বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন

কিশোরগঞ্জের লিপি তিন সপ্তাহ পর কথা বললেন

নিজস্ব প্রতিবেদক :
নিউজিল্যান্ডের বন্দুকধারী উগ্রবাদীর ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলায় গুলিতে আহত হওয়া কিশোরগঞ্জের তরুণী সাজেদা আক্তার লিপি’র শারীরিক অবস্থার এখন অনেকটাই উন্নতি দিকে। ঘটনার তিন সপ্তাহ পর শুক্রবার (৫ এপ্রিল) ভোরে তিনি কথা বলতে পেরেছেন। হামলার দিন ১৫ মার্চ থেকে লিপি ক্রাইস্টচার্চ হাসপাতালের আইসিইউতে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন।

হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, লিপি এখন কথা বলতে পারছেন। আশঙ্কামুক্ত হলেও তিনি কখনো হাঁটতে পারবেন না। হুইল চেয়ারে করে তাকে চলাফেরা করতে হবে।

নিউজিল্যান্ডে থাকা সাজেদা আক্তার লিপি’র দেবর খোকন মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

খোকন মিয়া বলেন, তিন সপ্তাহ পর ভাবি আজ (শুক্রবার) কথা বলতে পেরেছেন। কিন্তু ডাক্তার বলছেন, তিনি কখনও হাঁটতে পারবেন না।

খোকন মিয়া খোঁজখবর নেয়ার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ দোয়া চেয়েছেন।

গত ১৫ই মার্চ জুমআর নামাজ আদায় করতে এক গাড়িতেই ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে গিয়েছিলেন স্বামী-স্ত্রী। বন্দুক হামলার সময় অলৌকিকভাবে রক্ষা পান স্বামী মাসুদ মিয়া। কিন্তু ঘাতকের বুলেটে এফোড় ওফোড় হন সাজেদা আক্তার লিপি (২৫)। বন্দুক হামলায় আহতদের মধ্যে সবচেয়ে সংকটজনক অবস্থায় ছিলেন বাংলাদেশী এই তরুণী।

সেন্ট্রাল ক্রাইস্টচার্চের মসজিদ আল নূর থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরত্বে বসবাস করেন এই বাংলাদেশী দম্পতি। মাসুদ মিয়া বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের দক্ষিণ অষ্টঘড়িয়া গ্রামের হাজী জালাল উদ্দিনের ছেলে।

হাজী জালাল উদ্দিনের তিন ছেলেই নিউজিল্যান্ড প্রবাসী। ৮/৯ বছর আগে বড় ছেলে নজরুল ইসলাম প্রথমে নিউজিল্যান্ড যান। পরবর্তিতে বছর পাঁচেক আগে ছোট দুই ভাই মাসুদ মিয়া ও খোকন মিয়াকে তিনি নিউজিল্যান্ডে নিয়ে যান।

ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে নিউজিল্যান্ডে যাওয়া মাসুদ মিয়া কাজ করেন একটি কারিগরি প্রতিষ্ঠানে। বছর দু’য়েক আগে স্ত্রী সাজেদা আক্তার লিপিকে তিনি নিউজিল্যান্ডে নিয়ে যান। সাজেদা আক্তার লিপি পার্শ্ববর্তী পাকুন্দিয়া উপজেলার কোদালিয়া গ্রামের গোলাপ মিয়ার মেয়ে।

নিউজিল্যান্ডে থাকা মাসুদ মিয়ার ছোট ভাই খোকন মিয়া জানান, গত ১৫ মার্চ জুমআর নামাজ আদায় করতে স্বামী মাসুদ মিয়ার সাথে গাড়িতে করে ক্রাইস্টচার্চের মসজিদ আল নূরে গিয়েছিলেন সাজেদা আক্তার লিপি। মসজিদের সামনে লিপিকে গাড়ি থেকে নামিয়ে গাড়িটি ঠিকভাবে পার্ক করতে যান মাসুদ। ঠিক এই সময়টিতেই ঘটে বন্দুক হামলার ঘটনা।

ভাগ্যক্রমে মাসুদ মিয়া নিরাপদ দূরত্বে চলে যেতে পারলেও, কোন সুযোগ পাননি লিপি। দৌড়ে আত্মরক্ষা করতে গিয়েও পারেননি। বন্দুকধারী উগ্রবাদীর দু’টি বুলেটের মধ্যে পিঠে লাগা একটি বুলেটে এফোড় ওফোড় লিপি লুটিয়ে পড়েন মসজিদের ফ্লোরে।

গুলিবৃষ্টির তাণ্ডব শেষে মাসুদ মিয়া হন্যে হয়ে খুঁজেও পাননি লিপিকে। পরে তারা হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, লিপিকে ক্রাইস্টচার্চ হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়েছে। দু’দফা অস্ত্রোপচারের পর সাজেদা আক্তার লিপির শরীর থেকে একটি বুলেট বের করেন চিকিৎসকরা। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আর্দার্নও হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ নেন।

এদিকে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা লিপি’র কথা বলতে পারার খবরে স্বস্তি ফিরে এসেছে দেশে থাকা স্বজনদের মাঝে। তার সম্পূর্ণ সুস্থতার জন্য আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: