সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ০৮:৪৭ অপরাহ্ন

কিশোরগঞ্জে সরকারী ক্ষুদ্রঋণের ৪ লক্ষাধিক টাকা ফেরত পেতে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ
বাংলাদেশ সমাজসেবা অধিদপ্তরের সরকারীভাবে গরীবদের সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের ক্ষুদ্রঋণ তহবিলের সরকারি চার লাখ তেইশ হাজার টাকা আত্নসাতের টাকা ফেরত পেতে সুবিধাভোগীরা মানববন্ধন করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ শহর সমাজসেবা অফিসের সামনে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা। পরে পঁচিশ জন ভোক্তভোগীর স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ বিভাগীয় দূর্নীতি কমিশনার (ময়মনসিংহ) বরাবর কিশোরগঞ্জ দূর্নীতি দমন অফিসে জমা দেয়।
অভিযাগে তারা উল্লেখ করেন, ২০১৩ সনে ১২ডিসেম্বর হারুয়া কসাইখানা মহল্লার আরএসএস (সুদ মুক্ত) ক্ষুদ্রঋণভোগী ২৫ জন সদস্য কিশোরগঞ্জ শহরের আখড়াবাজারস্থ শহর সমাজসেবা কার্যালয় থেকে তারা তিন লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা ঋণ নেয়। পরে তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১০% সার্ভিস চার্জসহ সম্পূর্ণ পরিশোধ করে দেয়। দ্বিতীয় মেয়াদে ওই ২৫ জন সদস্য ২০১৪ সনের ২০ নভেম্বরে আবার চার লাখ পঁচাশি হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ১০% সার্ভিস চার্জসহ শতভাগ ২০১৫ সনের মধ্যেই সম্পূর্ণ পরিশোধ করে দেন। এর পর ওই সদস্যরা নতুন করে আবার ঋণ নিতে আসলে কর্তৃপক্ষের লোকজন তাদেরকে এ পর্যন্ত তালবাহানা দেখিয়ে আসছেন।এমনকি কর্মকর্তারা উল্টো আবার সুবিধাভোগিদের পরিশোধকৃত ঋণের টাকা আদায় করার জন্য র‌্যাব ও পুলিশের ভয় দেখিয়ে আসছেন। পরে ভোক্তভোগীরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারে তাদের কাছ থেকে ঋণের আদায়কৃত চার লাখ তেইশ হাজার টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে জমা না দিয়ে শহর সমাজ সেবা কর্মকর্তা সালমা খানমের নেতৃত্বে তার অধিনস্থ সহকর্মীরা মিলে সম্পূর্ণ টাকা আত্নসাৎ করে নেন। যার ফলে নতুন করে ঋণ বার বার চাইলেও তারা ঋণ পাচ্ছেন না। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা শহর সমাজ সেবা কার্যালয়ের সামনে সরকারের কাছে আত্নসাৎকারীদের বিচার চেয়ে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেন। এবং পুনরায় ঋণ পাওয়ার দাবি জানিয়ে পাশাপাশি শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা সালমা খানমের দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করেছেন তারা।

হারুয়া কসাইখানা সুদ মুক্ত ঋণের সভানেত্রী মোছাঃ মিতালী জানান, আমাদের কষ্টের জমানো ঋণের টাকা পরিশোধ করেছি। সেই টাকা আবার ঋণ নিতে চাই। কিন্তু ৪বছর যাবৎ এ টাকা জমা দিয়ে আমরা ক্ষুদ্রঋণ গ্রহিতারা ফেরত পাইনি। শহর সমাজসেবার মাঠকর্মী ওমর ফারুক ও শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা সালমা খানমের যৌথ একাউন্টের টাকা জমা করা হয় তদন্ত করলে তা বেরিয়ে আসবে বলে তিনি জানান।
অভিযোগের সাথে গাঁথা সমাজসেবা অধিদপ্তরের একটি অডিট রিপোর্ট পত্রে ৫জন সমাজসেবা কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত সুত্রে জানা যায়, শহর সমাজ সেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মিলে এ পর্যন্ত ওই প্রকল্পের পৌসভার অধিনে বিভিন্ন ওয়ার্ডের সদস্যদের কাছ থেকে নেয়া ঋণের ১৯ লক্ষ ৫৩ হাজার ৮’শ ৫১টাকা আত্মসাৎ করেন। যার ফলে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে মামলায় মোহাম্মদ ওমর ফারুক নামে পৌর সমাজকর্মী সাময়িক বরখাস্ত রয়েছেন। এ মামলা এখনো চলমান।

এ ব্যাপারে শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা সালমা খানমের সাথে কথা হলে তার বিরুদ্জাধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি অর্থ আত্নসাতের সাথে জড়িত নই। অর্থ আত্নসাতের ঘটনায় আমি পৌর সমাজকর্ম মোহাম্মদ ওমর ফারুকে বেশ কয়েকবার শোকুজ করেছি। বিভাগীয় মামলায় সে এখন সাময়িক বরখাস্ত রয়েছেন তিনি। তার দোষ এখন আমার ঘাড়ে দিচ্ছে ঋণ গ্রহীতারা।  আত্মসাতের সাথে আমি কোনদিনই জড়িত ছিলাম না। ওরম ফারুক নামে আমাদের একজন মাঠকর্মীকে টাকা আত্নসাতের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন বলে জানান তিনি। জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান খান বলেন, বিষয়টি মামলায় মোহাম্মদ ওমর ফারুক নামে পৌর সমাজ কর্মী সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। বিষয়টির ব্যাপারে মামলা চলমান রয়েছে। এখন আমি এ ব্যাপারে আর কিছু বলতে চা্ইনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: