FaceBook twitter Google plus utube RSS Feed
  

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ - ৮:৫৭ পূর্বাহ্ণ

মৃত শিশু জীবিত ‘বানায়’ যে হাসপাতাল!

Child1455120216

x

Child1455120216নিজস্ব প্রতিবেদক : সুমাইয়া সাবা নামের দেড় বছরের এক মৃত শিশুকে ভর্তি রেখে অর্থ আদায় করেছে জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ মেডিক্যাল সার্ভিসেস হাসপাতাল। এ ছাড়া র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বিভিন্ন অনিয়ম উদঘাটন হয়েছে। এর জন্য হাসপাতালটিকে সাড়ে ১১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

র‌্যাব-২ জানায়, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে রাজধানীর হাজারীবাগ থানার ঝিগাতলা এলাকার জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় দেখা যায়, ১ বছর ৪ মাসের একটি শিশু আইসিইউ রুমে মঙ্গলবার মারা গেলেও জীবিত দেখাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ভর্তি রেখে চিকিৎসার নামে পরিবারের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ নিচ্ছে।

এ ছাড়া অনভিজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে শিশু রোগীর চিকিৎসা করা, মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের ব্যবস্থা না থাকা, বায়োকেমিস্ট না থাকা, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের সার্টিফিকেট না থাকা, টেস্ট করার কথা বললেও প্রয়োজনীয় মেশিন না থাকা, রি-এজেন্ট সংরক্ষণ করা ফ্রিজে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা না থাকা, রি-এজেন্ট ও স্যাম্পল এক সঙ্গে নরমাল ফ্রিজে রাখা, সিড়ি ঘর ল্যাব হিসেবে ব্যবহার করা, ল্যাব টেকনিশিয়ান না থাকা, পর্যাপ্ত ডাক্তার ও নার্স না থাকাসহ অনেক অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়।

এ সময় হাসপাতাল থেকে ছয়জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৫২, ৫৩, ৩৯ এবং ড্রাগ অ্যাক্ট ১৯৪০ আইনে সাড়ে ১১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

রাতে মোবাইল ফোনে কথা হয় মৃত শিশুটির মামা আওরঙ্গজেব কবীরের সঙ্গে। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, গত সোমবার রাতে তার ভাগ্নির শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এরপর তাকে ফতুল্লার পঞ্চবটির বাসা থেকে প্রথমে সেন্ট্রাল হাসপাতাল এবং পরে জাপান-বাংলাদেশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখানে আনার পর থেকে ডাক্তাররা তাদের ভেতরে যেতে দেয়নি। কখনো বলে ভালো, আবার বলে- একটু খারাপের দিকে। কিন্তু নির্দিষ্ট করে কিছু বলছিলেন না। ভেতরে যেতে না দেওয়ায় তাদের সন্দেহ হয়। ভাগ্নির অবস্থা খুব খারাপ হওয়ায় আগের হাসপাতাল থেকে ফেরৎ দেওয়া হয়। বুধবার দুপুরে র‌্যাব আইসিইউতে অভিযান পরিচালনা করে এবং বেরিয়ে বলে ভাগ্নি মঙ্গলবার রাতে মারা গেছে। অথচ তারা মৃত রোগীকে রেখে চিকিৎসার নামে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করছিল।

অভিযানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শাহজাহান, ড্রাগ অধিদপ্তরের ড্রাগ সুপার অজিউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

print