বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন

সব সম্পত্তি ট্রাস্টকে দিলেন এরশাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তার সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি একটি ট্রাস্টকে দান করেছেন। রবিবার বিকেল চারটার দিকে বারিধারার বাসভবনে পাঁচ সদস্যের এই ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করেন তিনি। পরে লিখিতভাবে বোর্ডকে সম্পত্তি দান করেন।

বোর্ড গঠনের সময় উপস্থিত ছিলেন পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এস এম ফয়সল চিশতি। তিনি বলে, মূলত স্যার তার ছেলে এরিকের জন্যই এই বোর্ড গঠন করলেন। তিনি মারা যাওয়ার পর যেন এরিককে কারো দ্বারস্থ হতে না হয়, সে জন্য এই ব্যবস্থা স্যারের। স্যারের শারীরিক অবস্থাও ভালো না। কখন কী হয় তা বলা যায় না। সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই তিনি ট্রাস্ট করে সম্পত্তি ট্রাস্টকে দিলেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা বলেন, আমি খুব ব্যস্ত আছি। আগামীকাল (আজ সোমবার) কথা বলব।

ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা হলেন- হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, তার ছেলে এরিক এরশাদ, ব্যক্তিগত সহকারী মেজর (অব.) খালেদ আখতার, চাচাতো ভাই রংপুরের মুকুল ও এরশাদের পারসোনাল স্টাফ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর।

গত কয়েক দিন ধরেই জাপায় অস্থিরতা চলছে। গত ২২ মার্চ গভীর রাতে ছোট ভাই জি এম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান ও পরের দিন বিরোধী দলের উপনেতা থেকে বাদ দেন এরশাদ। উপনেতা করেন পার্টির আরেক কো-চেয়ারম্যান স্ত্রী রওশন এরশাদকে। দুই সপ্তাহ না পেরোতেই বৃহস্পতিবার রাতে পুনরায় কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয় জি এম কাদেরকে।

শনিবার সকালে অপর এক সাংগঠনিক নির্দেশে এরশাদ তার অবর্তমানে পার্টির চেয়ারম্যান হবেন জি এম কাদের এমন এক নির্দেশনাও গণমাধ্যমে পাঠান। এমন অবস্থার মধ্যেই রোববার ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করে সমস্ত সম্পত্তি দান করলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এরশাদের ঘনিষ্ঠ পার্টিও আরেক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বলেন, ট্রাস্টি বোর্ডে দান করা সম্পত্তির বর্ণনা দেননি এরশাদ। শুধু দানের কথা বলা হয়েছে। ফলে এরশাদের ঠিক কী পরিমাণ সম্পত্তি রয়েছে, তা জানা যায়নি।

পার্টির কয়েকজন নেতা  বলেন, গত জানুয়ারিতেও একবার এরশাদ তার সমস্ত সম্পত্তি ভাগ-বাটোয়ারা করে দিয়েছেন বলে আমরা শুনেছিলাম। তখন তার সম্পত্তির একটি বিবরণ ও কাকে কী সম্পত্তি দেওয়া হলো, এমন কথাও জানতে পেরেছিলাম আমরা।

‘তবে কী পরিমাণ সম্পত্তি এরশাদের রয়েছে, তা কেউ জানে না’- বলেন পার্টিও এক প্রেসিডিয়াম মেম্বার। তিনি বলেন, আমরা মুখে মুখে যেটুকু শুনি, সেটুকুই। স্যার নিজেও কোনো দিন এসব নিয়ে গল্প করেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: