FaceBook twitter Google plus utube RSS Feed
  

৯ নভেম্বর, ২০১৪ - ৬:৫৬ অপরাহ্ণ

►ভৈরবে নেশার আরেক নাম ঘুমের ঔষধ

x

1 ghum tab

মো: জয়নাল আবেদীন রিটন.ভৈরব থেকে ► ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা, মদের পাশাপাশি এবার নেশার রাজ্যে যুক্ত হয়েছে ঘুমের ট্যাবলেট। বিভিন্ন ধরণের ঘুমের ট্যাবলেট মাদক সেবীদের কাছে প্রিয় হয়ে উঠছে। মাদকদ্রব্যের অতিরিক্ত মূল্যের কারণে এবং পুলিশ ও আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর তৎপরতার ফলে মাদক সেবীরা ঝুঁকে পড়েছে বিভিন্ন ফার্মেসীর কোম্পানীর ঘুমের ট্যাবলেটের দিকে। হাত বাড়ালেই যে কোন ঔষুধের ফার্মেসী থেকে অনায়াসে মিলছে ঘুমের ট্যাবলেট। প্রতিটি এলাকায় লাইসেন্সবিহীন এবং লাইসেন্সধারী ফার্মেসীতে বিক্রি হচ্ছে ঘুমের ট্যাবলেট। মুদি দোকানেও পাওয়া যাচ্ছে ঘুমের ট্যাবলেট। সরকারী নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন নামী দামী কোম্পানীর ঘুমের ট্যাবলেট ভৈরবের বিভিন্ন এলাকায় সয়লাব। উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজার অলিগুলিতে গড়ে ওঠা পাইকারী ঔষুধের দোকানগুলোতেও প্রায় প্রতিদিনই অন্যান্য ঔষুধের চেয়ে ঘুমের ট্যাবলেট বিক্রি হচ্ছে বেশি। প্রতিদিন গড়ে বিভিন্ন এলাকায় এক থেকে দেড় লাখ পিছ বিভিন্ন কোম্পানীর ঘুমের ট্যাবলেট বিক্রি হচ্ছে। এমন অনেক ফার্মেসী আছে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১৫ পেকেট ঘুমের ট্যাবলেট বিক্রি করতে দেখা গেছে। সরকারি নিয়মনীতিমালায় যে কোন ঔষধ, ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া বিক্রি করা নিষেধ থাকলেও এলাকার পল্লী চিকিৎসক নামে ড্রাগ লাইসেন্স বিহীন শত শত ঔষুধের দোকান, ঘুমের ঔষধ বিক্রি করতে দেখা গেছে। এসব ফার্মেসী সরকারের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র শুধু টাকার বিনিময়েই বিক্রি করছে। নেশার উদ্দেশ্যে সেবনে আসক্ত ব্যক্তিরা তা ক্রয় করে সেবন করছে। এসব ঔষুধ খেয়ে প্রতিদিন শত শত তরুণ-তরুণীর জীবন ধ্বংস করছে। ঘুমের ট্যাবলেট বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রীর সঙ্গে মিশিয়ে সাধারণ মানুষকে সেবন করিয়ে লুটে নিচ্ছে সর্বস্ব। নিভিয়ে দিচ্ছে জীবন প্রদীপ। অথচ এসব ঔষধ গুরুতর অসুস্থ্য, দুর্ঘটনার আহত ও দুশ্চিন্তাগ্রস্থ লোকজনের ঘুমের ব্যাঘাত ঠেকাতে উৎপাদন ও বাজার জাত করছে। ঔষধ কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধিরা এসব ঔষধ ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া বিক্রি নিষিদ্ধ হলেও অতি মুনাফার আশায় বিক্রি করছে। ঘুমের ট্যাবলেটের মধ্যে রয়েছে স্কয়ার কোম্পানীর লাইজন এএমজি, সেডিল ৫এমজি, ট্রাইপট্রিন ১০/২৫এমপি, ডরমিটল ৭.৫/১৫ এমজি, রেডিএন্ট কোম্পানীর এবং ল্যাগজুটেনিল ৩এমজি, অরিউন কোম্পানীর গোফাম ৩ এমজি, সেনডোজ কোম্পানীর এক্সিউনিল ৩এমজি, অপসোনিল কোম্পানীর ইজিয়াম ৫এমজি, পেইস ২ এমজি, ইনসেপটা কোম্পানীর হাইফনোফাস্ট ১৫ এমজি, ডিসোপান ২ এমজি, ক্লোসান ২এমজি, এসকেএফ কোম্পানীর মিলাম ১৫এমজি এসব ঔষধ ভৈরবের বিভিন্ন ফার্মেসীতে দেদার বিক্রি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। অধিক লাভের আশায় ফার্মেসীর মালিকরা সরকারের কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে যে কোন ব্যক্তির হাতে ডাক্তারদের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া এসব ট্যাবলেট তুলে দিচ্ছে। আর এসব ঘুমের ট্যাবলেট মাদকাসক্তদের হাতে চলে যাচ্ছে অনায়াসে।

ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার বুলবুল আহমেদ তোলপাড়২৪ডটকমকে জানান, রেজিষ্ট্রেশন প্রাপ্ত ও বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ঘুমের ট্যাবলেট বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া ড্রাগ লাইসেন্স বিহীন কোন ফার্মেসীর মালিকের কাছে বিক্রি করাও নিষেধ। অতি লাভের আশায় কিছু কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধিরা সরকারের নীতিমালা তোয়াক্কা না করে নাম সর্বস্ব ফার্মেসীগুলোতে বিক্রি করছে। ঔষধ নীতিমালার সম্পর্কে কোন ধারণা না থাকায় ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে ওঠা বিভিন্ন হাটবাজার, পাড়া মহল্লায় পল্লী চিকিৎকদের মাধ্যমে মাদকাসক্তদের কাছে চলে এসব ঘুমের ঔষধ।

print