রবিবার, ১৮ অগাস্ট ২০১৯, ০৫:৩০ অপরাহ্ন

বঙ্গবন্ধুর প্রথম শাহাদাত বার্ষিকী পালন করতে গিয়ে ভৈরবে ২২ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

স্টাফ রিপোর্টার :
৭৫-এর ১৫ই আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার প্রতিবাদে প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ হয় কিশোরগঞ্জে। বেতারযোগে বঙ্গবন্ধু হত্যার খবর শোনে ওইদিন সকালেই শহরের কিছু দুঃসাহসী তরুণ বের করেন প্রতিবাদ মিছিল।

অন্যদিকে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার এক বছর পর ১৯৭৬ সালের ১৫ই আগস্ট জেলার ভৈরবে তাঁর প্রথম শাহাদাতবার্ষিকী পালন করার অপরাধে তৎকালীন যুব ও ছাত্রলীগের অদম্য সাহসী ২২ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হন। বঙ্গবন্ধুর নামে মিলাদের আয়োজন করাই ছিলো তাঁদের অপরাধ।

সামরিক শাসকের উর্ধ্বতন কর্তৃপরে নির্দেশে ভৈরব থানা পুলিশ সেদিন বঙ্গবন্ধুর প্রথম শাহাদাতবার্ষিকীর মিলাদ পড়াতে দেয়নি। শাহাদাতবার্ষিকী পালনের সব আয়োজন ব্যর্থ করে দিয়ে সেদিন তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সেদিন যারা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তারা হলেন, আয়োজক এবং তৎকালীন ভৈরব থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা ফখরুল আলম আক্কাছ (পৌর মেয়র), আসাদুজ্জামান ফারুক (সাংবাদিক), রুহুল আমিন, মাহাবুব, মতিউর রহমান, মফিজুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন জজ মিয়া, জিল্লুর রহমান জিল্লু, আসাদ মিয়া, আতাউর রহমান, আসাদুল হক শিশু, দিলিপ চন্দ্র সাহা, দিপেন্দ্র চন্দ্র সাহা, ফজলুর রহমান, আব্দুল হামিদ, ইদ্রিস মিয়া, মাহাবুব আলম, রসরাজ সাহা, সুবল চন্দ্র কর, শাহজালাল, ফিরোজ মিয়া ও আফজাল ভূইয়া।

জানা গেছে, ১৯৭৬ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুর প্রথম শাহাদাতবার্ষিকী পালনের জন্য ফখরুল আলম আক্কাছের নেতৃত্বে ভৈরব হাজী আসমত কলেজের শহীদ আশুরঞ্জন ছাত্রাবাসে দোয়া, মিলাদ ও কোরআন খতমের আয়োজন করা হয়। দুপুরের পর থেকে ১৫জন মাওলানা কোরআন খতম দিতে থাকেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন ওই ২২ জন নেতাকর্মী।

কথা ছিল আসরের পর মিলাদ ও দোয়া হবে। কিন্তু মিলাদের আগেই বিকাল ৪টার দিকে পুলিশ ছাত্রাবাসটি ঘেরাও করে মাওলানাদেরসহ ২২ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে ভৈরব থানায় নিয়ে যায়।

তারা সেদিন গ্রেপ্তারের কারণ জানতে চাইলে পুলিশ অমানুষিক নির্যাতন চালায়। তবে মিলাদে আসা ১৫ জন মাওলানাকে ওইদিন মুছলেকা নিয়ে ছেড়ে দিলেও ২২ জন নেতাকর্মীকে পরদিন ১৬ই আগস্ট কোমরে রশি বেঁধে হাতকড়া লাগিয়ে কিশোরগঞ্জ মহকুমা কোর্টে চালান দেয়া হয়।

পুলিশ বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করায় আদালত তাদেরকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠায়। পরবর্তীতে দীর্ঘদিন কারাভোগের পর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তারা সকলেই পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে ছাড়া পান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: