বুধবার, ২২ মে ২০১৯, ০৩:০১ অপরাহ্ন

ঘরবাঁধা হলো না তানিয়ার ॥ মায়ের পাশে চিরনিদ্রায়

শহীদুল ইসলাম পলাশ,
মা হালিমা খাতুন দীর্ঘদিন ক্যান্সারে আক্রান্ত থাকায় তার চিকিৎসার সিংহভাগ টাকাই দেয়া হতো তানিয়ার বেতন থেকে। পরিবারটি মার পিছনে ৮/৯ লাখ টাকা ব্যায় করেও শেষ পর্যন্ত মাকে বাচাঁতে পারলো না তানিয়া। গত চার মাস আগে তার মা মারা যায়। এতে পরিবারটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইবনে সিনা নার্সিং ইনস্টিটিউটে লেখা পড়া শেষ করে ভালো সেবিকা মনে করেই ২০১৭ সনে শাহিনুর আক্তার তানিয়াকে ওই হাসপাতালেই নার্স হিসেবে চাকরিতে নিয়োগ দিয়ে রেখে দেন ইবনেসিনা কর্তৃপক্ষ। তানিয়া ঢাকা কল্যাণপুরে তার বড় ভাই কফিল উদ্দিন সুমনের সাথেই একটি বাসাতে থাকতো। তানিয়ার ভাইয়েরা এবার সিদ্ধান্ত নিয়ে ছিলো চার ভাইদের রোজগার ও তানিয়ার বেতনের টাকা জমিয়ে বাড়িতে একটি আধাপাকা ঘর বাঁধবে। পরে দুই/একমাসের মধ্যেই তানিয়াকে জাকজমক করে বিয়ে দিবে। কিন্তু সে আশা কেড়ে নিলো ঘাতকরা। শেষ পর্যন্ত কটয়িাদী উপজলোর লোহাজুরী ইউনয়িনের বাহেরচর গ্রামে মায়ের কবরের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শোতে হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ মে) রাতে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের নিকট লাশ হস্তান্তর করার পর রাত সাড়ে ১১টায় বাহরেচর স্কুল মাঠে জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের পাশেরই তাকে দাফন করা হয়। নামাজে জানাজায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো.আতাহার উদ্দিন ভূঞা, পরিষদরে মেম্বারসহ সর্বসাধারণ অংশগ্রহণ করনে।
লোহাজুরী ইউনয়িন পরিষদের চেয়ারম্যান মো.আতাহার উদ্দিন ভূঞা বলেন, মাত্র চার মাস আগে তানিয়ার মা মারা গেলে, মায়ের শোক কাটতে না কাটতেই পুরো পরিবারকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে র্ববর ও নৃশংস হত্যাকা-ের শিকার হয়ে চির বিদায় নিতে হয়েছে তানিয়াকে। এ শোক বইবার শক্তি যেন হারিয়ে ফেলেছেন পিতা গিয়াস উদ্দিন এবং তানিয়ার ভাই বোনেরা।
চাচা মুর্শিদ মিয়া বলেন, চার ভাই দুই বোনের মধ্যে তানিয়া ছিলেন সবার ছোট। দুই বছর আগে ডিপ্লোমা নার্সিং শেষে করে চাকরি নিয়ে ছিলেন ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে। বড় বোনের শ্বশুরবাড়ি একই গ্রামে। ছোট এক ভাই স্থানীয় বাজারে ব্যবসা করেন। অন্য তিন ভাই ঢাকায় থাকেন। তাদের মধ্যে দুইজন ব্যবসা করেন। একজন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করেন (নার্স) ব্রাদার হিসেবে। এ ঘটনায় তছনছ হয়ে গেছে পরিবারটি। বোনকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছিল তা ভেঙ্গে চুমার হয়ে গেছে।
এদিকে পাশবিক এই হত্যাকা-রে ঘটনায় সর্বত্রই নিন্দার ঝড় বইছে। বুধবার বিকেলে কটিয়াদী উপজেলার মানিকখালী এবং বাজতিপুর উপজেলার পিরিজপুর বাজারে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করে মানববন্ধন করেছেন সাধারণ মানুষ।
বুধবার (৮ মে) সকালে কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান কেয়া ও জেলা মহিলা পরিষদের নেত্রীগন এবং নারী নেত্রী বিলকিস বেগমের নেতৃত্বে কিশোরগঞ্জের নারী নেত্রীর একটি দল শাহিনুর আক্তার তানিয়ার বাড়িতে গিয়ে শোক সন্তপ্ত পরিবারকে সান্তনা প্রদান করিন এবং এ নারকীয় হত্যাকান্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
এ দিকে মঙ্গলবার (৭ মে) রাতে নিহত শাহিনুর আক্তারের পিতা গিয়াস উদ্দিন বাদী হয়ে ড্রাইভার নূরুজ্জামান, হেলপার লালন মিয়া, হাসপাতালে আনয়নকারী আল আমিন এবং পিরিজপুর বাসস্ট্যান্ড পরিচালনাকারী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে নামোল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজনকে আসামি করে বাজিতপুর থানায় র্ধষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: