বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন

ফরিদপুর বিএনপির সম্মেলন নেই ১০ বছর, কার্যক্রম স্থবির

ফরিদপুর প্রতিনিধি :
ফরিদপুরে জেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ১৫১ জন। এর মধ্যে ২৫ নেতা দলবদল করে যোগ দিয়েছেন আওয়ামী লীগে। এর বাইরে আরও অনেকে রয়েছেন যারা দলের পদ-পদবিতে থেকেও কোনো কর্মকাণ্ডে নেই। তাই মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নেমে এসেছে স্থবিরতা।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচিও তেমন একটা পালন করে না ফরিদপুর বিএনপি। পুরনো কমিটি ভেঙে দিয়ে সম্মেলনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পন্থায় নতুন কমিটি না করা পর্যন্ত এ অবস্থার নিরসন সম্ভব নয় বলে মনে করেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

জেলা বিএনপির একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা এম এ সালাম ও আজিজার রহমান মোল্লা, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এম এম শাহরিয়ার, ইলিয়াস আহমেদ পাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, অর্থ সম্পাদক নাফিজুল হাসান, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মোজাফফর হোসেন, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক ইকবাল হোসেন, ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক ইকবাল হাসান, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক দুই সভাপতি সাদেকুজ্জামান পাল ও রউফ উননবীসহ অন্তত ২৫ জন আ.লীগে যোগ দিয়েছেন।

এদের মধ্যে অনেকেই আ.লীগের পদও পেয়ে গেছেন। জেলা শ্রমিক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সদ্যপ্রয়াত ওলিয়ার রহমানও বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলেন।

অপরদিকে, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা সরোয়ারজান মিয়া, শহর বিএনপির সভাপতি খন্দকার চাঁন, যুগ্ম সম্পাদক আবুল কাশেম মিয়া, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক খন্দকার আবদুল কুদ্দুস, স্থানীয় সরকার সম্পাদক সাইদুর রহমান, শিল্প বিষয়ক সম্পাদক খন্দকার হাবিবুর রহমানসহ মারা গেছেন অন্তত ১২ জন।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর। তবে শীর্ষ দুই পদ নিয়ে বিবদমান দুই পক্ষের তীব্র মতদ্বৈধতার কারণে হাতাহাতির মধ্য দিয়ে সম্মেলন পণ্ড হয়ে যায়।

এরপর ঢাকা থেকে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে যথাক্রমে জহিরুল হক শাহজাদা মিয়া, মোদাররেস আলী ঈসা ও রশিদুল ইসলাম লিটনের নাম ঘোষণা করা হয়। এরপর গঠন করা হয় ১০ উপদেষ্টাসহ ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট জেলা কমিটি। জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে যথাক্রমে দুই বার সভাপতি মনোনীত হয়ে জহিরুল হক ওরফে শাহজাদা মিয়া ২০ বছর ধরে এবং তিনবারের সাধারণ সম্পাদক মোদাররেস আলী ওরফে ঈসা ৩১ বছর ধরে যাবৎ দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক গণশিক্ষা বিষয়ক সহসম্পাদক মাহবুবুল হাসান বলেন, জেলা বিএনপির পদধারীদের ব্যর্থতার কারণে অনেকে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে।

জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার হোসেন জুয়েল বলেন, যারা সুবিধার রাজনীতি করেন তারা দল ছেড়ে গেছেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল হক শাহজাদা মিয়া বলেন, দলের চেয়ারপারসন জেলে যাওয়ায় পুনর্গঠন কর্মকাণ্ড স্থগিত হয়ে যায়। অনেক নেতা মামলা ও হামলার মুখে রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: