মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন

ইউপি উপজেলা এবং পৌরসভা সহ স্হানীয় সরকার নির্বাচনে আর দলীয় প্রতীক নয়

ডেস্ক রিপোর্ট।। পিছু হটছে আওয়ামী লীগ, আজ কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক আলোচনায় কেন্দ্রীয় ও জেলা-উপজেলা সম্মেলন, বিদ্রোহীদের মদদদাতা এমপি-মন্ত্রী নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
রফিকুল ইসলাম রনি

উপজেলা নির্বাচনের ‘তিক্ত অভিজ্ঞতায়’ স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না করার বিষয়ে ভাবছে আওয়ামী লীগ। উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী চূড়ান্ত করা এবং বিদ্রোহীদের সামাল দেওয়া, ব্যক্তির বিরোধিতা করতে গিয়ে ‘নৌকাবিরোধী’ অবস্থানের কারণেই স্থানীয় সরকারে দলীয় নির্বাচন থেকে পিছু হটছে ক্ষমতাসীন দলটি।

আজ গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন থেকে সরে আসার ব্যাপারে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হতে পারে। একই সঙ্গে পৌরসভায় মেয়রের পরিবর্তে চেয়ারম্যান পদে ফিরে যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

দলের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে। দলীয় সিদ্ধান্ত হলে এ মাসেই অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আইন পাস করার প্রস্তাব করা হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। দলীয় সূত্র জানায়, আজ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক থেকে কিছু সিদ্ধান্ত হতে পারে।

এর মধ্যে রয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থেকে সরে আসা, আগামী অক্টোবরে জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে বিভিন্ন উপ-কমিটি গঠন, মেয়াদ উত্তীর্ণ জেলা, মহানগর ও উপজেলা কমিটির সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা প্রভৃতি। এছাড়া কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সফরের টিম চূড়ান্ত করা, উপজেলায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের মদদদাতা এমপি-মন্ত্রী ও নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, দলীয় পদে থেকে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন তারা স্বপদে থাকবেন কিনা বা আগামীতে কোনো পদে আনা হবে কিনা সেসব বিষয়েও সিদ্ধান্ত হতে পারে আজ। এতে মেয়াদ উত্তীর্ণ সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনের ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত আসতে পারে। বিকাল ৫টায় গণভবনে ওই বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করবেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচনের অভিজ্ঞতার আলোকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থেকে সরে আসার পক্ষে মনোভাব দেখিয়েছেন দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মাত্র তিন মাস আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেখানে ৮০ ভাগ ভোটে পড়েছে এবং নৌকার প্রার্থীরা নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে, সেখানে উপজেলায় ভোটার উপস্থিতি হতাশ করেছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ব্যক্তির বিরোধিতা করতে গিয়ে ‘নৌকার বিরোধিতা’ নির্বাচনের জন্য সুখকর নয়। আবার বিদ্রোহীদের বহিষ্কার, প্রার্থী চূড়ান্তকরণসহ নানা কারণে স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থেকে সরে আসার চিন্তা-ভাবনা চলছে। আজ শুক্রবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। জানা গেছে, গত ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, সিটি ও পৌরসভার মেয়র এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার আইন পাস করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: