মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯, ১১:০২ অপরাহ্ন

ভৈরবে শিশু কিশোররা জড়িয়ে পড়ছে মাদক চুরি ছিনতাইসহ হত্যাকান্ডে

জয়নাল আবেদীন রিটন, ভৈরব প্রতিনিধি ॥
জেলার ভৈরবে শিশু কিশোররাও জড়িয়ে পড়ছে মাদক ,চুরি, ছিনতাই, এমনকি হত্যাকান্ডের মত ঘটনায়ও। দিন দিন এসব কর্মকান্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে চরম আকারে। আশংকায় পড়েছেন অভিবাবকরা। এ সকল অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে অনেকাংশে এর মূল কারণ হিসেবে দেখা গেছে মাদকে সংশ্লিষ্ট হয়ে পড়া। এ ছাড়াও অভিবাবকদের অসেচতনতার কারণে শিশ কিশোরদের মধ্যে বৃদ্ধি পাচ্ছে অপরাধ প্রবনতা। বাবা মায়ের অজান্তে অনেক শিশু কিশোররা ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাজাঁ এমনকি নেশা জাতীয় ইনজেক্শানে আসক্ত হয়ে পড়েছে। অপরদিকে অধিকাংশ অভিববাকদের মাঝে শংকা বিরাজ করছে তাদের সন্তানদের নিয়ে। যে সকল শিশু কিশোররা অপরাধের জগতে ঢুকে পড়েছে এদের মধ্যে রয়েছে পথ শিশু, মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানসহ অভিজাত পরিবারের স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও।

সম্প্রতি দেখা গেছে পথভ্রষ্ট হয়ে পড়া শিশু কিশোররা লেখা পড়া না করে তারা সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে মাদক সেবন মাদক পাচারে জড়িয়ে পড়েছে। এরই জের ধরে আবার অনেকেই চুরি ছিনতাই থেকে শূরু করে হত্যাকান্ড পর্যন্ত ঘটিয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ অর্থের লোভে পড়ে কাউকে খুন করতেও দ্বিধা করছেনা। ভৈরবে গত দুই মাসে বেশ কয়েকটি দুর্ধর্ষ চুরি, ছিনতাই ও হত্যাকান্ড ঘটেছে। এসকল ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের হাতে আটক হওয়াদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু কিশোর রয়েছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে ব্যবহৃত ধারালো দেশিয় অস্ত্রসস্ত্রও কারো কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে মাদকদ্রব্য। আটককৃতদের আইনশৃঙ্খলাবাহিনী আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠালেও তারা জেল থেকে বেরিয়েই আবারো ফিরে যাচ্ছে অপরাধ মূলক কর্মকান্ডের সেই অন্ধকার জগতে। তারা যেন বেছেই নিয়েছে এ জগতটাই তাদের জন্য উত্তম। তারা কখনো বুঝতে চায়না এ অন্ধকার জগতই এক সময় তাদের জন্য এমনকি তাদের পরিবারের সবার জন্য অমঙ্গল বয়ে আনবে । তাদের একজনের ভুলের জন্য খেসারত দিতে হবে তাদের পরিবারের সাবইকে। পুরো পরিবারটিকে কলংকের ঘানি টানতে হবে সারা জীবন।

আটককৃত শিশু কিশোরদের সাথে কথা হলে তারা জানায়, অনেক সময় তাদের পিতা মাতার কাছে নিজের প্রয়োজনে টাকা চাইলে তাদেরকে টাকা দিতে চায়না। টাকা না পেলে বন্ধু মহলে অনেক সময় তাদেরকে হেয় হতে হয়। আবার অনেকে পরিবারের অর্থের অভাব পুরণ করে বাবা মাকে খূশি করতে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তারা আরো জানায় পিতা মাতা সন্তানের অপরাধে জড়িয়ে পড়া জেনেও তাদেরকে এই রাস্তা পরিহার করতে চায়নি।

আটককৃতদের অভিবাবকদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, নেশার জগতে জড়িয়ে পড়ে এ আশংকায় অনেক সময় পিতা মাতা তাদের সন্তানদের অতিরিক্ত অর্থের চাহিদা পূরণ করতে চাননা আবার অনেকে পারেনও না। পিতা মাতার অজান্তে তারা কথন যেন এ সকল ঘৃন্যতম কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েছে তারা নিজেরাও জানেননা। সন্তানদের আজকের এ অবস্থা অভিবাবকদের এমনটা কখনোই কাম্য ছিলনা।

র‌্যাব ১৪ ভৈরব ক্যাম্পের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাফিউদ্দিন মোহাম্মদ যোবায়ের বলেন,
কিশোরদের মধ্যে যখন আর্থিক ধ্যেন ধারণার জন্ম হবে তখনই তারা বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ডে লিপ্ত হবে। কারণ হচ্ছে যে অধিকাংশ কিশোররা সাধারনত স্কুল কলেজগামী হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে বাবা মা তাদেরকে একটা সীমীত খরছের মধ্যে রাখার চেষ্টা করে। হয়তো তাদের বন্ধুদের সাথে বিভিন্ন ধরনের আড্ডা দিতে গিয়ে হয়তোবা তাদের অনেক ধরনের আর্থিক চাহিদা থাকতে পারে। তাদের এ ধরনের চাহিদা অনেক সময় বাবা মা পূরণ করেনা। তখন তারা এখান থেকে বেরিয়ে যাবার জন্য যখন তাদের মনের মধ্যে কিছু একটা জন্ম হবে তখনই তারা বড় ধরনের কোন অপরাধমূল কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়বে। এ ছাড়াও তারা বাবা মায়ের আর্থিক অভাব অনুভব করতে পারে যে বাবা মা তাদের চাহিদা ঠিকমত পুরণ করতে পারছেনা। তখন তাদের মনের মাঝে হঠাৎ কোন কিছু করার জন্য যদি পরিবারকে একটা বড় ধরনের আর্থিক সাপোর্ট দিতে পারি তাহলে হয়তো পরিবারটি সচ্ছল হবে। এমন ধারণা থেকেও অপরাধে জিিড়য়ে যেতে পারে।

ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মোখলেছুর রহমান জানান, রুপক নামে ছেলেটিকে তার সহপাঠি রেজুয়ান, আরাফাত পাটোয়ারী ও রাব্বী তারা তিন জন মোবাইল ফোনে ডেকে আনে । তাদের উদ্দ্যেশ্য ছিল যে রুপকের বাবার কাছ থেকে কিছু মুক্তিপণ আদায় করবে। এক পর্যায়ে তাদের মনে সন্দেহ জাগে এ টাকা আনতে গেলে তারা থানা পুলিশকে জানাবে। এমন ধারণা থেকে এক পর্যায়ে রুপকের গলায় রশি দিয়ে পেচিয়ে নিস্তেজ করে । পরে ধারালো ছোড়া দিয়ে জবাই করে রূপকের মৃত্যু নিশ্চিত করে। তারা সবাই এবার ভৈরব কে বি স্কুল থেকে এস এস সি পাশ করেছে।

ভৈরব রেলওয়ে থানার ওসি আব্দুল মজিদ ( পিপিএম ) বলেন , সন্তানরা কোথায় যাচ্ছে, কাদের সাথে মিশছে, কি করছে, তাদের কোন খোঁজ খবর না নেওয়া, সামাজিক অবক্ষয়, তাছাড়া দারিদ্রতা ছাড়াও বর্তমান আধুনিক জগতে ইন্টারনেটে ফেসবুক , ইউটিউবের মাধ্যমে অশ্লীল ছবি দেখে অশালীন কাজে জড়িয়ে পড়াই হচ্ছে কিশোরদের প্রধান কারণ। এ সকল কিশোররা অল্প বয়সেই চুরি ছিনতাই থেকে শূরু করে এমনকি খুন পর্যন্ত করতে দ্বিধাবোধ করতেছেনা। বাবা মা ও স্কুলের শিক্ষকরা যদি একটু সচেতন হয় তাহলে কিশোর অপরাধ অনেকটাই কমে যেতে পারে। তাদেরকে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে হলে কিশোর সংশোধনাগারে নিয়ে অথবা সচেতনা মূলক বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়ে তাদেরকে অপরাধ মূলক কাজ হইতে নিবারণ করা যেতে পারে।

ভৈরব থানার ওসি ( তদন্ত ) বাহালুল খান বাহার বলেন, ভৈরব একটি বানিজ্যিক বন্দর নগরী হওয়ায় এখানে দেশের বিভিন্ন স্থঅন থেকৈ লোকজন এসে বসবাস করছে। এই সুবাধে অনেকেই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়েছে। আমরা অনেক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেছি। বাকি যারা নামধারি ব্যবসায়ী আছেন আমরা অচিরেই তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: