রবিবার, ১৮ অগাস্ট ২০১৯, ০৫:০৭ অপরাহ্ন

নেত্রকোনার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত আউশ ধানের জমি ও আমনের বীজতলা তলিয়ে গেছে স্কুল- পুকুর

সাখাওয়াত হোসেন, ব্যুরো চীফ নেত্রকোনা:
টানা সাত দিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। সোমবার দুপুরে জেলার উব্ধাখালি নদী ২৫ সে.মি. ও কংশ নদীর জারিয়া পেয়েন্টে ১৪৭ সে.মি. বিপদ সীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান। জেলার ১০টি উপজেলার মধ্যে ৮টি উপজেলার নিম্নাঞ্চলের কম-বেশি এলাকা বন্যা কবলিত। তবে জেলার দুর্গাপুর, কলমাকান্দা ও বারহাট্টা উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের তিন শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। অনেক গ্রামীন সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
সোমবার দুপুর পর্যন্ত বন্যা কবলিত জেলার কলমাকান্দা, দুর্গাপুর ও বারহাট্টা উপজেলার ২৬৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়ের পাঠদান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছেন সংশ্লিষ্ট উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তারা। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন বন্যায় ৩ হাজার ৫৩টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। সবজি নষ্ট সহ আউশ ধান ও আমনের বীজতলা নিমজ্জিত হয়েছে ২৪৬ হেক্টর জমির জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক।
কলমাকান্দা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, উপজেলার মোট ১৭২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বন্যায় প্লাবিত হয়ে যাওয়ায় ১৪৮টি বিদ্যালয়ে সাময়িকভাবে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পানি না কমা পর্যন্ত এসব বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ থাকবে। এছাড়া ৮টি বিদ্যালয়ে বন্যা কবলিত মানুষের জন্য আশ্রয় কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে তিনি জানান। দুর্গাপুর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা আবু তাহের ভূঁইয়া জানিয়েছেন মোট ১২৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৭টি বিদ্যালয় সাময়িক বন্ধ। ১১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বন্যার কারণে ৮০টি বিদ্যায়ের পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বারহাট্টা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহী দিলশাদ এলীন। তিনি আরো বলেন, বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় এসব বিদ্যালয়ে পাঠদান করা সম্ভব হচ্ছে না।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দিলীপ কুমার সাহা জানিয়েছেন, জেলার ৬০ হাজার ১৩৯টি পুকুরের মধ্যে ৩ হাজার ৫৩টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এসব পুকুরের আয়তন হবে ৪ শত ৮ হেক্টর ও মাছের পরিমাণ হবে ১৩ শত ৪২ মেট্রিক টন। যার বাজার মূল্য ১৩ কোটির টাকা। এসব পুকুরের মধ্যে পোনা মাছ উৎপাদনেরও কিছু পুকুর রয়েছে। তিনি আরো জানান, বন্যায় মাছ ভেসে যাওয়ায় মাছ চাষীরা বিপাকে পড়েছেন। তাদেরকে সহায়তার জন্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হাবিবুর রহমান বলেন, অতি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের বন্যায় নেত্রকোনা জেলার ৩৫ হেক্টর আউশ ধানের জমি ও ৭৪ হেক্টর জমির আমন ধানের বীজতলা নিমজ্জিত হয়েছে। ১২৭ হেক্টর জমির সবজি আবাদ নষ্ট হয়েছে বলে তিনি জানান।
নেত্রকোনার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, বন্যা দূর্গত এলাকায় ৮টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে সেখানে প্রায় দুই শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ১ শত ১০ মেট্রিক টন জিআর চাল এবং ৩ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। বন্যায় যাতে পানিবাহিত রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়তে না পারে তার জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে পানি বিশুদ্ধ করণ ট্যাবলেট সরবরাহ করা হয়েছে।
(২টি ছবি পাঠানো হয়েছে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: