নিজস্ব প্রতিবেদক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রাথমিক ধাপ শেষ হওয়ার পর আজ সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত রোববার বিকেল ৫টায় সারা দেশে তিনশ সংসদীয় আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শেষ হয়, যেখানে মোট ১ হাজার ৮৪২টি মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষিত হয়েছে এবং বিভিন্ন আইনি ত্রুটির কারণে ৭২৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। যেসব প্রার্থী প্রাথমিক বাছাইয়ে অযোগ্য বিবেচিত হয়েছেন কিংবা যাদের মনোনয়নপত্র নিয়ে কোনো পক্ষের আপত্তি রয়েছে, তারা আজ থেকে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে গিয়ে আপিল দায়ের করতে পারবেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতিমধ্যে অঞ্চল ভিত্তিক ১০টি বিশেষ বুথ স্থাপন করেছে যাতে প্রার্থীরা সুশৃঙ্খলভাবে তাদের আবেদন জমা দিতে পারেন।
নির্বাচন কমিশনের তফশিল অনুযায়ী, ৯ জানুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই আপিল প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। প্রার্থী নিজে অথবা তাঁর পক্ষে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান কিংবা প্রার্থীর লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো প্রতিনিধি এই আপিল দায়ের করতে পারবেন। বিশেষ করে ঋণখেলাপি, কর ফাঁকি বা তথ্যে অসংগতির কারণে যারা বাদ পড়েছেন, তাদের জন্য এই আপিল প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি আবেদনের বিপরীতে কমিশন বিস্তারিত শুনানি গ্রহণ করবে এবং নথিপত্র পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করবে।
আপিল আবেদনসমূহ গ্রহণের পর ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে সেগুলোর নিষ্পত্তি করবে নির্বাচন কমিশন। শুনানির মাধ্যমে যারা তাঁদের প্রার্থিতার বৈধতা ফিরে পাবেন, তাঁরা নির্বাচনী লড়াইয়ে পুনরায় যুক্ত হতে পারবেন। অন্যদিকে কমিশনের সিদ্ধান্তে কেউ সন্তুষ্ট না হলে পরবর্তীতে উচ্চ আদালতেও যাওয়ার সুযোগ থাকবে। উল্লেখ্য যে, আগামী ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় নামতে পারবেন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশাল নির্বাচনী যজ্ঞের প্রস্তুতিতে এখন নির্বাচন ভবন মুখরিত হয়ে উঠেছে। মূলত একটি অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই আপিল শুনানির এই দীর্ঘ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।


















