FaceBook twitter Google plus utube RSS Feed
  

১৫ মে, ২০১৭ - ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ

শাকিবের অভিনয় জীবনের নতুন বাঁক

home poriborton sakib 06 (02)

x

শাকিবের অভিনয় জীবনের নতুন বাঁক

বিনোদনঃ চলচ্চিত্রে ১৯৯৯ সালে ক্যারিয়ার শুরু করে পাঁচ বছর মোটামুটি চলেছে শাকিব খান অভিনীত সিনেমা। এরই মধ্যে সেই সময়ের চলচ্চিত্রের স্বনামধন্যদের সঙ্গে অভিনয় করে ফেলেন শাকিব। নায়ক রাজ্জাক, বুলবুল আহমেদ, মান্না, রিয়াজ, আমিন খান, আলমগীর, বাপ্পারাজসহ আরো অনেকের সঙ্গে অভিনয় করেন। সেই সময়ে তার নায়িকার ভূমিকাতে দেখা গেছে মৌসুমী, পূর্ণিমা, পপি, মুনমুনের মতো নায়িকাদের।

২০০৬ সাল থেকে শাকিব খানের অভিনয় জীবনে নতুন বাঁক নেয়। এ বছর এফআই মানিক পরিচালিত কোটি টাকার কাবিন সিনেমাটি শাকিবকে আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তা এনে দেয়। শাকিব-অপু জুটির প্রথম সিনেমা ছিল এটি। এরপর থেকে একের পর এক সিনেমায় জুটি হয়েছেন শাকিব-অপু। যার মধ্যে অধিকাংশ সিনেমায় ব্যবসা সফল।

এই বছর তার অভিনীত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে আরো ছিল—বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প সুভা অবলম্বনে নির্মিত ‘সুভা’। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন খ্যাতনামা চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম ও নাম চরিত্রে অভিনয় করেন অভিনেত্রী পূর্ণিমা। এ চলচ্চিত্রে তার অভিনয় সমালোচকদের দৃষ্টিতে প্রশংসিত হয় ও তিনি ২০০৭ সালে প্রদত্ত ‘লাক্স-চ্যানেল আই পারফরম্যান্স পুরস্কার’-এ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেতা বিভাগে দর্শক জরিপ ও সমালোচক উভয় শাখায় মনোনীত হন। একই বছর আরো মুক্তি পায় পিতার আসন, দাদিমা, চাচ্চু ও দিলীপ বিশ্বাস পরিচালিত মায়ের মর্যাদা।

২০০৭ সালে মা আমার স্বর্গ, আমার প্রাণের স্বামী, কাবিনামা, স্বামীর সংসার, ডাক্তার বাড়ি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। পিএ কাজল পরিচালিত আমার প্রাণের স্বামী চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি সমালোচক শাখায় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেতা বিভাগে প্রথমবারের মতো মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার অর্জন করেন।

২০০৬ ও ২০০৭ শাকিবের টার্নিং হয় ভালোভাবেই। এ সময়ের নাম্বার ওয়ান হিরো ছিলেন চিত্রনায়ক মান্না। মান্নার সিনেমার পাশাপাশি শাকিবের সিনেমাও দেখতে শুরু করে দর্শক। ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ করেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান মান্না। চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে একটা বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়।

মান্নার শূন্যস্থানে শাকিব তার অবস্থান তৈরি করে নেন ভালোভাবেই। এরপর থেকে বলা যায় একক রাজত্ব করে আসছেন শাকিব খান।

২০০৮ সালে তার অভিনীত সিনেমাগুলো হলো— তোমাকে বউ বানাবো, আমার জান আমার প্রাণ, সমাধি, ১ টাকার বউ, ভালোবাসার দুশমন, প্রিয়া আমার প্রিয়া, টিপ টিপ বৃষ্টি, তুমি স্বপ্ন তুমি সাধনা, আমাদের ছোট সাহেব, সন্তান আমার অহংকার, যদি বউ সাজো গো, মনে প্রাণে আছ তুমি। এ বছর বদিউল আলম খোকন পরিচালিত প্রিয়া আমার প্রিয়া চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শক জরিপ শাখায় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেতা বিভাগে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার এবং লাক্স-চ্যানেল আই পারফরম্যান্স পুরস্কার অর্জন করেন। পি এ কাজল পরিচালিত ১ টাকার বউ চলচ্চিত্রে তার বিপরীতে অভিনয় করেন শাবনুর ও রুমানা খান। চলচ্চিত্রটি একটি বিভাগে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার এবং একটি বিভাগে জাতীয় চলচিত্র পুরস্কার অর্জন করে।

২০০৯ সালে তিনি অভিনয় করেন আমার প্রাণের প্রিয়া, স্বামী স্ত্রীর ওয়াদা, ভালোবাসা দিবি কি না বল, মন যেখানে হৃদয় সেখানে, বলো না কবুল, বিয়ের প্রস্তাব, জন্ম তোমার জন্য, প্রেম কয়েদী, সাহেব নামের গোলাম, ও সাথী রে চলচ্চিত্রে।

এ বছর পি এ কাজল পরিচালিত স্বামী স্ত্রীর ওয়াদা চলচ্চিত্রটি প্রশংসিত হয় এবং তিনটি বিভাগে জাতীয় চলচিত্র পুরস্কার অর্জন করে। এ ছাড়া জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত আমার প্রাণের প্রিয়া চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ২০১০ সালে প্রদত্ত মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার-এ দর্শক জরিপ শাখায় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেতার পুরস্কার অর্জন করেন। পরের বছর ২০১০ সালে মুক্তি পায় তার অভিনীত বলো না তুমি আমার, প্রেম মানে না বাধা, টপ হিরো, পরান যায় জ্বলিয়া রে, ভালোবাসলেই ঘর বাধা যায় না, টাকার চেয়ে প্রেম বড়, জীবন মরনের সাথী, প্রেমে পড়েছি, চেহারা : ভণ্ড-২, প্রেমিক পুরুষ, হায় প্রেম হায় ভালোবাসা। জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না চলচ্চিত্রে একজন স্বাধীনচেতা যুবক সূর্য চরিত্রে অভিনয় করেন। এতে তার বিপরীতে ছিলেন অপু বিশ্বাস ও রুমানা খান। এই চলচ্চিত্রের জন্য ২০১১ সালে প্রদত্ত মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার-এ দর্শক জরিপ শাখায় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেতা হিসেবে পুরস্কৃত হন। এই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য ২০১২ সালে প্রদত্ত জাতীয় চলচিত্র পুরষ্কার প্রথমবার শ্রেষ্ঠ অভিনেতার অর্জন করেন। এ ছাড়া ওই বছর ঈদুল ফিতরে মুক্তি পায় তার অভিনীত নাম্বার ওয়ান শাকিব খান, চাচ্চু আমার চাচ্চু ও নিঃশ্বাস আমার তুমি।

বদিউল আলম খোকন পরিচালিত নাম্বার ওয়ান শাকিব খান ব্যবসায়িক সফলতা লাভ করে এবং ঢালিউডের সর্বকালের সবচেয়ে ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রের সেরা দশে অবস্থান করে। শাহাদাৎ হোসেন লিটনের জীবন মরণের সাথী, পি এ কাজলের চাচ্চু আমার চাচ্চু এবং বদিউল আলম খোকনের নিঃশ্বাস আমার তুমি তিনটি চলচ্চিত্রেই তার বিপরীতে অভিনয় করে অপু বিশ্বাস এবং চলচ্চিত্রগুলো বিভিন্ন বিভাগে জাতীয় চলচিত্র পুরষ্কার অর্জন করে।

print