রবিবার, ১৮ অগাস্ট ২০১৯, ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন

ট্রাম্পকে অভিশংসনের জোর দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর মুলারের প্রথম প্রকাশ্য বিবৃতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে বিরোধী শিবিরে। ডেমোক্রেটিক পার্টির তিনজন জ্যেষ্ঠ নেতা রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করার দাবি তুলেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রুশ হস্তক্ষেপ অনুসন্ধানের বিশেষ কৌঁসুলি গত বুধবার বলেন, তার তদন্তে বিচার বাধাগ্রস্ত করার দায় থেকে মুক্তি দেওয়া হয়নি ট্রাম্পকে। যদিও ট্রাম্প তার বিপরীত বক্তব্য দিয়েছিলেন। মুলার আরও বলেন, দায়িত্বরত একজন প্রেসিডেন্টকে কোনো অপরাধে অভিযুক্ত করার ইচ্ছা ছিল না তার।

ট্রাম্পকে অভিশংসনের বিষয়টি নিয়ে বিভাজন দেখা দিয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টিতে। এ নিয়ে মার্কিন আইন সভা কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের স্পিকার ও সর্বজ্যেষ্ঠ ডেমোক্র্যাট ন্যান্সি পেলোসির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন দলটির বেশ কিছু আইন প্রণেতা। পেলোসি এখন পর্যন্ত অভিশংসনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার মত, এই চিন্তা ফলপ্রসূ হবে না।

মুলারের মন্তব্যে চাঙ্গা হয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্ভাব্য তিন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। এর মধ্য দিয়ে প্রার্থিতা ঘোষণা করা ২৩ জনের মধ্যে ১০ জনই অভিশংসনের দাবি তুললেন। বিশেষ কৌঁসুলির মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী কোরি বুকার, কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ড ও পিট বুটিগিগ প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে ট্রাম্পকে সরানোর কথা বলেছেন।

নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের সিনেটর বুকার বলেন, ‘অভিশংসন প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার আইনি ও নৈতিক বাধ্যবাধকতা আছে কংগ্রেসের।’ নিউ ইয়র্কের সিনেটর গিলিব্র্যান্ড বলেন, অভিশংসনের ওপর শুনানি শুরুর সময় এসেছে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের সামনে। শুনানির ভিত্তিতে তাদের সিদ্ধান্তে আসা উচিত। অন্যদিকে ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের মেয়র পিট বুটিগিগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে বলেন, ‘রবার্ট মুলার প্রেসিডেন্টকে বিদায় কিংবা অভিযুক্ত করতে পারতেন না। তাই তিনি বিষয়টি কংগ্রেসের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন, যেটি একাই সঠিক প্রক্রিয়া ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারে।’

ডেমোক্রেটিক পার্টির অন্য কয়েকজন সিনেটর ট্রাম্পকে অভিশংসনে আগেকার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর কমলা হ্যারিস বলেন, ‘এই প্রেসিডেন্টকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনার বিষয়টি কংগ্রেসের ওপর নির্ভর করছে। আমাদের উচিত অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করা।’ ভারমন্টের সিনেটর ও প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট বার্নি স্যান্ডার্স অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর কথা না বললেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে লেখেন, ‘হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের বিচারিক কমিটি দরকারি মনে করলে আমি তাদের অভিশংসন তদন্ত শুরুর সিদ্ধান্তকে সমর্থন দেব।

মুলারের বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেন, ‘ক্ষমতার অপব্যবহারের তদন্ত ও প্রেসিডেন্টকে দায়ী করতে কংগ্রেস পবিত্র সাংবিধানিক দায়িত্ব রাখে।’

বিশেষ কৌঁসুলির বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প টুইটে বলেন, তার বিরুদ্ধে প্রমাণ অপর্যাপ্ত। এ কারণে তিনি নির্দোষ। তিনি আরও বলেন, ‘ডেমোক্র্যাটদের অপরাধের জন্য রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টকে কীভাবে অভিশংসন করবেন? ডাইনি খোঁজা!’

কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের বিচারিক কমিটির সর্বজ্যেষ্ঠ রিপাবলিকান ডগ কলিন্স বলেন, বিশেষ কৌঁসুলির তথ্যের পর নতুন করে অনুসন্ধান দেশকে আরও বিভক্ত করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: