মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন

আগামী ৫ দিনে বন্যা পরিস্থিতি আরও তীব্র হওয়ার শঙ্কা

তোলপাড় ডস্ক :
সীমান্তবর্তী ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও সিকিম, নেপালে বৃষ্টিপাত বাড়ার কারণে দেশের নদীগুলোতে পাহাড়ি ঢলে পানির সমতল উঠে গেছে বিপদসীমার ওপরে। এতে প্লাবিত হয়েছে ১০টি জেলা। আগামী পাঁচদিনে পানি প্রবাহ বিস্তৃত হয়ে বন্যাকবলিত এলাকা আরও বাড়ার আভাস রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বাভাস বলছে, মেঘনা অববাহিকা ও হিল অববাহিকার নদ-নদীগুলোতে পানি বাড়ায় বন্যা পরিস্থতির সৃষ্টি হয়েছে। নতুন করে ব্রহ্মপুত্র ও গঙ্গা অববাহিকার নদ-নদীগুলোর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে আগামী পাঁচদিনেই বন্যা পরিস্থিতি আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে তা দেশের মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এই অবস্থায় সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে সিলেট, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, রাজবাড়ী ও আশেপাশের এলাকা। কেননা, কোনো কোনো নদ-নদীর পানি বেড়ে তীব্র বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।

কোনো নদীর পানির সমতল বিপদসীমা থেকে ১ মিটারের বেশি ওপরে উঠলে সেই অবস্থাকে তীব্র বন্যা বলে ধরে নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

তাদের দেওয়া পাঁচদিনের এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে- ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় আগামী ১৮ জুলাই নাগাদ করতোয়ার পানির সমতল চকরহিমপুরে, ঘাঘটের পানি গাইবান্ধায়, ধলেশ্বরীর পানি এলাসিনঘাটে ১ ‍মিটারের বেশি বাড়বে।

এছাড়া আগামী ২১ জুলাই নাগাদ যমুনার পানি বাহাদুরাবাদ, সিরাজগঞ্জ, কাজীপুর, পদ্মার পানি গোয়ালন্দে বিপদসীমার এক মিটারের বেশি বেড়ে তীব্র বন্যার সৃষ্টি করতে পারে। আর এসব এলাকার অন্যান্য নদ-নদীর পানি এ সময় বিপদসীমার এতো ওপর দিয়ে প্রবাহিত না হলেও ১ মিটারের মধ্যেই থাকবে। ফলে বন্যা পরিস্থিতি বিস্তৃত হবে দেশের মধ্যাঞ্চলে।

তবে এই অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। পানি নেমে যেতে কোনো প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি না হলে এক সপ্তাহের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

অন্যদিকে ঢাকার আশেপাশের নদীগুলোর পানির সমতল বৃদ্ধি পেলেও তা বিপদসীমা অতিক্রম করবে না। এক্ষেত্রে ঢাকার জন্য কোনো শঙ্কা নেই।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূইঁয়া  দৈনিক তোলপাড়কে জানিয়েছেন, দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানিই বর্তমানে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে ১৫টি নদ-নদীর পানি ২৩টি স্থানে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরমার পানি সুনামগঞ্জ, সিলেট ও কানাইঘাটে, কুশিয়ারার পানি শেরপুর-সিলেট, শেওলা ও আমলশীদে, মনুর পানি মৌলভীবাজার ও মনু রেলওয়ে ব্রিজে, ধলাইয়ের পানি কমলগঞ্জে, খোয়াইয়ের পানি বাল্লায়, সোমেশ্বরীর পানি কমলাকান্দায়, কংসের পানি জারিয়াজাঞ্জাইলে, হালদার পানি নারায়ণহাটে, সাঙ্গুর পানি দৌহাজারী ও বান্দরবানে, চিরিংয়ায় মাতামুহুরীর পানি, ধরলার পানি কুড়িগ্রামে, তিস্তার পানি ডালিয়ায়, ঘাঘটের পানি গাইবান্ধায়, ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী ও নুনখাওয়াতে এবং যমুনার পানি ফুলছড়ি ও বাহাদুরাবাদে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, রোববার (১৪ জুলাই) নাগাদ ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগে বজ্রসহ ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম বিভাগে পাহাড়ধসের শঙ্কা রয়েছে।

এরইমধ্যে পাহাড়ধসে রাঙামাটিতে দু’জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া শনিবার ৫ জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ১৩ নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আগামী তিনদিনে বৃষ্টিপাত কিছু হ্রাস পাবে বলেও আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

বন্যার ও বৃষ্টিপাতের এই অবস্থায় গরম অনুভূত হচ্ছে বেশি। বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ ৯৮ শতাংশ হওয়ায় এমনটি হচ্ছে বলে বলছেন আবহাওয়াবিদরা।

রোববার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেওয়া এক পূর্বাভাসে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি বৃদ্ধি পেতে পারে। এক্ষেত্রে গরমও একটু বাড়বে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সবচেয়ে বেশি ৩৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মোংলায়, আর সবচেয়ে বেশি ২২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে সীতাকুণ্ডে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: