FaceBook twitter Google plus utube RSS Feed
  

৩ আগস্ট, ২০১৭ - ৩:৪৮ অপরাহ্ণ

হজে পাঠানো নিয়ে স্বাস্থ্য ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিরোধ চরমে

76849_x5

x


ইসলাম ডেস্কঃ

ডাক্তার, নার্স, ফার্মাসিস্ট ও অফিস সহায়কদের হজে পাঠানো নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিরোধ চরমে উঠেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো তালিকা পাশ কাটিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় তার ইচ্ছামতো ডাক্তার, নার্স, ফার্মাসিস্ট ও অফিস সহায়ক মনোনয়ন দেয়ার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে ঠেকেছে যে, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মনোনয়নকৃত ডাক্তার, নার্স, ফার্মাসিস্ট ও অফিস সহায়ক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না। গতকাল এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। তাদের আদেশে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া ধর্ম মন্ত্রণালয় কর্তৃক হজ চিকিৎসক দলে অন্তর্ভুক্ত চিকিৎসক, নার্স/ব্রাদার, ফার্মাসিস্ট ও অফিস সহায়কদের কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতি না দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানকে নির্দেশনা দেয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হল। চিঠিটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে পাঠানো হয়েছে। এ সংক্রান্ত চিঠিটি পেয়েছে ধর্মমন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪শে জুলাই সৌদি আরবে হজ চিকিৎসক দলকে সহায়তা করার জন্য হজ সহায়ক দল গঠন সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। আট পৃষ্ঠার আদেশে ১৭১ জনকে হজ মৌসুমে অসুস্থ বাংলাদেশিদের সেবা দেয়ার জন্য নিয়োগ করার কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গেল মাসের প্রথম দিকে হজ চিকিৎসক দলকে সহায়তার জন্য একটি তালিকা পাঠায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। তবে তালিকার বাইরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এক্ষেত্রে ময়মনসিংহ অঞ্চলের বাসিন্দাদের প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। হজ সহায়ক দলের অফিস আদেশ পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অফিস সহায়ক মো. গোলাম মোস্তফা মুক্তা, বাবুল মিয়া, মো. ফিরোজুল হক, আব্বাস আলী, মো. কামরুজ্জামান, মো. সাইফুল ইসলাম সুমন, মো. সফিকুল ইসলাম, মো. রাজা মিয়া, মো. সাজু, মো. সেলিম মিয়া ও মো. বিল্লাল হোসেন, পরিচ্ছন্ন কর্মী কামরুল হাসান, অফিস সহকারী মো. সোহেল রানা, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোহাম্মদ মাসুদ রব্বানী, কার্পেন্টার মো. নাজমুল হক ও সিনিয়র স্টাফ নার্স মো. ইসমাইল হোসেনকে সহায়ক দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজের অফিস সহায়ক মো. জুম্মান হোসেন ও আলা উদ্দিন, শ্যামলীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতালের হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. শাহ আলম, নিকলি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) মো. মজিবর রহমান, ময়মনসিংহের নান্দাইলের ফ্যামিলি প্ল্যানিং ইন্সপেক্টর কবিরুল ইসলাম, ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট মো. আসাদুজ্জামান মিয়া ও মো. গোলাম মোস্তফা, শহীদ সরোয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) মো. রানা আহম্মেদ, জামালপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারী মো. আব্দুল হক, ময়মনসিংহের গৌরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোকেয়া আক্তার খাতুন, শহীদ সরোয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স মো. আনিসুজ্জামান, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মেডিকেল সেন্টারের ল্যাব এটেনডেন্ট ফরহাদুল ইসলাম, সরকারি ইউনানী ও আর্য়ুবেদিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কম্পাউন্ডার মো. জহুরুল ইসলাম খন্দকার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ক্যাশিয়ার মো. আতিউর রহমান, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারী মো. সাইফুল ইসলাম ও নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নাজমা আক্তারকে সহায়ক দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তাদের তালিকাকে বাদ রেখে এসব নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ কারণে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তাদের বিরোধ দেখা দিয়েছে।

print