FaceBook twitter Google plus utube RSS Feed
  

১১ অক্টোবর, ২০১৪ - ৬:২১ অপরাহ্ণ

► জিনকে গাছ থেকে নামাতে সেনা, পুলিশ ও দমকল বাহিনী মোতায়েন !

x

জিন

তোলপাড় ডেস্ক ►
রাত হলেই সাভারের মায়েরা নাকি তাদের বাচ্চাদের সেই জিনের ভয় দেখিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিতেন। অবশেষে সেই জিন গাছ থেকে নেমে এসেছে। তবে সময় গেছে সারারাত। আর নাস্তানাবুদ হয়ে গেছেন সেনাবাহিনী, পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্যরা। জিন পরিচয়ে এক নারী এতদিন ঘুরে বেরিয়েছেন গাছে গাছে। এমনকি সামরিক বাহিনীর নিরাপত্তা ভেঙ্গে সবার অগোচরে বাস করে আসছিলেন সামরিক খামারের একটি গাছে। কেরামত আলী নামের একজন ঐ গাছে নিচ দিয়ে যাবার সময় ঘটে ঘটনার সূত্রপাত।
ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকা সাভারে। এ যেন এক ভৌতিক কাহিনী। গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে সাভারের সামরিক খামারের একটি গাছের নিচ দিয়ে রাস্তা অতিক্রম করার সময় গাছের ওপর থেকে নারীকণ্ঠ শুনেই চমকে যান কেরামত আলী। তিনি বলেন, গল্পে অনেক ভূত-প্রেতের কথা শুনেছি। মনে হচ্ছিল বাস্তবে আমিও ভূতের পাল্লায় পড়েছি।
কেরামত আলী বলেন, মনে মনে আমি আল্লাহকে ডাকতে থাকি, আর জোর কদমে পা চালাই। যতই পায়ের জোর বাড়ে ততই যেন কাছে আসে নারীর কণ্ঠস্বর। ভাবছি এই বুঝি আমাকে ধরে ফেলল। দৌড়ে কোনোমতে রেডিও কলোনির কাছাকাছি পৌঁছে বিষয়টি নিকটজনদের জানাই। এরপর এ-কান ও-কান হয়ে প্রশাসন পর্যন্ত গড়ায়। জিন-মানবী নিয়ে এমনই লোমহর্ষক কাহিনী উঠে এসেছে ।
কেরামত আলী বলেন, পরে আরেক পথচারীর একই অভিজ্ঞতার খবর শুনে প্রথমে পুলিশ, পরে দমকল বাহিনীকে খবর দেন। পরে সেনাসদস্যরাও যান ঘটনাস্থলে মোতায়েন হয়েছে। টর্চের আলোতে দেখেন এক নারী বসে আছেন গাছের মগডালে। আর তাকে নিচে নামিয়ে আনতে শুরু হয় প্রশাসনের তৎপরতা। সেনা, পুলিশ ও দমকল বাহিনীর লাগাতার চেষ্টা এবং ঘাড় মটকানোর হুমকি
সাভার মডেল থানার ওসি মোস্তফা কামাল সাংবাদিকদের জানান, গেছো-মানবীর খবর পেয়ে রাত ৯টায় ঘটনাস্থলে পুলিশ নিয়ে যাই আমরা। তাকে গাছ থেকে নামানোর চেষ্টা করলে তিনি ঘাড় মটকে দেবেন বলে হুমকি দেন। তাকে ধরতে গেলে তিনি গাছ থেকে লাফিয়ে মরে যাবেন এরকম ভয় দেখাতে থাকেন। হাজার হোক একজন নারী। এই অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে আমরা তাকে উদ্ধারের জন্য খবর দেই ফায়ার ব্রিগেডে। সাইরেন বাজিয়ে তারা আসতে না আসতেই সেখানে চলে আসেন ঊর্ধ্বতন সেনাকর্মকর্তারা। স্থানটি সেনানিবাস এলাকা হওয়ায় বিব্রত হন সেনাসদস্যরা। কীভাবে ওই নারী নিরাপত্তাব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে সেনানিবাস এলাকায় প্রবেশ করে একটি গাছে রাতযাপন করেন, সে ব্যাপারে অনুসন্ধান শুরু করেন তারা। এতে দায়িত্ব পালনে নিরাপত্তাকর্মীদের কারো গাফিলতি থাকলে তার ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সেনাকর্মকর্তা।
ভূত পরিচয় থেকে রক্ষা
শুধু কি এই জিনের শিকার কেরামত আলী? না। অনেকেই পড়েছেন এই জিনের পাল্লায়। কেউ জানতই না তিনি জিন না, একজন মানুষ। মঞ্জিল হোসেন নামের একজন যখন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তখন সবার ভুল ভাঙ্গে। তিনি রক্ষা পান জিন পরিচয় থেকে।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে মঞ্জিল হোসেন বলেন, গাছ থেকে ভূত নামানোর খবর শুনেই আমি ছুটে যাই সামরিক খামারে। আমার মায়ের নাম আমেনা (৪৫)। সময় হলে তিনি নিজের ইচ্ছায় গাছ থেকে নেমে আসবেন।
দারিদ্র্যর কারণে মাকে জিন হিসেবে মেনে নেয়া
মঞ্জিল হোসেন বলেন, আমরা জানতাম মা দীর্ঘদিন ধরেই রাতে গাছে বসবাস করেন। তবে চক্ষুলজ্জায় বিষয়টি আমরা কাউকে প্রকাশ করিনি এত দিন। প্রায় দিনই গাছে রাতযাপন করছেন আমার মা। এক বেলায় গাছে উঠলে পরের বেলায় নির্দিষ্ট সময়ে নেমে আসেন তিনি। আমরা প্রথম প্রথম খোঁজ নিতাম। গাছে গাছে টর্চ লাগিয়ে মাকে খুঁজতাম। এখন বিষয়টি গা সওয়া হয়ে গেছে। তিনি আরো জানান, অনেকে বলেছে এটা নাকি মানসিক ব্যাধি। আধুনিক চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য আমাদের নেই। কবিরাজের শরণাপন্ন হয়েছি, তাবিজ-কবজ দিয়েছি। কিন্তু তিনি এখনো জিনের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারেননি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের আধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম জানান, এ ধরনের রোগী সাধারণত সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত। তারা মানসিক বিভ্রাট ও হ্যালোসিনেশনে ভোগে।
আমেনার মেয়ে রুবিনা বেগম বলেন, বিকেল ৩টা নাগাদ ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়েন মা। একপর্যায়ে আমাদের চোখকে ফাঁকি দিয়েই উধাও হয়ে যান মা। পরে রাতে আবিষ্কার করি গাছের মগডালে রয়েছেন তিনি।
রাতে টহলে থাকা এক পুলিশ সদস্য জানান, সব চেষ্টা ব্যর্থ হলে আমরা নিজেরা একপর্যায়ে পদক্ষেপ নেই ওই নারীকে গাছ থেকে নামিয়ে আনতে। একজন গাছে ওঠা মাত্রই প্রচণ্ড শক্তিতে তিনি গাছে ঝাঁকুনি দিতে থাকেন। শেষে ভোরে উপস্থিত অনেকের চোখকে কপালে তুলে শান্ত আর স্বাভাবিকভাবে গাছ থেকে নেমে আসেন গেছো-মানবী। এর পর ছেলে আর মেয়ের হাত ধরেই বাড়ির পথে হাঁটা দেন তিনি।

print