FaceBook twitter Google plus utube RSS Feed
  

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ - ৪:১৩ অপরাহ্ণ

যৌতুকের জন্য শ্বশুরবাড়িতে আগুন দিলেন জামাই

protiki-fire-20170905142301

x

প্রতীকী ছবি

নাটোর প্রতিনিধি: যৌতুক না পেয়ে স্ত্রী-সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে শ্বশুরবাড়িতে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক জামাইয়ের বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার রাত ১০টার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় ফুলচাঁদ, সাহাদ, জহির, কলিমসহ অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে নারায়ণপুর গ্রামের ভ্যানচালক তারা মিয়ার মেয়ে সুমি খাতুনকে (২২) পার্শ্ববর্তী ঈশ্বরদী উপজেলার রুপপুর গ্রামের তুফান মিস্ত্রির ছেলে রাজমিস্ত্রি বোরহান উদ্দিনের সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে নগদ ৮০ হাজার টাকা দেয়া হয়। কিন্তু বছর না পেরুতেই আবার যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকে বোরহান উদ্দিন। একই সঙ্গে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে সে। বিভিন্ন সময় দুই হাজার পাঁচ হাজার করে টাকা দিয়ে রক্ষা হয়। এ অবস্থায় আরও বেশি টাকার জন্য শারীরিক নির্যাতন শুরু করে।
যৌতুকের টাকা দিতে এবং শারীরিক নির্যাতন সইতে না পেয়ে ঈদের আগে তিন বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে একেবারে বাবার বাড়িতে চলে আসে সুমি। এবার বোরহান নানাভাবে হুমকি দিতে থাকে সুমি ও তার বাবা-মা এবং ভাইদেরকে। ঈদরে পরে সুমির বাবা-মা আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গেলে সোমবার রাত ১০টার দিকে তাদের বাড়িতে হাজির হয় বোরহান উদ্দিন। এ সময় সে সুমির কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অক্ষমতা প্রকাশ করলে সুমি ও তার মেয়েকে ঘরের ভেতরে আটকে বাহিরে থেকে কেরোসিন ঢেলে ওই ঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় বোরহান। পরে সুমির চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে আগুন নিভিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

মি খাতুন বলেন, মাতাল স্বামীর মারপিট খেয়েও সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সংসার টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু প্রতিদিন এভাবে মার-পিট আর যৌতুকের চাপ সহ্য করতে না পেরে চলে এসেছি। এখনতো আবার আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। হয়তো একসময় মেরেও ফেলবে।

সুমির বাবা তারা মিয়া বলেন, বিয়ের সময় বুঝতে পারিনি জামাই মাদকাসক্ত। মেয়ের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে আমার সাধ্যমত টাকা পয়সা দিয়েছি। কিন্তু প্রতিদিন টাকার জন্য চাপ দিয়ে আর মারপিট করলেতো মেয়ের জান বাঁচে না।

গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খান বলেন, তারা মিয়ার বাড়িতে তার মাদকাসক্ত জামাই রাতের অন্ধকারে আগুন দিয়ে পালিয়েছে। মাদকাসক্তরা মাদকের টাকা না পেলে আরও ভয়াবহ দুর্ঘটনাও ঘটাতে পারে। সুমির বাবা তারামিয়াকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে আইনের আশ্রয় নিতে।

বড়াইগ্রাম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহরিয়ার খান বলেন, তাকে এ বিষয়ে কেউ অবহিত করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

print