সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ০৮:১৭ অপরাহ্ন

ডেঙ্গু নিয়ে সতর্কতা

অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সাবরিনা ফ্লোরা :
ডেঙ্গু বর্তমান সময়ের সবচেয়ে পীড়াদায়ক রোগের একটি। এই জ্বরে আক্রান্ত একদিকে যেমন দুর্বল হয়ে পড়ে, অন্যদিকে এর রেশ শরীরে থেকে যায় দীর্ঘদিন। তবে ডেঙ্গু প্রাণঘাতী কোনো রোগ নয়। বিশ্রাম ও নিয়মমাফিক চললে এ থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া সম্ভব। ডেঙ্গু জ্বর সম্পর্কে বিস্তারিত জানালেন রানা আহমেদ

ডেঙ্গু কীভাবে হয়?

সাধারণত এটি এখন কমবেশি সবারই জানা, ডেঙ্গু রোগ হয় এক ধরনের ভাইরাস থেকে, যা এডিস মশা দ্বারা ছড়িয়ে থাকে। সাধারণত জমে থাকা পরিষ্কার পানি, ফুলের টব, টায়ার, এয়ারকুলারে জমা পানি থেকে এ মশাটি বিস্তৃতি লাভ করে। এডিস মশা থেকে চার ধরনের ভাইরাস মানব শরীরে আসতে পারে।

কখন ও কাদের বেশি হয়

মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, বিশেষ করে গরম এবং বর্ষার সময়টিতেই ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেশি থাকে। শীতকালে এই জ্বর হয় না বললেই চলে। শীতে লার্ভা অবস্থায় ডেঙ্গু মশা অনেক দিন বেঁচে থাকতে পারে। বর্ষার শুরুতেই সেগুলো থেকে নতুন করে ডেঙ্গু ভাইরাস-বাহিত মশা বিস্তার লাভ করে।

সাধারণত শহর অঞ্চলে অভিজাত এলাকায়, বড় বড় দালান-কোঠায় এই মশার প্রাদুর্ভাব বেশি। তাই ডেঙ্গু জ্বরও এ এলাকার বাসিন্দাদের বেশি হয়। গ্রামে বসবাসরত লোকজনের ডেঙ্গু কম হয়।

লক্ষণগুলো

সাধারণত তীব্র জ্বর ও সেই সঙ্গে সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা।

শরীরে বিশেষ করে হাড়, কোমর, পিঠসহ অস্থিসন্ধি এবং মাংসপেশিতে তীব্র ব্যথা।

এ ছাড়া মাথাব্যথা ও চোখের পেছনে ব্যথা হয়। অনেক সময় ব্যথা এত তীব্র হয়, মনে হয় বুঝি হাড় ভেঙে যাচ্ছে। তাই এ জ্বরের আরেক নাম ‘ব্রেক বোন ফিভার’।

জ্বর হওয়ার চার বা পাঁচ দিনের সময় শরীর জুড়ে লালচে দানা দেখা যায়, যাকে বলা হয় স্কিন র‌্যাশ, অনেকটা অ্যালার্জি বা ঘামাচির মতো।

বমি বমি ভাব, এমনকি বমি হতে পারে। রোগী অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ করে এবং রুচি কমে যায়।

চিকিৎসা

ডেঙ্গু জ্বরের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। তবে এ জ্বর সাধারণত নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়। তাই উপসর্গ অনুযায়ী সাধারণ চিকিৎসাই যথেষ্ট। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াই ভালো। নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি-

শরীরের যেকোনো অংশ থেকে রক্তপাত হলে।

প্লাটিলেটের মাত্রা কমে গেলে।

শ্বাসকষ্ট হলে বা পেট ফুলে পানি এলে।

প্রস্রাবের পরিমাণ কমে গেলে।

জন্ডিস দেখা দিলে।

অতিরিক্ত ক্লান্তি বা দুর্বলতা দেখা দিলে।

প্রচন্ড পেটে ব্যথা বা বমি হলে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে পূর্ণবিশ্রামে থাকতে হবে। এক-দুদিন পরপর রক্তের প্লাটিলেট বা অণুচক্রিকা পরীক্ষা করে দেখতে হব। প্লাটিলেট কমে গেলে তাকে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকা উচিত। আর অন্য যা বৈশিষ্ট্য থাকবে, তার ভিত্তিতেই চিকিৎসা করবেন চিকিৎসকরা। তবে ব্যথানাশক কোনো কিছু কেউ যেন গ্রহণ না করে, যদি ডেঙ্গু হয়ে থাকে।

অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সাবরিনা ফ্লোরা

পরিচালক, আইইডিসিআর, ঢাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: