বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন

রাষ্ট্রপতির নামের সড়কের ওপর ১৩ খুঁটি

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জের নিকলী ও করিমগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে সংযোগকারী আবদুল হামিদ সড়কের কাজ প্রায় শেষের পথে। কিন্তু ১০ দশমিক ২ কিলোমিটার (নিকলী-করিমগঞ্জ) এ সংযোগ সড়কের মাঝখানে পল্লীবিদ্যুতের ১৩ খুঁটি রেখেই শেষ করা হয়েছে রাস্তার পিচ-ঢালাইয়ের কাজ। রাষ্ট্রপতির নামের এই সড়ক নির্মাণ নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ।

১৯৮৫ সালে রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়। তখন এটি কাঁচা মাটির রাস্তা ছিল। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল হামিদের নামে এর নামকরণ করা হয়। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি।

হাওরে পল্লীবিদ্যুতায়ন শুরু হলে উপজেলার কারপাশা, বদলপুর, গৌরীপুর, শান্তিপুর, শহরমূল, জালালপুর ও নানশ্রী গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য এই রাস্তার পাশে খুঁটি স্থাপন করা হয়। এখন সড়কটি পাকা করার ফলে প্রশস্ত হয় দ্বিগুণ। এতে বিদ্যুতের খুঁটি সড়কের মাঝখানে পড়ে যায়। কিন্তু এগুলো না সরিয়েই নিকলী অংশের প্রায় আট কিলোমিটার সড়কের কার্পেটিং (পিচ-ঢালাই) কাজ সম্পন্ন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এলাকার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন বিভিন্ন যানবাহনে করে এ সড়ক দিয়ে যাওয়া-আসা করে। মাস সাতেক আগে এ সড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হলেও আজও এসব পল্লীবিদ্যুতের খুঁটি স্থানান্তরের কোনো উদ্যোগ নেননি সংশ্লিষ্টরা। এতে দিনের বেলায় সড়কে কিছু দুর্ঘটনা ঘটলেও রাতের বেলায় উপজেলার বাইরে থেকে আসা অনিয়মিত যানবাহনগুলো এসব বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লেগে অহরহ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

মদলিশপুর গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান, কায়সার মিয়াসহ অনেকেই বলেন, খুঁটিগুলো না সরানোর ফলে ঝুঁকি নিয়ে সড়কে যানবাহন চলাচল করছে।

কিশোরগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মনির উদ্দিন মজুমদার জানান, খুঁটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সড়ক নির্মাণেও অনিয়ম হয়েছে। এখনই অনেক জায়গায় সিসি ব্লক সরে গেছে। এ ছাড়া নানশ্রী চেয়ারম্যান বাজার থেকে চালিটেক ও কোনাবাড়ী চৌরাস্তা মোড় থেকে বড়খাল পর্যন্ত দুটি সংযোগ রাস্তা মূল সড়কে সংযুক্ত না করে দিলে হাওরের বোরো ধান নিয়ে বাড়ি যেতে পারবেন না কৃষক। এতে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বেন।

এদিকে এলজিইডির নিকলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবদুর রহমান মুহিম জানান, নানা টালবাহানার পর কিশোরগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির অনুকূলে খুঁটি স্থানান্তর ব্যয় বাবদ ১২ লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়। কিন্তু এখনো খুঁটিগুলো সরিয়ে নেয়নি পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি। হাওর জনপদে এ সড়ক দিয়ে নিকলী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের লোকজন কিশোরগঞ্জ জেলা সদরসহ করিমগঞ্জ, তাড়াইল উপজেলায় যাতায়াত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: