FaceBook twitter Google plus utube RSS Feed
  

৩ জানুয়ারি, ২০১৭ - ৯:৫৪ অপরাহ্ণ

রহস্যে ঘেরা লিটন হত্যা

images

x

রহস্যে ঘেরা লিটন হত্যা

সম্পাদকীয় ডেস্ক: গাইবান্ধার এমপি মনজুরুল ইসলাম লিটনের মরদেহ গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আনা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময় শোক সন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেন —বাংলাদেশ প্রতিদিন

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে এমপি মনজুরুল ইসলাম লিটন হত্যার রহস্য এখনো উদ্ঘাটিত হয়নি। তবে ঘটনার দিন তার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী ও নিরাপত্তার দায়িত্বে কোনো পুলিশ না থাকায় নানা প্রশ্নের অবতারণা হয়েছে। তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি জেনেবুঝেই খুনিরা ঘটনাস্থলে চলে আসে। এর আগেও এমপি লিটনকে একাধিকবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। সর্বশেষ নিজেকে রক্ষা করতে গিয়ে গুলি চালালে এক শিশু আহত হয়। এর পর থেকে জব্দ ছিল লিটনের অস্ত্র। আতঙ্ক তৈরির জন্য নৃশংসভাবে একজন এমপিকে হত্যা করা হয়েছে কি না তা বের করার চেষ্টা করছে পুলিশ। যদিও গতকাল পর্যন্ত তদন্তের কোনো কূলকিনারা হয়নি। পুলিশের রংপুর রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক খন্দকার ফারুক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এমপিরা চাইলে সংশ্লিষ্ট থানা থেকে ফোর্স দেওয়া হয়। নিহত এমপির ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ছিল না। সাধারণত তিনি বাসা থেকে কোথাও গেলে ফোর্স চাইতেন। বাসায় পৌঁছে দেওয়ার পর ফোর্সকে তিনি চলে যেতে বলতেন। তদন্তের অগ্রগতি বিষয়ে তিনি বলেন, এখনো বলার মতো কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত আছে। জেলা পুলিশের সঙ্গে পিবিআই ও র‌্যাব মাঠে কাজ করছে। তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানান, একাধিক কারণের মধ্যে উগ্রপন্থিদের ওপরই তাদের সন্দেহের তীর। তবে এলাকার রাজনৈতিক কোনো বিরোধ রয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই অজানা আতঙ্ক কাজ করছিল এমপি লিটনের। কয়েক দফায় তাকে হত্যার চেষ্টা করেছিল দুর্বৃত্তরা। তবে এসব বিষয়ে তিনি কখনো পুলিশকে অবহিত করেননি। এর বাইরে সর্বশেষ শিশুর ওপর গুলির ঘটনার পর থেকে অস্ত্র জব্দ ছিল এমপির। এলাকাবাসী ও একাধিক সূত্র বলছে, প্রতিদিন সন্ধ্যার ঠিক পরপরই সুন্দরগঞ্জ বামনডাঙ্গা স্টেশন রোডে নিজের ব্যবসায়িক অফিসে বসতেন এমপি লিটন। বেশির ভাগ সময়ই এমপির সঙ্গে থাকতেন তার স্ত্রী খুরশিদ জাহান স্মৃতি। অফিসে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ফোন দিয়ে পুলিশ ফোর্স চাওয়া হতো। তত্ক্ষণাৎ বামনডাঙ্গা তদন্তকেন্দ্র থেকে ফোর্স পাঠানো হতো আনুমানিক তিন কিলোমিটার দূরত্বের এমপি লিটনের বাসায়। ফোর্স পরিবেষ্টিত হয়ে প্রতিদিন তিনি অফিসে যেতেন এবং বাসায় পৌঁছে ফোর্স বিদায় করে দিতেন। এর আগ পর্যন্ত ফোর্স তার সঙ্গেই থাকত। ঘাতকরা সবকিছুই রেকি করে হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে।

বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক নাদিম মোস্তফা বলেন, জামায়াত নেতা গোলাম আযমকে এমপি সাহেব সুন্দরগঞ্জে প্রবেশ করতে না দেওয়ার পর থেকেই জামায়াত-শিবিরের টার্গেটে ছিলেন তিনি। এর বাইরে এলাকায় রাজনৈতিক গ্রুপিং-কোন্দল রয়েছে। এ বিয়ষটি দলের সর্বোচ্চ ফোরামও অবহিত আছে। তব কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তা পুলিশই বের করতে পারবে। র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ছায়াতদন্তে র‌্যাব সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। শিগগিরই হয়তো আমরা খুনিদের শনাক্ত করতে পারব।

সন্দেহভাজন আরও ১৪ জন আটক : সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম লিটন হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও ১৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ নিয়ে এ ঘটনায় ৩২ জনকে আটক করা হলো। রবিবার রাত থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিয়ার রহমান জানান, রবিবার রাতে এমপি লিটনের বোন তাহমিদা কাকলী মামলা করার পর ১৪ জনকে এবং মামলা করার আগে ১৮ জনকে আটক করা হয়। তবে তদন্তের স্বার্থে কারও নাম-পরিচয় জানাননি তিনি। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছে কী তথ্য মিলেছে সে বিষয়েও ওসি কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।