সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন

পহেলা বৈশাখ এলেই ভৈরবে স্মৃতির পাতায় ভেসে উঠে স্বজন হারানোর ব্যাথা

জয়নাল আবেদীন রিটন, ভৈরব প্রতিনিধি ॥
সারা দেশ যখন বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিতে আনন্দ উল্লাশে মাতোয়ারা তখন ভৈরবের পানাউল্লাহরচর গ্রামের মানুষের মাঝে নেেম আসে বিষাদের ছায়া। পহেলা বৈশাখ এলেই স্মৃতির পাতায় ভেসে উঠে তাদের স্বজন হারানোর ব্যাথা।

ভৈরবে প্রথম হানাদার বাহিনী পা রাখে ১৯৭১ সালের ১৪ এপ্রিল। সেদিন ছিল পহেলা বৈশাখ। সারাদেশে যুদ্ধের দামামা বাজলেও, বানিজ্যনগরী ভৈরবের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চলছিল ”হালখাতা” উৎসব পালনের প্রস্তুতি। হঠাৎ করে ভৈরবের আকাশে দেখা যায় চারটি জেট বিমান, একাধিক হেলিকপ্টার এবং স্থলপথে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপার নরসিংদীর রায়পুরার রামনগর ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে গানশিপ। পাকবাহিনী ওই এলাকা থেকে গানশিপ দিয়ে গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে ভৈরব শহরের দিকে অগ্রসর হয়। তখন পাকসেনা দেখে সাধারণ মানুষ প্রাণভয়ে পালাতে থাকে। এ সময় শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহরচরে খেয়াঘাটে হানাদার বাহিনীর নির্বিচার ব্রাশফায়ারে নিরস্ত্র অসহায় পাঁচশতাধিক নারী-পুরুষ, শিশু সেইদিন মৃত্যুবরন করেন। হানাদার বাহিনীর ভয়ে নিহতদের আত্মীয়-স্বজনরা লাশগুলিও দাফনও করতে পারেননি তখন। পরবর্তীতে লাশগুলো ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে গণকবর দেয়া হয়। স্বাধীনতা অর্জনের দীর্ঘ এ সময়ে দেশের ইতিহাসে অনেক উত্থান-পতন ঘটলেও, ভৈরবের মানুষ ভুলতে পারেনি সেদিনের সেই মর্মান্তিক গণহত্যার দিনটিকে। তাই প্রতি বছরের ১৪ই এপ্রিল ১লা বৈশাখকে ভৈরবের মানুষ ”গণহত্যাদিবস” হিসেবে আখ্যা দিয়ে শোক পালন করে। নানা আযোজনের মধ্যদিয়ে দিনটি পালন করছে ভৈরবে বাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: