শনিবার, ১৭ অগাস্ট ২০১৯, ০৮:৫২ অপরাহ্ন

হয়নি মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা-স্বাধীনতাবিরোধীদেরও নিষিদ্ধ করতে হবে

সম্পাদকীয়:
দেশ স্বাধীনতার ৪৯ বছরে পদার্পণ করলেও এখনো মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ পায়নি। দেশের জন্য যারা রক্ত-জীবন দান করল তাদের তালিকা না থাকাটা বেদনাদায়ক। একদিকে অনেক মুক্তিযোদ্ধা রয়ে গেছে তালিকার বাইরে অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতাবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকা চক্রের অনেক সদস্য ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ সেজে দেশের মাটিতে নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি রাষ্ট্র পরিচালনায় আসার পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারসহ শাস্তি নিশ্চিত করা হলেও সরাসরি স্বাধীনতার বিরোধিতা করা দলটিকে নিষিদ্ধ করা সম্ভব হয়নি।

খোলা কাগজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালতে মামলা চলমান থাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। স্বাধীনতা লাভের পর এতগুলো বছরে মোট ৬ বার মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা সংযোজন-বিয়োজন এবং ১১ বার তাদের বয়স, মানদণ্ড ও সংজ্ঞা পাল্টেছে। দুঃখজনক হলো, আমাদের দেশের গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকার পরিবর্তন হলেই মুক্তিযোদ্ধার তালিকা পরিবর্তন হয়। অনেক ক্ষেত্রে বেড়ে যায় সংখ্যা, যোগ হয় ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’। আবার তালিকায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার নাম না থাকার খবরও প্রকাশ পায়। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধকালীন স্বাধীনতার বিপক্ষে থাকা একটি ধর্মীয়-রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল হলেও আদালতে মামলা চলমান থাকায় নিষিদ্ধের বিষয়টি ঝুলেই আছে।

বলা বাহুল্য, টানা তৃতীয়বারে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ ঢাকঢোল পিটিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা পূর্ণাঙ্গ করতে চাইলেও ব্যাপক অনিয়মের কারণে তা হয়নি। কোটি কোটি টাকা খরচ করার পরও এবার স্বাধীনতা দিবসে ২ লাখ মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রকাশের ঘোষণা থাকলেও সরকার তা করতে পারেনি। এটি অবশ্যই আমাদের ব্যর্থতা। মূলত, সরকার কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধাদের প্রদেয় সুযোগ-সুবিধার লোভে একশ্রেণির দুর্নীতিপরায়ণ গোষ্ঠী পূর্ণাঙ্গ মুক্তিযোদ্ধার তালিকা নিয়ে তৈরি করেছে বিরূপ পরিস্থিতি। পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দল দীর্ঘ সময় দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকলেও নিষিদ্ধ করতে পারেনি জামায়াতে ইসলামীকে।

আমরা বলতে চাই, এ দেশ রক্ষায় যাদের সর্বোচ্চ অবদান তাদের তালিকা নিয়ে হেলাফেলা বা বিলম্ব অপ্রত্যাশিত। দেশের জন্য যারা রক্ত-জীবন দান করল তাদের একজনকেও অবহেলা বা তালিকার বাইরে রাখা সমীচীন নয়। তাই আর দেরি না করে মামলা সুরাহার মাধ্যমে শিগগিরই মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। আশা করি, সরকারের মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে বিশেষ নজরদারি চালাবে। সেই সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী সংগঠন জামায়াতে ইসলামীকে যত দ্রুত সম্ভব নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। দেশের মাটিকে পবিত্র রাখতে হলে মুক্তিযোদ্ধার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ এবং জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার বিকল্প নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: