রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯, ১২:৪৫ অপরাহ্ন

বন্ধুদের মুখে রূপক হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা

বিশেষ প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফারদিন আলম রূপক (১৬) নামে এক শিক্ষার্থীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয় লোকজনের কাছে খবর পেয়ে শুক্রবার (৩১ মে) দুপুরে শহরের ভৈরবপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার ভিআইপি প্লাজা সংলগ্ন আইডিয়াল স্কুলের পিছনে আবু বক্কর মিয়ার ৬তলা বিল্ডিংয়ের ছাদ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। বিল্ডিংয়ের মালিক আবু বক্কর মিয়া রূপকের সহপাঠী ও বন্ধু রাব্বি মিয়া পিয়ালের (১৭) দাদা।

এদিকে এ ঘটনায় নিহতের রূপকের বাবা নূরে আলম বিপ্লব বাদী হয়ে শুক্রবার রাতেই ৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

লাশ উদ্ধারের পরপর নিহত রূপকের সহপাঠী মৃত কামাল মিয়ার ছেলে ফজলে রাব্বি পিয়াল (১৭), একই এলাকার শাহাজাহান পাটোয়ারীর ছেলে মো: আরাফাত পাটোয়ারী (১৬) ও ভৈরব রাণীর বাজার এলাকার ফার্মেসি ব্যবসায়ী ওবায়দুল কবির খাঁ’র ছেলে রেজাউল কবির খাঁ (১৬) নামে তার তিন সহপাঠীকে আটক করে পুলিশ।

এছাড়া শুক্রবার ভোরে রূপক হত্যার অপর দুই আসামি ভৈরবপুর দক্ষিণ পাড়া হাজী আবু বক্কর সিদ্দিক এর ছেলে শাহ সুফিয়ান (৩১) ও একই এলাকার মো: শাহজাহান পাটোয়ারীর ছেলে ইয়ারফাত পাটোয়ারী (৩২) কে র‌্যাব আটক করে।

খুন হওয়া শিক্ষার্থীর নাম ফারদিন আলম রূপক (১৬)। সে ভৈরব বাজারের টিনপট্টি এলাকার আল্টাটেক সিমেন্টের ডিলার ব্যবসায়ী নূরে আলম বিপ্লবের বড় ছেলে। রূপক সদ্যঘোষিত এসএসসি পরীক্ষায় স্থানীয় কেবি পাইলট সরকারি স্কুল থেকে অংশ নিয়ে পাস করে। রূপকদের পিতৃভূমি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার গৌরীপুর পূর্বপাড়া গ্রামে। তারা বর্তমানে ভৈরব বাজারের টিনপট্টি এলাকায় হাজী ফুল মিয়ার বিল্ডিংয়ের ৫ম তলার ফ্লাটে ভাড়া থাকেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রূপক বৃহস্পতিবার (৩০ মে) রাত ৮টার দিকে তারাবির নামাজ পড়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরেনি। পরে রাতভর খোঁজাখুঁজি করে রাতেই থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তার পিতা বিপ্লব। শুক্রবার সকালে সাধারণ ডায়েরির বরাতে স্থানীয় র‌্যাব ক্যাম্পকেও অবগত করান বিষয়টি।

এদিকে রূপককে ছাদে হত্যার পর লাশ বস্তাবন্দি করে ওই তিন সহপাঠী রাতে একসাথে ঘুমায় রাব্বিদের বাসায়। রাতে ছাদে আসা যাওয়া এবং দিনের বেলা তাদের আচরণে ভিন্নতা দেখতে পান রাব্বির পরিবারের লোকজন। এ সময় তিনজনকে একসাথে জেরা করলে তারা রূপককে হত্যার পর লাশ বস্তাবন্দি করে ছাদে রেখে দেওয়ার কথা জানায়। তারা তখন এদেরকে আটক রেখে তাৎক্ষণিক বিষয়টি পুলিশসহ রূপকের পরিবারকে জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বস্তাবন্দি থেকে গলাকাটা লাশ উদ্ধার করলে সেটি রূপকের বলে সনাক্ত করেন পরিবারের লোকজন।

আটককৃতরা জানায়, বৃহস্পতিবার (৩০ মে) রাত ৮টার দিকে আরাফাত পাটোয়ারী তার বন্ধু রূপককে মোবাইলে জরুরি কথা আছে বলে রাব্বিদের বিল্ডিংয়ে আসতে বলে। এর আগে তারা তিন বন্ধু শলাপরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেয় রূপককে ডেকে এনে আটক করে তার বাবার কাছে মুক্তিপনের টাকা চাইবে। এদিকে রূপক বন্ধুর ফোন পেয়ে দ্রুত ওই বিল্ডিংএ চলে আসে।

আসার পর তিন বন্ধু মিলে তাকে ঝাঁপটে ধরলে সে বাঁচার জন্য চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে তাকে গলায় রশি দিয়ে পেঁচিয়ে ধরলে সে অজ্ঞান হয়ে যায়। তারপর ভয়ে তারা তার গলায় ছুরি চালালে সে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। এরপর রাতেই তিনজন মিলে বস্তায় তার লাশ ভর্তি করে ছাদে রেখে ঘুমিয়ে পড়ে।

ভৈরব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বাহালুল খান বাহার  দৈনিক তোলপাড়কে জানান, প্রাথমিক সুরৎহাল রিপোর্ট এবং জড়িতদের স্বীকারোক্তিতে নিশ্চিত বলা যায়, নিহত রূপককে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: