FaceBook twitter Google plus utube RSS Feed
  

২৭ জুলাই, ২০১৭ - ১১:৫৩ অপরাহ্ণ

সমন্বিত পরিকল্পনায় স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নিন

সম্পাদকীয়

x

সম্পাদকীয়:
রাজধানী ঢাকার জলাবদ্ধতা এবং এর ফলে নগরবাসীর দুরবস্থা যেন নগরবাসীর নিত্যসঙ্গী। একটু বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। আর ভারী বৃষ্টি হলেতো কথাই নেই। প্রধানসড়ক ও অলিগলিতে নিচতলার বাসা-বাড়ি, অফিস, দোকানপাটেও পানি ঢুকে যায়। যেমনটি দেখা গেল গত দুদিনের বৃষ্টির সময়। হাঁটু থেকে কোমর পানিতে থই থই করে মহানগরীর রাজপথ। ফলে জলজট ও যানজটে থমকে থাকে রাজধানী। সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী।

প্রায় একইরকম অবস্থা বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামেও। প্রবল বর্ষণ এবং সাগরের জোয়ারের পানিতে ভাসছে চট্টগ্রাম। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতা কতটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে তা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত চট্টগ্রাম মহানগরীর ছবি দেখলেই বোঝা যায়। সড়ক আর মাঠ-ঘাটের পার্থক্য করা মুশকিল। সেখানে রাস্তা আছে কি না বোঝার কোনো উপায় নেই। কারণ বুক সমান পানিতে নিমজ্জিত রাস্তার ওপর রীতিমতো নৌকায় চলাচল করতে দেখা গেছে নগরবাসীকে।

Editorial20170727195114এ অবস্থা শুধু যে এবারই হয়েছে তা নয়। প্রতি বর্ষা মৌসুমে ডুবে যায় চট্টগ্রাম। কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, গত প্রায় দুই মাসের মধ্যে ১২ দিনই বন্দরনগরীর নিম্নাঞ্চল তলিয়ে ছিল। গত রোববার থেকে চট্টগ্রামের নিম্নাঞ্চলে সৃষ্টি হয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা।

রাজধানী ঢাকার জলাবদ্ধতা দূর করতে সমন্বিত কোনো উদ্যোগ আছে বলে পরিলক্ষিত হয় না। আমরা বছরের পর বছর দেখছি একটু বৃষ্টি হলেই বিভিন্ন এলাকায় সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যায়। আর জলজটের ফলে যানজটের সৃষ্টি হয় রাজপথে।

ঢাকায় জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ কোনো কোনো ক্ষেত্রে বন্দর নগরীর চেয়েও বেশি। রাজধানীর বেশিরভাগ প্রধান সড়ক ছোট-বড় খানাখন্দে পূর্ণ। অলিগলির অবস্থা আরও খারাপ। বৃষ্টি হলে সড়কগুলো ছোটখাটো খালে পরিণত হয়। এর ওপর উন্নয়ন কাজের জন্য মাসের পর মাস ধরে চলছে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি। এ পরিস্থিতিতে প্রায় প্রতিটি সড়কে যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করে। অন্যদিকে গন্তব্যে যেতে যানবাহনের অভাব প্রকট হয়ে ওঠে।

বৃষ্টি বা বন্যা প্রাকৃতিক বিষয় হলেও এর ফলে যে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে, তা প্রতিকারের ব্যবস্থা নেই। পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। যেটুকু আছে সেসব পলিথিন ও নানা আবর্জনায় ভরাট হয়ে আছে। বর্ষা মৌসুমে এ পরিস্থিতি যেন নগরবাসীর নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার পরিস্থিতি আরো অসহনীয় হয়ে উঠেছে। দেশের দুই প্রধান নগরীর বাসিন্দারা কবে এ অসহনীয় অবস্থা থেকে মুক্তি পাবেন? এ অবস্থা থেকে অবশ্যই আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে জলাবদ্ধতা নিরসনে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমন্বিত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে যত দ্রুত সম্ভব।

ঢাকা-চট্টগ্রাম এই দুই মহানগরীর জলাবদ্ধতা সৃষ্টির কারণ প্রায় একইরকম- অপরিকল্পিত উন্নয়ন, অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল ভরাট হয়ে যাওয়া, নদী সংকীর্ণ হওয়া ইত্যাদি। এছাড়া নদীগুলোর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়াও পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে না পারার একটি কারণ। বস্তুত জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার মূল কারণ পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও অপসারণের স্থানের অভাব।

বিশেষজ্ঞদের তাগিদ সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বয় করে কাজ না করায় দুর্ভোগ আরো বেশি হচ্ছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে বিষয়টিতে দৃষ্টি দেওয়া উচিত। বুধবারের জলাবদ্ধ পরিস্থিতি দেখার পর অবশ্য স্থানীয় সরকারমন্ত্রী দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যাতে আগামী বছর এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।

বৃষ্টি, বন্যা প্রাকৃতিক ঘটনা। একে রোধ করার উপায় নেই। কিন্তু জলাবদ্ধতা নিশ্চয়ই আমরা রোধ করতে পারি। আমাদের প্রত্যাশা শিগগিরই এ ব্যাপারে কাজ শুরু হবে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সার্বক্ষণিকভাবে তা পরিষ্কার রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। আর দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ হিসেবে রাজধানীর চারপাশের নদ-নদীগুলো সংস্কার করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং দখলকৃত খালগুলো পুনরুদ্ধার করা জরুরি।

জলাবদ্ধতা যাতে নগরবাসীর দুর্ভোগের কারণ না হয় সে লক্ষ্যে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করে স্থায়ীভাবে সমস্যা নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। শুধু বর্তমানের জলাবদ্ধতা দূর করা নয়, ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষ উদ্যোগী হবেন এটিই আমাদের প্রত্যাশা।

print