মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৫:৫৯ অপরাহ্ন

বিএনপির বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি চান আ.লীগ প্রার্থীরা

পাভেল হায়দার চৌধুরী :
ভোটারবিহীন ভোটকেন্দ্র যেন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হতে যাচ্ছে। চলমান পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। কারণ স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনের প্রথম ধাপে ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম ছিল, গতকাল সোমবার দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল আরও কম। আশঙ্কা করা হচ্ছে, পঞ্চম ও শেষ ধাপের নির্বাচনে হয়তো কোনো ভোটারই ভোটকেন্দ্রে যাবে না। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা এমন পরিস্থিতির জন্য বিএনপির নির্বাচন বর্জন করাকে দায়ী করছেন। আর নির্বাচনে দলটির প্রার্থীরা বলছেন, যতদিন বিএনপির বাইরে শক্তিশালী রাজনৈতিক দলের উত্থান হবে না ততদিন এ অবস্থারও উত্তরণ ঘটবে না। তাদের যুক্তি, বিএনপি ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে ঘরে বসে থাকায় এমন পরিস্থিতি হয়েছে। যেখানে ভোট কারচুপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ লড়াই সংগ্রাম করে আসছে।

উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন এমন কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপে আরও জানান, ’৭৫-পরবর্তী দুর্দিনে আওয়ামী লীগ রাজনীতি করেছে। পাড়া-মহল্লায় গিয়ে ঘরে ঘরে গিয়ে কর্মী সংগঠিত করেছে। আওয়ামী লীগ কিন্তু থেমে থাকেনি। নৌকার প্রার্থীরা আরও বলেন, বিএনপির ঘরে বসে থাকার রাজনীতি যতদিন চলবে ততদিন ভোটের এই চিত্র পাল্টানোর সম্ভাবনা খুবই কম।

গতকাল দ্বিতীয় ধাপের ভোট নিয়ে দেশ রূপান্তরের ব্যুরো অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যমতে, ভোট শুরুর দুই-তিন ঘণ্টা পর্যন্ত একটি কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ১৪টি মাত্র। আরেকটি কেন্দ্রে পড়েছে ২৪টি। একটি কেন্দ্রে সারা দিনে পড়েছে মাত্র ৪১ ভোট। কোথাও কোথাও ভোটার উপস্থিতির চিত্র এতই হতাশাজনক ছিল যে, ভোট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সারা দিনই অলস সময় কাটিয়েছেন।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ক্ষমতাসীন দলের টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী মোজহারুল ইসলাম তালুকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নৌকার প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত জেনে ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম থাকে। তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শক্ত না থাকায় নৌকার প্রার্থীরা যেমন জোর প্রচারে নেই, তেমনি আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরাও ভোটকেন্দ্রে যেতেই হবেÑ তা মনে করে না। আবার বিএনপি নির্বাচনে না থাকায় তাদের ভোটাররা কেন্দ্রে যায় না। সব মিলে ভোটারের এমন চিত্র হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় নৌকার প্রার্থী মোজাহেদুর রহমান বলেন, ভোটকেন্দ্রে ভোটার না যাওয়ার অন্যতম কারণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা একেবারেই নেই। এই অবস্থায় প্রার্থী হিসেবে আমাদেরও খারাপ লাগে। কিন্তু এর দায় মূলত বিএনপির। তিনি বলেন, ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে বিএনপি ভোট বর্জন করবে, ঘরে বসে থাকবেÑ এটা কোনো রাজনৈতিক দলের রাজনীতি হতে পারে না। ’৭৫-পরবর্তী অবস্থায় আওয়ামী লীগ কিন্তু ঘরে বসে থাকেনি। সবসময় জনগণের সঙ্গে থাকার চেষ্টা করেছে। মোজাহেদুর রহমান প্রশ্ন রেখে বলেন, বিএনপিকে জনগণের সঙ্গে থাকতে দেখেছেন? ভোট কারচুপি নিয়ে অভিযোগ ছাড়া কোনো কর্মসূচি ছিল তাদের? তিনি বলেন, নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ছাড়া চলমান পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটবে না। তার মতে, ভোটকেন্দ্রে ভোটার না যাওয়ার তিনটি কারণ। সেগুলো হলো বিএনপি ভোট বর্জন করায় বিএনপির ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যায় না, দলীয় প্রার্থী জিতে যাবে নিশ্চিত ধরে আওয়ামী লীগের ভোটারও ভোটকেন্দ্রে যায় না। আর প্রার্থীরাও এমনটা মনে করে সাধারণ ভোটারদের দরজায় যাচ্ছে না। তাই ভোটার উপস্থিতির চিত্র এমনই হওয়ার কথা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নৌকার প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিএনপির মতো সংগঠন ভোটে না থাকায়, প্রার্থী হিসেবে আমরাও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী মাঠে আছে বলে মনে করি না। ফলে ভোটারদের কাছে যেমন যাওয়া হয় না তেমনি ভোটাররাও ভোট দিতে কেন্দ্রে আসতেই হবেÑ তা মনে করে না। তবে তিনি বলেন, ২৪ মার্চ আমার উপজেলায় ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যাবে। জমজমাট নির্বাচন হবে।

ভৈরব উপজেলায় নৌকার প্রার্থী সাইদুল্লাহ মিয়া বলেন, এই পর্যন্ত যেসব উপজেলায় নির্বাচন হয়েছে, কেন ভোটার উপস্থিতি নেই তা সবারই জানা। তবে ২৪ মার্চ আমার উপজেলায় ভোটার উপস্থিতি ঘটবে।

কয়েকটি উপজেলায় নৌকার প্রার্থীদের সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার পেছনে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে না যাওয়াসহ নতুন কিছু তথ্য পাওয়া গেলেও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা পুরনো যুক্তিই দেখিয়ে যাচ্ছেন। বলছেন, বিএনপির ভোট বর্জন, শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা এসব না থাকায় ভোটকেন্দ্রে ভোটার যাচ্ছে না। ভোটার বাড়াতে আওয়ামী লীগ নানামুখী কৌশল নিয়েছে বলে দাবি করেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এরপরও সুফল না পাওয়ায় কিছুটা হতাশাও নেমে এসেছে তাদের মধ্যে। প্রকাশ্যে তা স্বীকার না করলেও ঘরোয়া আলোচনায় বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করছেন তারা। কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ পরিস্থিতির উত্তরণ আওয়ামী লীগ চায়। কিন্তু এর রাস্তা বের করাই দায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category
themesbatulpar4545
%d bloggers like this: