FaceBook twitter Google plus utube RSS Feed
  

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ - ২:০০ অপরাহ্ণ

মিরপুরে ‘জঙ্গি আস্তানা’ থেকে অগ্নিদগ্ধ ৩ লাশ উদ্ধার

protiki-fire-20170905142301

x

নিজস্ব সংবাদাতা, ঢাকা: রাজধানীর মিরপুরের দারুস সালামে ‘জঙ্গি আস্তানা’র একটি কক্ষ থেকে তিনটি অগ্নিদগ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী।

বুধবার দুপুরে তাদের লাশ উদ্ধার র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব)।

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ দুপুর পৌনে ১টায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আজ সকাল পৌনে ৯টা থেকে ভবনে তল্লাশি অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, র‍্যাবের ডগ স্কোয়াড ও বোম ডিসপোজাল ইউনিট।

অভিযানে থাকা সদস্যরা একতলা, দোতলা করে পঞ্চম তলায় পর্যন্ত পৌঁছেছেন। পঞ্চম তলার একটি কক্ষ থেকে তিনটি অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

র‍্যাব ধারণা করছে, গতকাল রাতে ওই কক্ষেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মুফতি মাহমুদ লাশের পরিচয়ের ব্যাপারে কোনো তথ্য দেননি।

তিনি আরো জানান, অভিযান অব্যাহত আছে। পরে আরো বিস্তারিত জানানো হবে।

এর আগে রোববার সকাল পৌনে ৯টার দিকে ওই জঙ্গি আস্তানায় অভিযান শুরু করে র‍্যাব। অভিযান শুরুর পর ফের সেখানে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে ওই বাড়ি থেকে চার থেকে পাঁচটি গুলির শব্দ শোনা যায়। তবে এ সম্পর্কে এখনো কিছু জানায়নি র‍্যাব।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে (র‍্যাব) গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, গতকাল রাতে ওই ভবনে বোমা বিস্ফোরণের পর থেকে জঙ্গিদের সঙ্গে র‍্যাবের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।

এদিকে, আজ সকালে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন। তিনি অভিযানের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে এ ব্যাপারে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গার মসন্দি এলাকার একটি বাড়ি থেকে গত সোমবার রাতে জঙ্গি সন্দেহে দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ‘ফলোআপ’ হিসেবে সোমবার রাত থেকে মিরপুরে এ অভিযান চালায় র‍্যাব।

যে বাড়িটিতে অভিযান চলছে, সেই বাড়িটির নম্বর ২/৩/বি। এর মালিক টিঅ্যান্ডটির কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজাদ। বাড়িটির নাম ‘কমলপ্রভা’। আজাদ সাহেব স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে বাড়ির দ্বিতীয় তলায় থাকেন।

র‍্যাব জানায়, ‘জঙ্গি আবদুল্লাহ বাড়িটি ভাড়া নিয়ে আস্তানা তৈরি করে। সেখানে আবদুল্লাহ, তাঁর দুই স্ত্রী, দুই সহযোগী, দুই সন্তানসহ সাত জঙ্গি অবস্থান করছে। আবদুল্লাহর বড় ছেলের বয়স ১০ বছর আর ছোট ছেলের আড়াই বছর। গতকাল মঙ্গলবার দিনভর তাদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়। দুপুরে ‘জঙ্গি’ আবদুল্লাহর বোন মেহেরুন্নেসা বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে র‍্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তাঁকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে র‍্যাব। এ সময় ওই বাড়ির ২৩টি ফ্ল্যাট থেকে ৬৫ বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

পরে সন্ধ্যা ৬টায় মুফতি মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, ওই ভবনে থাকা ‘জঙ্গি’ আবদুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। আবদুল্লাহ রাত ৮টার মধ্যে আরো ছয়জন নিয়ে আত্মসমর্পণ করবেন বলে জানান।

রাত ৮টার পর আবার যোগাযোগ করা হলে আরো ৩০ মিনিট সময় চান আবদুল্লাহ। কিন্তু রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ওই ভবন থেকে বোমা বিস্ফোরণের বিকট শব্দ পাওয়া যায়। একে একে পাঁচটি বোমা বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। এর মধ্যে তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ ছিল অনেক বেশি। পরে দেখা যায়, ওই ভবনে আগুন জ্বলছে। বোমা বিস্ফোরণের পর ওই ভবনের একাংশ ধসে পড়ে।

পরে র‍্যাব কর্মকর্তা মুফতি মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, জঙ্গি’রা আত্মসমর্পণ না করে নিজেরাই ওই ভবনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে চার র‍্যাব সদস্য আহত হন। এরপর রাত পৌনে ১২টায় এসে র‍্যাব কর্মকর্তা অভিযান স্থগিতের কথা জানান।

আজ সকালে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মুফতি মাহমুদ বলেন, গতকাল রাতে বিস্ফোরণের পর জঙ্গিদের র‍্যাবের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। ফলে তাদের অবস্থা কী, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। আমাদের তিনটি টিম কাজ করছে, তারা বেরিয়ে এলে এ ব্যাপারে জানানো যাবে।

মুফতি মাহমুদ আরো বলেন, বিস্ফোরণে ভবনের কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে, এখনই স্পষ্ট করে বলা যাবে না। তবে আমরা বাইরে থেকে দেখছি, এক পাশের দেয়াল বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গতকাল রাতে বিস্ফোরণের পর যে আগুন লেগেছিল, আজ সকাল থেকে তা আর দেখা যাচ্ছে না। তবে ভবনের কোথাও কোথাও ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে বলেও জানান র‍্যাব কর্মকর্তা।

print