই কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণরেখায় প্রচুর সেনা মোতায়েন করেছে পাকিস্তান।’

কুরেশি জানান, কাশ্মীর পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিশেষ কাশ্মীর সেল খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কাশ্মীর পরিস্থিতি সম্পর্কে গোটা বিশ্বকে ওয়াকিবহাল করতে যে সব দেশে পাক দূতাবাস রয়েছে, তার প্রত্যেকটিতেই জনাকয়েক বিশেষ দূত নিয়োগ করা হবে।’

উল্লেখ্য, কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে উত্তাল পরিবেশের মধ্যেই ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং দেশটির পরমাণু নীতি নিয়ে মন্তব্য করেন, যাকে ঘিরে নতুন করে পারমাণবিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এই অঞ্চলে। কাশ্মীরকে ঘিরে বিশ্বের সবচেয়ে বৈরী দেশে পরিণত হয়েছে এশিয়ার এই দুই পরাশক্তি, কাশ্মীরের এমন পরিস্থিতিতে যে কোনো পক্ষের হামলা যে পারমাণবিক যুদ্ধে গড়াতে পারে, সেই আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। এই বিষয়ে এখন বৈশ্বিক নেতাদের হস্তক্ষেপে দেশদ্বয়ের মধ্যে সমঝোতা স্থাপনকে জরুরি মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: