বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন

নতুন রূপে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতকে বিশ্বমানের পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। দর্শনার্থীদের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে নতুন রূপে সাজানো হয়েছে সমুদ্রের তীর। যেখানে পর্যটকদের হাঁটার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে। তীরজুড়ে করা হয়েছে ফুলের বাগান। দর্শনার্থীদের জন্য বসানো হয়েছে ছোট ছোট বিশ্রাম চেয়ার এবং রঙ-বেরঙের পাথর। চলছে শিশুদের জন্য রাইড নির্মাণের কাজ। সব মিলিয়ে আধুনিকতা ও নান্দনিকতার ছোঁয়ায় নতুন রূপে সাজছে পতেঙ্গা সৈকত।

বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সৈকতজুড়ে করা হয়েছে শত কোটি টাকার উন্নয়ন। প্রকৃতিপ্রেমীরা প্রাত্যহিক ব্যস্ততা থেকে একটু ফুরসত পেতে এখানটায় এসে বঙ্গোপসাগরের সৌন্দর্য উপভোগ করছে দীর্ঘদিন যাবৎ। সমুদ্রের বিশালতা দেশ-বিদেশের সব শ্রেণির মানুষ যাতে সহজেই উপভোগ করতে পারে সেই লক্ষ্যেই সিডিএ এটাকে অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়াসী হয়েছে। এ ব্যাপারে সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত ব্যবহার করে আসছি আমরা। কিন্তু বিনোদনের পর্যাপ্ত উপাদান ছিল না। বর্তমানে সেই শূন্যতা পূরণ হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য, আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধাসহ পতেঙ্গাকে একটি বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। সেই অনুযায়ী কাজ চলছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে পতেঙ্গাকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসংবলিত পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে চট্টগ্রামের এবং বাইরের মানুষ দেখবে।

সিডিএ চেয়ারম্যান আরও বলেন, ৫ কিলোমিটারেরও বেশি ওয়াকওয়েতে একসঙ্গে ৫০ হাজার মানুষ হাঁটতে পারবে। এলাকাটিকে দুটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। জোন ওয়ান ও জোন টু। জোন ওয়ান হচ্ছে সমুদ্র সৈকত। জোন টু হচ্ছে পাঁচ কিলোমিটার শেষে রিং রোড। সেখান থেকে আসা-যাওয়া করার জন্য ক্যাবল কারের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া পর্যায়ক্রমে ফাইভ স্টার হোটেল, কনভেনশন হল, শপিং মলসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাসংবলিত এলাকা গড়ে তোলা হবে।

সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক কাজী হাসান বিন শামস বলেন, আমরা খুব দ্রুত কাজ করছি। ইতোমধ্যে জোন ওয়ান জনসাধারণের জন্য বিনোদনের উপযোগী করে তুলেছি। জোন ওয়ানের মধ্যে ৩০ ফিটের সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে রয়েছে। এছাড়া এ জোনে একটি বিশাল প্লাজা থাকবে। ৭০০ গাড়ি রাখার জন্য পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। গাড়ি পার্কিংয়ের রাস্তাটি হবে টানেল এবং বিচ রোডের মাঝামাঝি। এখন বিচের প্রধান সড়ক যেটি আছে, সেটিকে ৮০ ফিট প্রশস্ত করা হচ্ছে। এ রোড দিয়ে মূলত সব গাড়ি প্রবেশ করবে এবং বের হবে। বিচ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য টিকিটের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

তিনি আরও বলেন, বিচ এলাকায় ছোট ও বড়দের জন্য বিভিন্ন রাইড থাকবে। শিশুদের জন্য কিছু সিম্পল রাইড থাকবে। এছাড়া সাড়ে ওয়াকওয়ের ওপরে ক্যাবল কার থাকবে। এ প্রজেক্টের জন্য বর্তমানে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে। জোন ওয়ানের কাজ শেষ করতে আরও প্রায় ২০ কোটি টাকা লাগবে।

বুধবার বিকালে সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন রূপে সাজা পতেঙ্গা সৈকতকে দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়। সরকারি ছুটির দিনগুলোতে এখানে থাকে উপচেপড়া ভিড়। পরিবার-পরিজন, বন্ধু ও প্রিয় মানুষকে নিয়ে দর্শনার্থীরা চষে বেড়াচ্ছে আধুনিক পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে। দর্শনার্থীদের কেউ হাঁটছেন, কেউ বিশ্রাম নিচ্ছেন, কেউবা বাগানে ফোটা ফুলের ঘ্রাণে মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করছেন সমুদ্রের বিশালতা। এ চিত্র এখন নিত্যদিনের।

সৈকতের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে জানিয়ে পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উৎপল বড়ুয়া বলেন, উন্মুক্ত হওয়ার পর থেকে সৈকতে আসা জনসাধারণের নিরাপত্তায় প্রতিদিন পুলিশের একটি টিম ডিউটিতে থাকে। এছাড়া থানা পুলিশের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ ও বিচ কমিউনিটি পুলিশ কাজ করে। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে অতিরিক্ত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে সাদা পোশাকে ডিউটি ও ফোর্সের সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়া হয় বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: