সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০১:৫২ পূর্বাহ্ন

কিশোরগঞ্জ উন্নয়নে সংসদে যা দাবি করলেন সৈয়দা জাকিয়া নূর এমপি

বিশেষ প্রতিনিধি :
জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে কিশোরগঞ্জের জন্য উন্নতমানের রেলপথ, উন্নত ট্রেন এবং পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি। শনিবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি এই দাবি জানান।

এদিন জাতীয় সংসদে দেয়া বক্তব্যে ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি এমপি প্রাসঙ্গিকভাবে তাঁর বক্তব্যে তাঁদের জীবন সংগ্রামী মা সৈয়দা নাফিসা ইসলাম সম্পর্কে আবেগঘন বর্ণনা দেন।

ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি এমপি এবারের বাজেটকে সমৃদ্ধি ও সম্ভাবনার বাজেট বলে অভিহিত করেন।

তিনি অবহেলিত নারী বিধবা ও স্বামী পরিত্যাক্তাদের ভাতা বৃদ্ধির প্রশংসা করে বলেন, নারীদের ওপর সামাজিক চাপ বহুমুখি। যদিও এই সংসদেসহ বিভিন্ন সেক্টরে নারীরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কিন্তু সাধারণ পর্যায়ে নারীরা নিষ্পেষিত, নিগৃহিত। তাদের ওপর নানান ধরণের অবজ্ঞা, অবহেলা বিধি নিষেধ রয়েছে। আমি মনে করি এ ব্যপারে আমাদের সবাইকে আরো সোচ্চার হতে হবে।

নারীদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য বিভিন্ন ধরণের প্রণোদনা বৃদ্ধির আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, নারীদের নিপীড়নের ব্যাপারটি সর্বদাই আমাকে তাড়িত করে।

এ প্রসঙ্গে ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি এমপি বলেন, আমি আমার নিজের জীবনের একটা অধ্যায় বলতে চাই। ১৯৭৫, ৩রা নভেম্বর যখন আমার মা বৈধব্য বরণ করেন, তখন তাঁর বয়স সবেমাত্র ৪০ বছর ছুঁইছুঁই। বড় দুই ছেলে নির্বাসিত। কী করছে, কোথায় থাকছে, ঠিকমতো খেতে পারছে কিনা, কিছুই জানা নেই। আরেক ছেলে সেনাবাহিনীতে মাত্র ঢুকেছে। মা সারাক্ষণই ভীত, এই বুঝি চাকরি চলে যায়, নাকি বুলেটবিদ্ধ হয়।

দেশের শাসনভার তখন সেনাপতিদের হাতে। যাদের শক্তির একটা প্রধান উৎস স্বাধীনতা বিরোধীরা। একটা প্রহসনের বিচারে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করা হচ্ছে সেনানিবাসে। আর বাইরে হচ্ছে স্বাধীনতা বিরোধীদের উন্মত্ত উল্লাস। কী বিভৎস স্পর্ধা ! এ দেশের স্বধীনতা বিরোধীদের গাড়িতে উড়ছে লাল সবুজের পতাকা। পাঠক হয়ে ওঠছে ঘোষক। মিথ্যাচার, লাম্পট্য আর পাকিস্তানি মনোভাবিদের বিষবাষ্প চারিদিকে।

আওয়ামী পরিবারগুলো স্বাধীন দেশে কী দুঃসহ যীবনযাপন করছে। আমরা সন্ত্রস্ত থাকতাম কিন্তু ভয় পেতাম না। এমনি এক অবস্থায় আমার মায়ের উপর বিশাল দায়িত্ব। আমার মায়ের আর্থিক সামর্থ্য তখন অত্যন্ত সীমিত। চারপাশের অবস্থা দেখে আমার মা হয়তো ব্যস্ত হয়ে পড়লেন আমাদের দু বোনকে পাত্রস্ত করতে। আমরা মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও ভালো ছেলে পাওয়া মাত্রই হাতছাড়া করেননি আমার মা।

মেডিক্যাল কলেজের প্রথম বর্ষেই আমার বিয়ে হয়ে গেল। কিন্তু আমি নিতান্তই ভাগ্যবান ছিলাম বলেই প্রতিকুলতার মধ্যেও সংগ্রাম করে নিজের মনের জোরে স্বামীর উৎসাহে পড়াশোনা করেছি। নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছি। এই চিন্তাগুলো প্রায়ই আমাকে আবেগাপ্লুত করে ফেলে। প্রশ্ন করি- আমাকে যদি এমন অবস্থায় পৌঁছতে হয় তাহলে সাধারণ জনগোষ্ঠীর বিধবা নারী বা তাদের সন্তানদের কী দাঁড়াতো।

বাজেটে বিধবা নারী ও স্বামী পরিত্যাক্তদের জন্য ভাতা রাখা এবং দিন দিন বৃদ্ধি করায় এটিকে স্বাগত জানিয়ে তিনি তিনি বলেন, আমার খুব ভালো লাগছে দেখে, যে আমাদের বাজেটে বিধবা দুস্থদের জন্য ভাতা রাখা ও বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর দেশে এমন একটা উদ্যোগ নেয়া দুঃসাহসই বটে।

তিনি বলেন, একমাত্র আওয়ামী লীগই সেটা পারে। এটা বঙ্গবন্ধুর দল, সোহরাওয়ার্দীর দল, শেখ হাসিনার দল। যে দলটির মূল শক্তি খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। যে দলটির প্রতিটি নেতাকর্মী একটা পরিবারের অংশ। যে দল একটি অনুভুতির নাম। আজ আমার বলতে ইচ্ছে করে- আহারে ! আমার মা যদি বেঁচে থাকতেন তাহলে এই সমস্ত উদ্যোগ যারা চালিয়ে যাচ্ছেন, তাদের জন্য প্রতিবার জায়নামাজে বসে তাদের জন্য দু’হাত তুলে দোয়া করতেন।

বাজেটে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টিকে সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, আমি এই প্রস্তাবকে সাধুবাদ জানাই। সমর্থন করি। এখন অনেককে বলতে শুনিÑ সেই কবে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, সেই পুরনো কথা কেনো শুনতে হবে। কেনই বা মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা দিতে হবে। আমি বলবো, আমরা তো সত্যিকার অর্থে কিছুই করতে পারিনি। রক্তের ঋণ কখনোই শোধ করা যায় না। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের প্রাণ, আমাদের ধ্যান, আমাদের সকল প্রেরণার উৎস।

দেশ স্বাধীন হবার পর লন্ডন টাইমস লিখেছিল, রক্ত যদি স্বাধীনতার মূল্য হয়ে থাকে তবে বাংলাদেশ মূল্য দিয়ে স্বাধীনতা পেয়েছে।

এর আগে বক্তৃতার শুরুতে ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি এমপি বলেন, এই সংসদে কথা বলতে পেরে নিজেকে আমি ধন্য মনে করছি। এই সংসদে একদিন ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। একই সাথে ছিলেন তাঁর অন্যতম সহচর আমার পিতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম। পরবর্তিতে সবার প্রিয় আমার বড় ভাই সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। এই সেই পবিত্র সংসদ যেখানে আমার বড় আপা জননেত্রী শেখ হাসিনা, নিঃসন্দেহে এই সংসদ আমার জন্য পবিত্র ও আবেগের স্থান।

কিশোরগঞ্জ ও হোসেনপুরের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের আন্তরিকতায় আমি মুগ্ধ ও বিমোহিত। তারা অল্প সময়ে আমাকে আপন করে নিয়েছে।

নির্বাচনী এলাকার বিষয়ে ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি এমপি বলেন, কিশোরগঞ্জ-হোসেনপুরে অনেক উন্নয়ন হয়েছে, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ এসেছে। কিশোরগঞ্জে দ্বিতীয় বৃহত্তম মেডিক্যাল কলেজ হয়েছে। এখন আমাদের দরকার একটি উন্নতমানের রেলপথের। দরকার উন্নত ট্রেনের। এ দাবি অনেক দিনের। কিশোরগঞ্জে একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি অনেক দিনের। আমরা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: