FaceBook twitter Google plus utube RSS Feed
  

১৫ জানুয়ারি, ২০১৬ - ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ

ভৈরব-টঙ্গী ডাবল লাইন চালু হলেও ট্রেনের সময় সূচী পরিবর্তনে বেড়েছে যাত্রী দূর্ভোগ

াববি

x

াববিজয়নাল আবেদীন রিটন, ভৈরব প্রতিনিধি : গত ৭ জানুয়ারি থেকে ভৈরব-টঙ্গী ডাবল লাইন চালু হলেও ট্রেনের সময়সূচী পরিবর্তনের ফলে ভৈরব হইতে ঢাকা যাতায়াতে পূর্বের তুলনায় সময় কম লাগলেও সাধারণ ট্রেন যাত্রীদের নানাবিদ সমস্যা দেখা দিয়েছে। ভৈরব রেলওয়ে জংশন স্টেশনে একটি মাত্র ফেসিং পয়েন্ট থাকায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ও সিলেটগামী সকল ট্রেন ২নং প্লাটফর্মে যাত্রা বিরতি দেয়ায় যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের ২নং ফাটফর্মে ৩০টি লাইসেন্স করা বৈধ দোকানপাট রয়েছে। ফলে ২নং প্লাটফর্মে ট্রেনে উঠানামা যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে নানাবিদ সমস্যায়।
জানা গেছে , একটি ফেসিং পয়েন্ট থাকায় চট্টগ্রাম ও সিলেটগামী সকল ট্রেন ২নং ফাটফর্মে যাত্রাবিরতি করায় নারী পুরুষ শিশু বৃদ্ধাসহ যাত্রী সাধারণ ট্রেনে উঠানামায় মারাত্নক অসুবিদা দেখা দিয়েছে। ট্রেন থেকে নেমে স্টেশন থেকে বের হতে ব্যবহার করতে হয় ওভারব্রীজ। ত্রুটিপূর্ণ ওবারব্রীজ অতিক্রম করতে গিয়ে শিশু, বৃদ্ধ নারী পুরুষ অসুস্থ যাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। ঢাকা থেকে চট্রগ্রামগামী নতুন লাইনে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে ঢুকতে একটিমাত্র ফেসিং পয়েন্ট থাকার কারণে এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। ভৈরব রেলওয়ে জংশন স্টেশন থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন গন্তবে ২৯ জোড়া যাত্রীবাহী ট্রেনের মাধ্যমে হাজার হাজার যাত্রী আসা যাওয়া করে। কিন্তু ট্রেনের সময় সুচী পরিবর্তন করে নতুন সময় সূচী নির্ধারন করায় যাত্রীদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

একটি সূত্র জানায়, বর্তমান সময়সূচী বহাল থাকলে যাত্রী সংখ্যা কমে গিয়ে ভৈরব রেলওয়ে জংশন থেকে বিপুল পরিমান রাজস্ব বঞ্চিত হবে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী এগারসিন্দুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল ৮.৩৫ মিনিটে ভৈরব থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার পর দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ঢাকাগামী কোন ট্রেন নেই। বেলা সোয়া ১২টার দিকে ঢাকাগামী মহনগর প্রভাতী এক্সপ্রেস ভৈরব রেলওয়ে জংশন থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেত। ভৈরব ও আশে পাশের যাত্রী সাধারণ উল্লেখিত ট্রেনে ঢাকা যেয়ে প্রয়োজনীয় কাজকর্ম সেরে রাতের মধ্যে ভৈরব ফিরে আসতে পারত। কিন্তু সময় পরিবর্তন করে মহানগর প্রভাতী ট্রেনটিকে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে ভৈরব স্টেশনে বিরতি দেয়ায় যাত্রীরা বিকল্প যানবাহনে যাতায়ত করায় স্টেশনে যাত্রীর সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। নোয়াখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা আন্তনগর উপকুল এক্সপ্রেস ট্রেনটি বেলা সোয়া ১০ টা ও সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা কালনি এক্সপ্রেস আনুমানিক সোয়া ১২টা দিকে ভৈরব স্টেশন অতিক্রম করলেও এখানে যাত্রাবিরতি না থাকায় যাত্রীরা ট্রেনের জন্য দীর্ঘসময় অপেক্ষা না করে সড়ক পথে ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে চলে যাচ্ছে। ফলে রেলওয়ে হারাচ্ছে বিপুল পরিমান রাজস্ব।

উল্লেখিত দুটি ট্রেনকে ভৈরবে যাত্রা বিরতি দিলে বিপুল পরিমান যাত্রী ঢাকা সহ ভিবিন্ন স্থানে যাতায়াতে যেমন সুবিধা পাবে তেমনি রেলওয়ের রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে। ভৈরব রেলওয়ে জংশনে ডাবল লাইন চালু হওয়ার পর মানুষের ধারণা ছিল সল্প সময়ে ঢাকা যেয়ে প্রয়েজনীয় কাজকর্ম সেরে সন্ধ্যার পূর্বে বাড়ি ফিরবে। কিন্তু সকাল বেলা একটি মাত্র ট্রেন থাকায় তাদের আশা গুড়েবালিতে পরিনত হয়েছে। রেলওয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরেজমিনে পরিদর্শনসহ গোপন তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি সূরাহা হলে রেল ভ্রমনে যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি রেলওয়ের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে। অপরদিকে ট্রেনে ভ্রমনেচ্ছুক যাত্রীদের দূর্ভোগও কমে আসবে।

print